ঢাকা ০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

গাইবান্ধায় হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া নিয়ে চাচাত ভাই-বোনকে হত্যা করার মামলায় তিন সহোদরের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলা দায়েরের ৪ বছর পর বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাস পাওয়া আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্বঝিনিয়া গ্রামের হযরত আলী (৩৯), হাফিজার রহমান (৩৬) ও আজিজল হোসেন (৩১)। তারা সকলেই মামলার প্রধান আসামি মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী জরিনা বেগম, হযরত আলীর স্ত্রী গোলেনুর বেগম ও হাফিজারের স্ত্রী মোর্শেদা আকতার। এ ছাড়া মামলা চলাকালে প্রধান আসামি আবুল হোসেনের মৃত্যু হয়।

গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, পূর্বঝিনিয়া গ্রামের মফিজল হকের সঙ্গে তার চাচাত ভাইদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। মামলায় মফিজল রায় পেয়ে জমি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বিরোধপূর্ণ জমিতে লোহার তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন প্রতিপক্ষ আবুল হোসেনরা।

২০১৬ সালের ১২ নভেম্বর ঘটনার দিন ওই জমিতে যান মফিজল হকের ছেলে, ছেলের বউ ও ভাতিজাসহ পরিবারের কয়েকজন। তখন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মফিজলের ছেলে তসলিম, ভাতিজি মর্জিনা, ছেলের বউ জমিলা বেগম ও ভাতিজা আলমগীরসহ ছয়জন। হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তসলিম ও ভাতিজি মর্জিনা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় মফিজল হক বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এদিকে, মামলার রায়ে বাদীর পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামির পরিবার-স্বজন ও তাদের আইনজীবীরা। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুয়ারা মো. সিদ্দিকুর ইসলাম বলেন, ‘মামলার এজাহার ও সাক্ষ্য-প্রমাণে আদালতের সার্বিক পর্যালোচনায় রায় ঘোষণা করা হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে অবশ্যই আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।’

দ্রুতই এ নিয়ে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

গাইবান্ধায় হত্যা মামলায় তিন ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ

আপডেট সময় ০৭:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে জমিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া নিয়ে চাচাত ভাই-বোনকে হত্যা করার মামলায় তিন সহোদরের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর তিন আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলা দায়েরের ৪ বছর পর বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাস পাওয়া আসামিরা উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্বঝিনিয়া গ্রামের হযরত আলী (৩৯), হাফিজার রহমান (৩৬) ও আজিজল হোসেন (৩১)। তারা সকলেই মামলার প্রধান আসামি মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন মৃত আবুল হোসেনের স্ত্রী জরিনা বেগম, হযরত আলীর স্ত্রী গোলেনুর বেগম ও হাফিজারের স্ত্রী মোর্শেদা আকতার। এ ছাড়া মামলা চলাকালে প্রধান আসামি আবুল হোসেনের মৃত্যু হয়।

গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, পূর্বঝিনিয়া গ্রামের মফিজল হকের সঙ্গে তার চাচাত ভাইদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। মামলায় মফিজল রায় পেয়ে জমি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বিরোধপূর্ণ জমিতে লোহার তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন প্রতিপক্ষ আবুল হোসেনরা।

২০১৬ সালের ১২ নভেম্বর ঘটনার দিন ওই জমিতে যান মফিজল হকের ছেলে, ছেলের বউ ও ভাতিজাসহ পরিবারের কয়েকজন। তখন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মফিজলের ছেলে তসলিম, ভাতিজি মর্জিনা, ছেলের বউ জমিলা বেগম ও ভাতিজা আলমগীরসহ ছয়জন। হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তসলিম ও ভাতিজি মর্জিনা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় মফিজল হক বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এদিকে, মামলার রায়ে বাদীর পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামির পরিবার-স্বজন ও তাদের আইনজীবীরা। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুয়ারা মো. সিদ্দিকুর ইসলাম বলেন, ‘মামলার এজাহার ও সাক্ষ্য-প্রমাণে আদালতের সার্বিক পর্যালোচনায় রায় ঘোষণা করা হয়নি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলে অবশ্যই আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।’

দ্রুতই এ নিয়ে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।