ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পতিতালয়ের শিশুরা যাবে স্কুলে, থাকবে আবাসিক হোস্টেলে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

খুলনার দাকোপের বানিশান্তা পতিতালয়ে জন্ম নেওয়া মেয়ে শিশুরা বংশ পরম্পরায় পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হতো। আর ছেলে শিশুরা দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়তো। তবে এবার অসহায় এসব শিশুদের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন।

পতিতাপল্লীতে জন্ম নেওয়া শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ও মায়েদের থেকে আলাদা রাখতে আবাসিক হোস্টেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে মায়েরা শিশুদের সাথে দেখা করতে পারবেন। কিন্তু এসব শিশুরা কখনোই পতিতাপল্লীতে যেতে পারবে না। পতিতালয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের জীবনব্যবস্থা পরিবর্তন ও তাদেরকে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

রবিবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যৌনপল্লীর শিশুদেরকে আবাসিক শিক্ষা ও পনুর্বাসনের উদ্দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ ও হোস্টেল নির্মাণ’ কাজের উদ্বোধন করা হয়। এতে জুম অ্যাপের মাধ্যমে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, এমপি।
জেলা প্রশাসক বলেন, এরই মধ্যে ৬৪টি শিশুকে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি ও আবাসন ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে খুশি তাদের বাবা-মায়েরাও। তারা তাদের সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে এ পদক্ষেপ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

জানা যায়, প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া ৬৪ জন শিশুর জন্য বানিশান্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সেই সাথে বিদ্যালয়ের পাশে আবাসনের জন্য প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাইস্কুলে পড়া আরো ৪৩ জন শিশুর জন্য আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। আবাসিক হোস্টেলের সুস্থ পরিবেশে এসব শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এসব শিশুরা শিক্ষিত হলে তারা আর কখনোই মায়ের পেশায় ফিরে যাবে না বলে তিনি মনে করেন।

জুম অ্যাপে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস ও সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, বানিশান্তা পতিতালয়ের শিশুদের জন্য শিক্ষা লাভের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তুলতে হোস্টেল নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। যা সারাদেশের জন্য অনুকরণীয় ও অনন্যসাধারণ উদ্যোগ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পতিতালয়ের শিশুরা যাবে স্কুলে, থাকবে আবাসিক হোস্টেলে

আপডেট সময় ০৩:১৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

খুলনার দাকোপের বানিশান্তা পতিতালয়ে জন্ম নেওয়া মেয়ে শিশুরা বংশ পরম্পরায় পতিতাবৃত্তিতে লিপ্ত হতো। আর ছেলে শিশুরা দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়তো। তবে এবার অসহায় এসব শিশুদের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন।

পতিতাপল্লীতে জন্ম নেওয়া শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ও মায়েদের থেকে আলাদা রাখতে আবাসিক হোস্টেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঝেমধ্যে মায়েরা শিশুদের সাথে দেখা করতে পারবেন। কিন্তু এসব শিশুরা কখনোই পতিতাপল্লীতে যেতে পারবে না। পতিতালয়ের পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের জীবনব্যবস্থা পরিবর্তন ও তাদেরকে সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

রবিবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসনকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘যৌনপল্লীর শিশুদেরকে আবাসিক শিক্ষা ও পনুর্বাসনের উদ্দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্প্রসারণ ও হোস্টেল নির্মাণ’ কাজের উদ্বোধন করা হয়। এতে জুম অ্যাপের মাধ্যমে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, এমপি।
জেলা প্রশাসক বলেন, এরই মধ্যে ৬৪টি শিশুকে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি ও আবাসন ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে খুশি তাদের বাবা-মায়েরাও। তারা তাদের সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে এ পদক্ষেপ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

জানা যায়, প্রাথমিকে ভর্তি হওয়া ৬৪ জন শিশুর জন্য বানিশান্তা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সেই সাথে বিদ্যালয়ের পাশে আবাসনের জন্য প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাইস্কুলে পড়া আরো ৪৩ জন শিশুর জন্য আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। আবাসিক হোস্টেলের সুস্থ পরিবেশে এসব শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এসব শিশুরা শিক্ষিত হলে তারা আর কখনোই মায়ের পেশায় ফিরে যাবে না বলে তিনি মনে করেন।

জুম অ্যাপে অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস ও সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, বানিশান্তা পতিতালয়ের শিশুদের জন্য শিক্ষা লাভের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তুলতে হোস্টেল নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। যা সারাদেশের জন্য অনুকরণীয় ও অনন্যসাধারণ উদ্যোগ।