ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

তালাকের পর সন্তান কার কাছে থাকবে

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

সম্প্রতি বেড়েছে বিচ্ছেদের ঘটনা। স্বামী-স্ত্রী দাম্পত্য জীবন যখন এক ছাদের নিচে একবারেই অসম্ভব হয়ে উঠে তখন আসে বিচ্ছেদের কথা। নারী-পুরুষের জীবনকে সুখকর করতে যেমন বিবাহের ব্যবস্থা রয়েছে তেমনই অসুখী দাম্পত্য জীবন থেকে রেহাই দিতে রয়েছে বিচ্ছেদ।

তবে বিচ্ছেদের পরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তান।কারণ তখন সন্তান কার কাছে থাকতে এই নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে শুরু হয় দণ্ড। এই দণ্ড একসময় ভয়াবহ অবস্থায় পরিণত হয়।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সন্তানরা থাকবে কার কাছে, কে বহন করবে তাদের ভরণপোষণ, তা অনেকেই জানেন না।এ বিষয়ে আইন স্পষ্ট করে দিয়েছে।

আসুন জেনে নেই তালাকের পর সন্তান কার কাছে থাকবে এ নিয়ে আইনের বিধানগুলো জেনে নেই।

মুসলিম আইন অনুযায়ী, বাবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আইনগত অভিভাবক আর মা হচ্ছেন সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক। সন্তানের মা যদি বাবার কাছ থেকে আলাদা থাকেন কিংবা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, তাহলে মা তার সন্তানের তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা হারাবেন না। ছেলের ক্ষেত্রে সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়েসন্তানের বয়ঃসন্ধি বয়স পর্যন্ত মা সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে পারবেন।

সন্তান কার কাছে থাকবেন

সন্তানের মা যদি বাবার কাছ থেকে আলাদা থাকেন কিংবা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, তাহলে মা তার সন্তানের তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা হারাবেন না। ছেলের ক্ষেত্রে সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়েসন্তানের বয়ঃসন্ধি বয়স পর্যন্ত মা সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে পারবেন।

আদালত

সন্তানের ভালোর জন্য মা চাইলে বয়সসীমার পরও সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন। তবে এ জন্য ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।

মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে

মা যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তাহলে সন্তানকে নিজের হেফাজতে রাখার ক্ষমতা হারাতে হতে পারে।

আদালতের আশ্রয়

বিচ্ছেদের পর সন্তান কার কাছে থাকবে, এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে পারিবারিক আদালতে আশ্রয় নেয়া যাবে। পারিবারিক আদালত তখন আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে, সন্তানেরা কার কাছে থাকবে। তবে আইনের পাশাপাশি আদালতের ক্ষমতা রয়েছে সন্তানের কল্যাণের দিকটি বিবেচনা করা। আদালত সন্তানের সুস্থ, স্বাভাবিক বিকাশের দিকটি বিবেচনা করে বাবা বা মা যে কারও কাছে রাখার আদেশ দিতে পারেন। অনেক সময় সন্তানের যদি ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা থাকে, তাহলে সন্তানের মতামতকেও আদালত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

সন্তানের ভরণপোষণ

বিচ্ছেদের পর সন্তান যদি মায়ের কাছে থাকে, অনেক বাবা মনে করেন সন্তানের ভরণপোষণ দিতে হবে না। এটা ঠিক নয়। সন্তান বাবা কিংবা মা—যার কাছেই থাকুক না কেন, সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ বাবার।

ভরণপোষণের জন্য মামলা

মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ হলে কিংবা মা-বাবা আলাদা বসবাস করলে বাবাকেই সন্তানদের ভরণপোষণ দিয়ে যেতে হবে। ইচ্ছে করলে মা আলাদা থেকেও বিবাহবিচ্ছেদ হোক বা না হোক, সন্তানের ভরণপোষণ আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবেন।

অ্যাডভোকেট সালমা হাই টুনী,বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

তালাকের পর সন্তান কার কাছে থাকবে

আপডেট সময় ১২:২৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ নভেম্বর ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

সম্প্রতি বেড়েছে বিচ্ছেদের ঘটনা। স্বামী-স্ত্রী দাম্পত্য জীবন যখন এক ছাদের নিচে একবারেই অসম্ভব হয়ে উঠে তখন আসে বিচ্ছেদের কথা। নারী-পুরুষের জীবনকে সুখকর করতে যেমন বিবাহের ব্যবস্থা রয়েছে তেমনই অসুখী দাম্পত্য জীবন থেকে রেহাই দিতে রয়েছে বিচ্ছেদ।

তবে বিচ্ছেদের পরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তান।কারণ তখন সন্তান কার কাছে থাকতে এই নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে শুরু হয় দণ্ড। এই দণ্ড একসময় ভয়াবহ অবস্থায় পরিণত হয়।

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সন্তানরা থাকবে কার কাছে, কে বহন করবে তাদের ভরণপোষণ, তা অনেকেই জানেন না।এ বিষয়ে আইন স্পষ্ট করে দিয়েছে।

আসুন জেনে নেই তালাকের পর সন্তান কার কাছে থাকবে এ নিয়ে আইনের বিধানগুলো জেনে নেই।

মুসলিম আইন অনুযায়ী, বাবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আইনগত অভিভাবক আর মা হচ্ছেন সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক। সন্তানের মা যদি বাবার কাছ থেকে আলাদা থাকেন কিংবা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, তাহলে মা তার সন্তানের তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা হারাবেন না। ছেলের ক্ষেত্রে সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়েসন্তানের বয়ঃসন্ধি বয়স পর্যন্ত মা সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে পারবেন।

সন্তান কার কাছে থাকবেন

সন্তানের মা যদি বাবার কাছ থেকে আলাদা থাকেন কিংবা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, তাহলে মা তার সন্তানের তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা হারাবেন না। ছেলের ক্ষেত্রে সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়েসন্তানের বয়ঃসন্ধি বয়স পর্যন্ত মা সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে পারবেন।

আদালত

সন্তানের ভালোর জন্য মা চাইলে বয়সসীমার পরও সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন। তবে এ জন্য ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।

মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে

মা যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তাহলে সন্তানকে নিজের হেফাজতে রাখার ক্ষমতা হারাতে হতে পারে।

আদালতের আশ্রয়

বিচ্ছেদের পর সন্তান কার কাছে থাকবে, এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে পারিবারিক আদালতে আশ্রয় নেয়া যাবে। পারিবারিক আদালত তখন আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে, সন্তানেরা কার কাছে থাকবে। তবে আইনের পাশাপাশি আদালতের ক্ষমতা রয়েছে সন্তানের কল্যাণের দিকটি বিবেচনা করা। আদালত সন্তানের সুস্থ, স্বাভাবিক বিকাশের দিকটি বিবেচনা করে বাবা বা মা যে কারও কাছে রাখার আদেশ দিতে পারেন। অনেক সময় সন্তানের যদি ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা থাকে, তাহলে সন্তানের মতামতকেও আদালত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

সন্তানের ভরণপোষণ

বিচ্ছেদের পর সন্তান যদি মায়ের কাছে থাকে, অনেক বাবা মনে করেন সন্তানের ভরণপোষণ দিতে হবে না। এটা ঠিক নয়। সন্তান বাবা কিংবা মা—যার কাছেই থাকুক না কেন, সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ বাবার।

ভরণপোষণের জন্য মামলা

মা-বাবার মধ্যে বিচ্ছেদ হলে কিংবা মা-বাবা আলাদা বসবাস করলে বাবাকেই সন্তানদের ভরণপোষণ দিয়ে যেতে হবে। ইচ্ছে করলে মা আলাদা থেকেও বিবাহবিচ্ছেদ হোক বা না হোক, সন্তানের ভরণপোষণ আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবেন।

অ্যাডভোকেট সালমা হাই টুনী,বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট