ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

মাদক কেনাবেচায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইয়াবা (অ্যামফিটামিন), কোকেন, হেরোইন পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর, সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৮ পাস করা হয়েছে। অবশ্য বহনের পরিমাণ অনুযায়ী সাজা কমবেশি হতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

শনিবার বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। যদিও বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য বিলটিতে সংশোধনী এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেন।

বিরোধী দলের সদস্যদের প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এখানে শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা পথ হারিয়ে ফেলব। সে জন্য আমরা আইনে অর্থলগ্নি, পৃষ্ঠপোষকতা, মদদদাতা সবাইকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসছি। মাদক নির্মূল করতে না পারলে আমরা রূপকল্প- ২০৪১ বা ২০২১ যাই বলি, কিছুই অর্জিত হবে না। এরপর বিলটি পাসের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তা সর্বাধিক সমর্থন নিয়ে পাস করা হয়। এর আগে ২২ অক্টোবর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিলটি গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পায়।

বিলে, মাদক চাষাবাদ, উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের নিচে হলে কমপক্ষে দু’বছর ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। ইয়াবা বহনের ক্ষেত্রে ২০০ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। তবে ১০০ গ্রাম বা মিলিলিটার হলে সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

কেউ যদি সজ্ঞানে কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য তার মালিকানাধীন অথবা দখলি কোনো বাড়িঘর, জায়গা-জমি, যানবাহন, যন্ত্রপাতি অথবা সাজ-সরঞ্জম কিংবা অর্থ-সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেন তাহলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। এছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত না- এমন কোনো ব্যক্তির কাছে অথবা তার জায়গায় যদি মাদকদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য কোনো যন্ত্রপাতি, ওয়াশ অথবা অন্য উপকরণ পাওয়া যায় সেটাও অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর শাস্তি ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড।

বিলে আরও বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করতে পারবে না এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে সিভিল সার্জন অথবা সরকারি মেডিকেল কলেজের কোনো সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো মুসলমানকে অ্যালকোহল পান করার অনুমোদন দেয়া যাবে না।
প্রস্তাবিত আইনানুযায়ী, মাদকাসক্ত ব্যক্তির ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে কমপক্ষে ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ঈশ্বরদীতে ট্রাকের ধাক্কায় মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু, আহত ২

মাদক কেনাবেচায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ১০:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইয়াবা (অ্যামফিটামিন), কোকেন, হেরোইন পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর, সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৮ পাস করা হয়েছে। অবশ্য বহনের পরিমাণ অনুযায়ী সাজা কমবেশি হতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

শনিবার বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। যদিও বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য বিলটিতে সংশোধনী এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেন।

বিরোধী দলের সদস্যদের প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এখানে শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা পথ হারিয়ে ফেলব। সে জন্য আমরা আইনে অর্থলগ্নি, পৃষ্ঠপোষকতা, মদদদাতা সবাইকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসছি। মাদক নির্মূল করতে না পারলে আমরা রূপকল্প- ২০৪১ বা ২০২১ যাই বলি, কিছুই অর্জিত হবে না। এরপর বিলটি পাসের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তা সর্বাধিক সমর্থন নিয়ে পাস করা হয়। এর আগে ২২ অক্টোবর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিলটি গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পায়।

বিলে, মাদক চাষাবাদ, উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের নিচে হলে কমপক্ষে দু’বছর ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। ইয়াবা বহনের ক্ষেত্রে ২০০ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড। তবে ১০০ গ্রাম বা মিলিলিটার হলে সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

কেউ যদি সজ্ঞানে কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য তার মালিকানাধীন অথবা দখলি কোনো বাড়িঘর, জায়গা-জমি, যানবাহন, যন্ত্রপাতি অথবা সাজ-সরঞ্জম কিংবা অর্থ-সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেন তাহলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। এছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত না- এমন কোনো ব্যক্তির কাছে অথবা তার জায়গায় যদি মাদকদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য কোনো যন্ত্রপাতি, ওয়াশ অথবা অন্য উপকরণ পাওয়া যায় সেটাও অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর শাস্তি ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড।

বিলে আরও বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করতে পারবে না এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে সিভিল সার্জন অথবা সরকারি মেডিকেল কলেজের কোনো সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো মুসলমানকে অ্যালকোহল পান করার অনুমোদন দেয়া যাবে না।
প্রস্তাবিত আইনানুযায়ী, মাদকাসক্ত ব্যক্তির ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে কমপক্ষে ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হবে।