ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির, সিইসির পদত্যাগ দাবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, খুলনায় যে পরিমাণ ভোট দেখানো হয়েছে, প্রকৃত ভোট পড়েছে তার অর্ধেকের কম।

মঙ্গলবার রাতে খুলনায় ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রায় ৬৮ হাজার ভোটে হেরেছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের কাছে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী।

একই দিন খুলনায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মঞ্জু সংবাদ সম্মেলন করে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টিতে নতুন করে ভোট নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘গতকালের ভোট নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শন। আমি দলের পক্ষ থেকে গতকালের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করছি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি।’

‘সন্ত্রাসীদের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার মুখে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অধিকাংশকেই কেন্দ্র থেকে ভোট দিতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই, সামর্থ নেই আর যোগ্যতাও নেই।’

ভোটার উপস্থিতি ৬৫ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে রিজভীর মতে, এই উপস্থিতি ছিল ৩০ শতাংশেরও কম। বাকিটা জালভোট বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপি নেতার দাবি, এই নির্বাচনে নজিরবিহীন ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে। সেখানে ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকরা নিগৃহীত হয়েছেন। দিনভর সেখানে ছিল নৌকার সমর্থকদের সীমাহীন আধিপত্য ও বেপরোয়া চলাফেরা।

আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে জালভোট দেয় বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন “অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসাররা আওয়ামী ঝটিকা বাহিনীকে একচেটিয়া ‘ভোট কাস্টিং’য়ে সহায়তা করে। তারা কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যালট পেপারের বান্ডিলে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে।”

কোথাও কোথাও অবশ্য ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীরা’ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের বের করে দেয়া, আবার কোথাও কোথাও মারধর করে বলে দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচন নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ঢালাও জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানিয়েছেন, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাননি। আর যেসব কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে, তার প্রতিটিতেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরাও জানিয়েছেন, কিছু কেন্দ্রে গোলযোগ হলেও সামগ্রিকভাবে ভোট গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের মূল্যায়নে ‘খুলনায় চমৎকার ভোট হয়েছে।’

ইসি সচিবের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এটা ‘শেখ হাসিনা মার্কা’ নির্বাচন হয়েছে। শ্রেণী পড়ুয়া ছেলের বাবার সাথে ভোট দিতে যাওয়ার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘কেন্দ্রে যাবার আগেই ভোটারদের ভোট দেয়া হয়ে যায়, পুলিশের সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির উৎসব চলে, ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ব্যালট পেপার আগেই শেষ হয়ে যায়, কেন্দ্র দখল করে আধা ঘন্টায় ১২০০ ভোট দেয়া হয়, তারা বলেছে টার্গেট ১২০০-আধাঘন্টা তো লাগবেই, ভোট কেন্দ্রের বাইরে মুখোশধারীরা বাছাই করে করে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে ভোট নেয়া হয়, কেন্দ্র দখল করে লাইন ধরে জালভোটের উৎসব চলে সেরকম নির্বাচনকে তো চমৎকার বলবেনই নির্বাচন কমিশন।’

বিএনপি চেয়ারপাসনের উপেদষ্টা আব্দুস সালাম,ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন,তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির, সিইসির পদত্যাগ দাবি

আপডেট সময় ০২:৪৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, খুলনায় যে পরিমাণ ভোট দেখানো হয়েছে, প্রকৃত ভোট পড়েছে তার অর্ধেকের কম।

মঙ্গলবার রাতে খুলনায় ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রায় ৬৮ হাজার ভোটে হেরেছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের কাছে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী।

একই দিন খুলনায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মঞ্জু সংবাদ সম্মেলন করে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টিতে নতুন করে ভোট নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘গতকালের ভোট নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শন। আমি দলের পক্ষ থেকে গতকালের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করছি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি।’

‘সন্ত্রাসীদের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার মুখে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অধিকাংশকেই কেন্দ্র থেকে ভোট দিতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই, সামর্থ নেই আর যোগ্যতাও নেই।’

ভোটার উপস্থিতি ৬৫ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে রিজভীর মতে, এই উপস্থিতি ছিল ৩০ শতাংশেরও কম। বাকিটা জালভোট বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপি নেতার দাবি, এই নির্বাচনে নজিরবিহীন ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে। সেখানে ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকরা নিগৃহীত হয়েছেন। দিনভর সেখানে ছিল নৌকার সমর্থকদের সীমাহীন আধিপত্য ও বেপরোয়া চলাফেরা।

আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে জালভোট দেয় বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন “অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসাররা আওয়ামী ঝটিকা বাহিনীকে একচেটিয়া ‘ভোট কাস্টিং’য়ে সহায়তা করে। তারা কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যালট পেপারের বান্ডিলে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে।”

কোথাও কোথাও অবশ্য ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীরা’ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের বের করে দেয়া, আবার কোথাও কোথাও মারধর করে বলে দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচন নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ঢালাও জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানিয়েছেন, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাননি। আর যেসব কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে, তার প্রতিটিতেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরাও জানিয়েছেন, কিছু কেন্দ্রে গোলযোগ হলেও সামগ্রিকভাবে ভোট গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের মূল্যায়নে ‘খুলনায় চমৎকার ভোট হয়েছে।’

ইসি সচিবের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এটা ‘শেখ হাসিনা মার্কা’ নির্বাচন হয়েছে। শ্রেণী পড়ুয়া ছেলের বাবার সাথে ভোট দিতে যাওয়ার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘কেন্দ্রে যাবার আগেই ভোটারদের ভোট দেয়া হয়ে যায়, পুলিশের সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির উৎসব চলে, ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ব্যালট পেপার আগেই শেষ হয়ে যায়, কেন্দ্র দখল করে আধা ঘন্টায় ১২০০ ভোট দেয়া হয়, তারা বলেছে টার্গেট ১২০০-আধাঘন্টা তো লাগবেই, ভোট কেন্দ্রের বাইরে মুখোশধারীরা বাছাই করে করে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে ভোট নেয়া হয়, কেন্দ্র দখল করে লাইন ধরে জালভোটের উৎসব চলে সেরকম নির্বাচনকে তো চমৎকার বলবেনই নির্বাচন কমিশন।’

বিএনপি চেয়ারপাসনের উপেদষ্টা আব্দুস সালাম,ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন,তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।