ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ হাসনাত আব্দুল্লাহর আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা কৌশলের অজুহাতে বিএনপি কোনো গোপন বেশ ধারণ করেনি: তারেক রহমান

ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির, সিইসির পদত্যাগ দাবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, খুলনায় যে পরিমাণ ভোট দেখানো হয়েছে, প্রকৃত ভোট পড়েছে তার অর্ধেকের কম।

মঙ্গলবার রাতে খুলনায় ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রায় ৬৮ হাজার ভোটে হেরেছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের কাছে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী।

একই দিন খুলনায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মঞ্জু সংবাদ সম্মেলন করে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টিতে নতুন করে ভোট নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘গতকালের ভোট নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শন। আমি দলের পক্ষ থেকে গতকালের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করছি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি।’

‘সন্ত্রাসীদের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার মুখে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অধিকাংশকেই কেন্দ্র থেকে ভোট দিতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই, সামর্থ নেই আর যোগ্যতাও নেই।’

ভোটার উপস্থিতি ৬৫ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে রিজভীর মতে, এই উপস্থিতি ছিল ৩০ শতাংশেরও কম। বাকিটা জালভোট বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপি নেতার দাবি, এই নির্বাচনে নজিরবিহীন ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে। সেখানে ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকরা নিগৃহীত হয়েছেন। দিনভর সেখানে ছিল নৌকার সমর্থকদের সীমাহীন আধিপত্য ও বেপরোয়া চলাফেরা।

আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে জালভোট দেয় বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন “অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসাররা আওয়ামী ঝটিকা বাহিনীকে একচেটিয়া ‘ভোট কাস্টিং’য়ে সহায়তা করে। তারা কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যালট পেপারের বান্ডিলে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে।”

কোথাও কোথাও অবশ্য ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীরা’ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের বের করে দেয়া, আবার কোথাও কোথাও মারধর করে বলে দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচন নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ঢালাও জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানিয়েছেন, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাননি। আর যেসব কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে, তার প্রতিটিতেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরাও জানিয়েছেন, কিছু কেন্দ্রে গোলযোগ হলেও সামগ্রিকভাবে ভোট গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের মূল্যায়নে ‘খুলনায় চমৎকার ভোট হয়েছে।’

ইসি সচিবের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এটা ‘শেখ হাসিনা মার্কা’ নির্বাচন হয়েছে। শ্রেণী পড়ুয়া ছেলের বাবার সাথে ভোট দিতে যাওয়ার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘কেন্দ্রে যাবার আগেই ভোটারদের ভোট দেয়া হয়ে যায়, পুলিশের সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির উৎসব চলে, ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ব্যালট পেপার আগেই শেষ হয়ে যায়, কেন্দ্র দখল করে আধা ঘন্টায় ১২০০ ভোট দেয়া হয়, তারা বলেছে টার্গেট ১২০০-আধাঘন্টা তো লাগবেই, ভোট কেন্দ্রের বাইরে মুখোশধারীরা বাছাই করে করে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে ভোট নেয়া হয়, কেন্দ্র দখল করে লাইন ধরে জালভোটের উৎসব চলে সেরকম নির্বাচনকে তো চমৎকার বলবেনই নির্বাচন কমিশন।’

বিএনপি চেয়ারপাসনের উপেদষ্টা আব্দুস সালাম,ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন,তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমানের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী

ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির, সিইসির পদত্যাগ দাবি

আপডেট সময় ০২:৪৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, খুলনায় যে পরিমাণ ভোট দেখানো হয়েছে, প্রকৃত ভোট পড়েছে তার অর্ধেকের কম।

মঙ্গলবার রাতে খুলনায় ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রায় ৬৮ হাজার ভোটে হেরেছেন আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেকের কাছে। আর এর প্রতিক্রিয়ায় বুধবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী।

একই দিন খুলনায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মঞ্জু সংবাদ সম্মেলন করে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টিতে নতুন করে ভোট নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘গতকালের ভোট নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শন। আমি দলের পক্ষ থেকে গতকালের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করছি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি।’

‘সন্ত্রাসীদের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার মুখে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অধিকাংশকেই কেন্দ্র থেকে ভোট দিতে না পেরে ফিরে যেতে হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নেই, সামর্থ নেই আর যোগ্যতাও নেই।’

ভোটার উপস্থিতি ৬৫ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে রিজভীর মতে, এই উপস্থিতি ছিল ৩০ শতাংশেরও কম। বাকিটা জালভোট বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপি নেতার দাবি, এই নির্বাচনে নজিরবিহীন ‘ভোট ডাকাতি’ হয়েছে। সেখানে ভোট দিতে গিয়ে ধানের শীষের ভোটার ও সমর্থকরা নিগৃহীত হয়েছেন। দিনভর সেখানে ছিল নৌকার সমর্থকদের সীমাহীন আধিপত্য ও বেপরোয়া চলাফেরা।

আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে জালভোট দেয় বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। বলেন “অনেক কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসাররা আওয়ামী ঝটিকা বাহিনীকে একচেটিয়া ‘ভোট কাস্টিং’য়ে সহায়তা করে। তারা কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যালট পেপারের বান্ডিলে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে।”

কোথাও কোথাও অবশ্য ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীরা’ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের বের করে দেয়া, আবার কোথাও কোথাও মারধর করে বলে দাবি করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব দেখেও না দেখার ভান করে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচন নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ঢালাও জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী জানিয়েছেন, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য পাননি। আর যেসব কেন্দ্রে গোলযোগ হয়েছে, তার প্রতিটিতেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছে।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরাও জানিয়েছেন, কিছু কেন্দ্রে গোলযোগ হলেও সামগ্রিকভাবে ভোট গ্রহণযোগ্য হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের মূল্যায়নে ‘খুলনায় চমৎকার ভোট হয়েছে।’

ইসি সচিবের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এটা ‘শেখ হাসিনা মার্কা’ নির্বাচন হয়েছে। শ্রেণী পড়ুয়া ছেলের বাবার সাথে ভোট দিতে যাওয়ার কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘কেন্দ্রে যাবার আগেই ভোটারদের ভোট দেয়া হয়ে যায়, পুলিশের সহায়তায় ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতির উৎসব চলে, ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ব্যালট পেপার আগেই শেষ হয়ে যায়, কেন্দ্র দখল করে আধা ঘন্টায় ১২০০ ভোট দেয়া হয়, তারা বলেছে টার্গেট ১২০০-আধাঘন্টা তো লাগবেই, ভোট কেন্দ্রের বাইরে মুখোশধারীরা বাছাই করে করে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে ভোট নেয়া হয়, কেন্দ্র দখল করে লাইন ধরে জালভোটের উৎসব চলে সেরকম নির্বাচনকে তো চমৎকার বলবেনই নির্বাচন কমিশন।’

বিএনপি চেয়ারপাসনের উপেদষ্টা আব্দুস সালাম,ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন,তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।