ঢাকা ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

জমা নয়, তারেক রহমান পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তারেক রহমানের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। লন্ডনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় তিনি শুধু বলেছেন, তারেক রহমান নিজেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে দিয়েছেন।

ব্যাস বিএনপির নেতৃবৃন্দের গায়ে ফোস্কা পড়লো। তারা ওনার বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। এমনকি যেই সব পত্রিকা এই সংবাদ প্রকাশ করেছে এর মধ্যে শুধু কালেরকণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিরুদ্ধেও উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। অন্য পত্রিকার বিরুদ্ধে কিন্তু উকিল নোটিশ দেননি। ওনারা উকিল নোটিশের মধ্যেই আছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন কি না তা পরিষ্কার কিছু বলছেন না।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কিছু না বললেও তাদের অনলাইন এক্টিভিস্টরা বলছেন তারেক রহমান নাকি পাসপোর্ট নবায়ন করার জন্য দিয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথ্য প্রমাণ দিয়ে বললেন, ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান, স্ত্রী জোবাইদা ও মেয়ে জাইমার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লন্ডনের বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিতে ফেরত দিয়েছেন।

প্রথমত প্রশ্ন হলো, পাসপোর্ট নবায়ন করতে কেউ কখনো অন্য দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠায় না। খুব সহজে নিজেরাই করতে পারে। ওনারা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে এইটাই বুঝতে চেয়েছেন যে, তারা আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। সুতরাং ব্রিটিশ সরকার তাদেরকে ওই দেশের পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারেন।

যারাই রিফিউজি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় নাগরিকত্ব চান, প্রথমেই তাদেরকে নিজ দেশের পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে আবেদন করতে হয়। এই নিয়মটা প্রবাসীরা সবাই জানেন।

তর্কের খাতিরে কেউ হয়তো বলতে পারেন, তারেক রহমান যেহেতু পলাতক আসামি তাই সরাসরি না দিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে স্বাক্ষী রেখেছেন। এই তর্কটি হবে হাস্যকর। বিষয়টি এইরকম হলে তারেক রহমান খুব সহজেই ওই দেশের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন করতে দিতে পারতেন।

বিএনপি নেতৃবৃন্দ বুঝে হোক না বুঝে হোক এমন একজনকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বানিয়েছেন যিনি নিজ দেশের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ধরা খেয়ে এখন আইনি নোটিশ দিয়ে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন।

আসলে এই বিষয়টি নিয়ে এতো জল ঘোলা করার কোনো দরকার নাই। তারেক রহমান তথ্য প্রমাণ দিয়ে বললেই পারেন, তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি এবং বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফেরত দেননি। নবায়ন করার জন্য পাসপোর্ট জমা দিলে অবশ্যই জমা দেয়ার স্লিপ থাকবে। সেই ক্ষেত্রে ওনাকে এটাও প্রমাণ করতে হবে উনি ব্রিটিশ ভিসা ছাড়া (যেহেতু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ওনার কাছে নেই) কীভাবে লন্ডনে প্রকাশ্যে বসবাস করছেন।

ভিসা থাকলেও একটানা সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকা যায়। এরপর অবৈধ হয়ে যায়। তাহলে তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর যাবত কীভাবে লন্ডনে রাজকীয়ভাবে বসবাস করছেন? যার কোনো চাকরি বা ব্যবসা নেই তিনি ওখানে বসে জীবনযাপনের এতো টাকা পয়সা কোথায় পাচ্ছেন?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

জমা নয়, তারেক রহমান পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন

আপডেট সময় ১০:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তারেক রহমানের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। লন্ডনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় তিনি শুধু বলেছেন, তারেক রহমান নিজেই বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে দিয়েছেন।

ব্যাস বিএনপির নেতৃবৃন্দের গায়ে ফোস্কা পড়লো। তারা ওনার বিরুদ্ধে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। এমনকি যেই সব পত্রিকা এই সংবাদ প্রকাশ করেছে এর মধ্যে শুধু কালেরকণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিরুদ্ধেও উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। অন্য পত্রিকার বিরুদ্ধে কিন্তু উকিল নোটিশ দেননি। ওনারা উকিল নোটিশের মধ্যেই আছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন কি না তা পরিষ্কার কিছু বলছেন না।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কিছু না বললেও তাদের অনলাইন এক্টিভিস্টরা বলছেন তারেক রহমান নাকি পাসপোর্ট নবায়ন করার জন্য দিয়েছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তথ্য প্রমাণ দিয়ে বললেন, ২০১৪ সালের ২ জুন তারেক রহমান, স্ত্রী জোবাইদা ও মেয়ে জাইমার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লন্ডনের বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিতে ফেরত দিয়েছেন।

প্রথমত প্রশ্ন হলো, পাসপোর্ট নবায়ন করতে কেউ কখনো অন্য দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠায় না। খুব সহজে নিজেরাই করতে পারে। ওনারা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে এইটাই বুঝতে চেয়েছেন যে, তারা আর বাংলাদেশের নাগরিক নন। সুতরাং ব্রিটিশ সরকার তাদেরকে ওই দেশের পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারেন।

যারাই রিফিউজি হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় নাগরিকত্ব চান, প্রথমেই তাদেরকে নিজ দেশের পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে আবেদন করতে হয়। এই নিয়মটা প্রবাসীরা সবাই জানেন।

তর্কের খাতিরে কেউ হয়তো বলতে পারেন, তারেক রহমান যেহেতু পলাতক আসামি তাই সরাসরি না দিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে স্বাক্ষী রেখেছেন। এই তর্কটি হবে হাস্যকর। বিষয়টি এইরকম হলে তারেক রহমান খুব সহজেই ওই দেশের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন করতে দিতে পারতেন।

বিএনপি নেতৃবৃন্দ বুঝে হোক না বুঝে হোক এমন একজনকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বানিয়েছেন যিনি নিজ দেশের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ধরা খেয়ে এখন আইনি নোটিশ দিয়ে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন।

আসলে এই বিষয়টি নিয়ে এতো জল ঘোলা করার কোনো দরকার নাই। তারেক রহমান তথ্য প্রমাণ দিয়ে বললেই পারেন, তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি এবং বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফেরত দেননি। নবায়ন করার জন্য পাসপোর্ট জমা দিলে অবশ্যই জমা দেয়ার স্লিপ থাকবে। সেই ক্ষেত্রে ওনাকে এটাও প্রমাণ করতে হবে উনি ব্রিটিশ ভিসা ছাড়া (যেহেতু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ওনার কাছে নেই) কীভাবে লন্ডনে প্রকাশ্যে বসবাস করছেন।

ভিসা থাকলেও একটানা সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকা যায়। এরপর অবৈধ হয়ে যায়। তাহলে তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর যাবত কীভাবে লন্ডনে রাজকীয়ভাবে বসবাস করছেন? যার কোনো চাকরি বা ব্যবসা নেই তিনি ওখানে বসে জীবনযাপনের এতো টাকা পয়সা কোথায় পাচ্ছেন?