ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

ঈশ্বরদীতে বালুমহল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালুমহলের দখল ও আধিপত্য নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট এই দ্বন্দ্বে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। এলাকাটিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা। পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক হিসেবে পরিচিত হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডলের অনুসারীরা ঈশ্বরদী-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়মবাড়িয়া বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত জুয়েল ও ল্যাংড়া বিপুর বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এর আগে গত দুই দিনে জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরাও মাঠে নেমেছিলেন। তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এনে পাল্টা মানববন্ধন করেছেন। তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন যুবদল নেতা হেকমত উল্লাহ কনক মন্ডল। তার দাবি, তারা বৈধভাবে বালু ব্যবসায় জড়িত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তাকেসহ তার বাবা হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডল ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের নামে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কনক মন্ডল উল্টো অভিযোগ করেন যে, বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অতীতে জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির মতো ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, বালুমহলকেন্দ্রিক বিরোধে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় তারা আতঙ্কে থাকেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা অংশ নেন।

উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন ও প্রিন্স মাহমুদ দাবি করেছেন, এলাকায় চলমান অস্ত্র ও মাদক কারবারসহ চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয়রা অতিষ্ঠ হয়েই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তহিদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, জয় ইসলাম, আতাউর রহমান, মনোয়ার হোসেন মনির, সাজেদুল হোসেন, আকরাম হোসেন, জাকারিয়া সেন্টু এবং মহিলা দলের নেত্রী আনজু খাতুন ও রনিফা বেগম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে, যা নিয়ে মাঝেমধ্যেই সংঘাত ও গোলাগুলি ঘটছে। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই দিন আগেই অভিযান চালিয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছিল। তবে প্রশাসন সরে আসার পরপরই আবার তা শুরু করা হয়। তিনি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

আপলোডকারীর তথ্য

মিরপুরে জয়ের লক্ষ্যে ২০০ রানের লিড চায় বাংলাদেশ

ঈশ্বরদীতে বালুমহল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:০৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালুমহলের দখল ও আধিপত্য নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৃষ্ট এই দ্বন্দ্বে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে। এলাকাটিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছেন স্থানীয়রা। পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক হিসেবে পরিচিত হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডলের অনুসারীরা ঈশ্বরদী-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়মবাড়িয়া বাজার এলাকায় মানববন্ধন করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত জুয়েল ও ল্যাংড়া বিপুর বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এর আগে গত দুই দিনে জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরাও মাঠে নেমেছিলেন। তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এনে পাল্টা মানববন্ধন করেছেন। তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন যুবদল নেতা হেকমত উল্লাহ কনক মন্ডল। তার দাবি, তারা বৈধভাবে বালু ব্যবসায় জড়িত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তাকেসহ তার বাবা হাসিবুর রহমান হাক্কে মন্ডল ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের নামে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কনক মন্ডল উল্টো অভিযোগ করেন যে, বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অতীতে জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির মতো ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, বালুমহলকেন্দ্রিক বিরোধে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় তারা আতঙ্কে থাকেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা অংশ নেন।

উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন ও প্রিন্স মাহমুদ দাবি করেছেন, এলাকায় চলমান অস্ত্র ও মাদক কারবারসহ চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয়রা অতিষ্ঠ হয়েই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তহিদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, জয় ইসলাম, আতাউর রহমান, মনোয়ার হোসেন মনির, সাজেদুল হোসেন, আকরাম হোসেন, জাকারিয়া সেন্টু এবং মহিলা দলের নেত্রী আনজু খাতুন ও রনিফা বেগম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে, যা নিয়ে মাঝেমধ্যেই সংঘাত ও গোলাগুলি ঘটছে। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই দিন আগেই অভিযান চালিয়ে কয়েকটি পয়েন্টে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছিল। তবে প্রশাসন সরে আসার পরপরই আবার তা শুরু করা হয়। তিনি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।