প্রয়োজনে ক্রসফায়ারের অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে সরকার বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এমন কথা বলা আইজিপির জন্য সমীচীন হয়নি। ক্রসফায়ারের বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে আইজিপির এই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে একটি গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আইজিপি সহজ-সরল মানুষ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের কথা বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত এমন মন্তব্য করে ফেলেছেন, যা মোটেও ঠিক হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের দিকেই সরকারের প্রধান লক্ষ্য রয়েছে। এ পর্যন্ত হেফাজতে মৃত্যু বা ক্রসফায়ারের মতো কোনো অমানবিক ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, একজন পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা শোনাটা বিস্ময়কর। যদি এটি অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুল বা স্লিপ অব টাংও হয়, তবুও তা সরকারকে বিব্রত করার জন্য যথেষ্ট। ১৭ বছর ধরে গুম ও গুপ্তহত্যার মতো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর বর্তমান সরকার একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। সেখানে বাহিনীর প্রধানের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য হতাশাজনক। তিনি আরও বলেন, সস্তা ক্রেডিট পাওয়ার আশায় এমন মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। সৎ ও দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিলে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। যে ১৭ বছর আমরা এই ক্রসফায়ার, গুম, গুপ্তহত্যা, রক্তঝরানো অমানবিক দুঃশাসন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিণতিতে ৫ই আগস্ট পেলাম। সবার প্রত্যাশা একটি মানবিক বাংলাদেশ- সেখানে একটি বাহিনীর প্রধান হয়ে আপনার মুখ দিয়ে এ ধরনের কথা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
এদিকে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, আইজিপির ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্য এবং সাংবাদিকদের নিয়ে করা অশোভন বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর থেকে ফেরার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে একটি বিবৃতি দিয়েছে এবং আইজিপি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তার মন্তব্যের লক্ষ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করা ছিল না। আইজিপি যেহেতু তার পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাই এ বিষয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। এরপর নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে পরিষ্কার করেছেন, কেন ও কী উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেছেন। কারণ, আইজিপি এসব বক্তব্যের কোনোটিই নিজের অবস্থান হিসেবে ধরে রাখেননি, বরং সেখান থেকে সরে এসেছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















