ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিনির্বাপক কর্মীর মৃত্যু

গত বুধবার ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছাকাছি আগুন লেগে যায়। আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিমানবন্দরের ১৯ ও ২০ নম্বর গেটের দায়িত্বে থাকা সুলতান বিন আলি আল মাসতুর আল কাহতানি ও তার সহকর্মীরা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যান। নিজের জীবনের কথা না ভেবেই সুলতান অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ২১ অক্টোবর দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে আগুন ধরে যায়। আগুনের ভয়াবহতা বাড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং যাত্রীদের নিরাপদ রাখাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ সময় নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি।

আগুন নেভানোর কঠিন কাজ সম্পন্ন করার পর অফিসে ফেরার পরপরই সুলতান বুকে তীব্র ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে শুরু করেন। ধোঁয়ার প্রভাবে তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সুলতানের শোকসন্তপ্ত বাবা জানান, কর্মক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তার চেয়ে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সে সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিত। তার এই আত্মত্যাগ বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মীদের সাহসিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল। একই সঙ্গে ধোঁয়ার কারণে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সুলতান ছাড়াও আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এক সৌদি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হামলার ফলে হওয়া অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করেনি। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই এই বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মিদের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও সুলতানের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছিল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল, কিন্তু তাকে জীবন দিতে হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে এই সাহসিকতার ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

হিউ জ্যাকম্যানের অভিনয় জীবনের অদ্ভুত সেই মোড়

দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিনির্বাপক কর্মীর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৮:২০:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

গত বুধবার ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছাকাছি আগুন লেগে যায়। আগুনের শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিমানবন্দরের ১৯ ও ২০ নম্বর গেটের দায়িত্বে থাকা সুলতান বিন আলি আল মাসতুর আল কাহতানি ও তার সহকর্মীরা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যান। নিজের জীবনের কথা না ভেবেই সুলতান অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার ২১ অক্টোবর দাম্মাম বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি যাত্রীবাহী বিমানের কাছে আগুন ধরে যায়। আগুনের ভয়াবহতা বাড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং যাত্রীদের নিরাপদ রাখাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ সময় নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি।

আগুন নেভানোর কঠিন কাজ সম্পন্ন করার পর অফিসে ফেরার পরপরই সুলতান বুকে তীব্র ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে শুরু করেন। ধোঁয়ার প্রভাবে তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সুলতানের শোকসন্তপ্ত বাবা জানান, কর্মক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তার চেয়ে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই সে সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিত। তার এই আত্মত্যাগ বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কর্মীদের সাহসিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল। একই সঙ্গে ধোঁয়ার কারণে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সুলতান ছাড়াও আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এক সৌদি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হামলার ফলে হওয়া অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করেনি। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই এই বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মিদের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও সুলতানের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছিল এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল, কিন্তু তাকে জীবন দিতে হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে এই সাহসিকতার ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।