ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

এআই ব্যবহার করে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ অ্যাপ বানিয়ে ভাইরাল

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন মো. সাব্বির হোসেন। তিনি ‘আনসিন বাংলাদেশ’ নামে একটি অত্যাধুনিক ওয়েব অ্যাপ তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে তাঁরা কোন কোন স্থানে ঘুরেছেন তা মানচিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শন করতে পারছেন। শুধু তাই নয়, নিজের নামসহ এই মানচিত্রটি ডাউনলোড করার সুযোগও রয়েছে এতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই অ্যাপটি ভ্রমণকারীদের জন্য নিখুঁত পরিকল্পনা তৈরি করে দিচ্ছে। গন্তব্য নির্বাচন করলে অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছে সেখানে যাওয়ার উপায়, থাকার জায়গা, খরচ এবং ভ্রমণের সময়সূচি। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার কোন কোনটিতে ঘুরেছেন, এক ক্লিকেই তা দেখা যায় মানচিত্রে। আবার চার-পাঁচটি জেলা নির্বাচন করলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সাজিয়ে দিতে পারে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা—কোথায় আগে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে যাবেন, সম্ভাব্য খরচ কত হবে, এসবও জানা যাবে। যেসব জেলা ঘুরেছেন, সেগুলো মানচিত্রে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করেন। নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভাবনাটিকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন তিনি।

অ্যাপটিতে বাংলাদেশের ২৪০টিরও বেশি দর্শনীয় স্থানের তথ্য ছবিসহ যুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্ব মানচিত্র তৈরির সুবিধা, কুইজ এবং ইন্টারেকটিভ গেমও রয়েছে। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের বাইরেও দেশের অনেক কম পরিচিত অথচ সুন্দর স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখানে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ, গাড়ি ভাড়া, পার্কিং এবং গণশৌচাগারের মতো প্রয়োজনীয় তথ্যাবলিও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের পেছনের গল্পটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাব্বির নিজে ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজন থেকেই এই অ্যাপটির ধারণা আসে। শুরুতে তিনি এআই ব্যবহার করে নিজের ভ্রমণ করা জেলাগুলো নিয়ে একটি সাধারণ মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবার নতুন জেলা ভ্রমণের পর মানচিত্রটি ম্যানুয়ালি আপডেট করতে হতো। তখন তিনি চিন্তা করেন, ভ্রমণকারীরা যদি অ্যাপের মাধ্যমে জেলা নির্বাচন করেন, তবে সেটি আগের তালিকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ম্যাপ তৈরি হবে। এই ভাবনা থেকেই ‘আনসিন বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু হয়।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম ম্যাপ ফিচারটি প্রকাশের পর থেকে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সাব্বিরের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে এই ওয়েব অ্যাপটিতে ২ কোটি ৪০ লাখ ভিজিট হয়েছে, যার মধ্যে ইউনিক ভিজিটর রয়েছেন প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার। এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৮০৩ জন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং ৪৫ হাজার ৫৩৮ জন বিশ্ব মানচিত্র তৈরি করেছেন।

সাব্বির দীর্ঘ ছয় বছরের বেশি সময় ধরে এআই, মোবাইল অ্যাপ এবং সফটওয়্যার ডিজাইন নিয়ে কাজ করছেন। তিনি জানান, ২০২০ সালে তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় আইটি খাতে তাঁর কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি দূর থেকে কাজ করার সুযোগ পান। যদিও তাঁর শিক্ষাজীবনের সার্টিফিকেটের চেয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োগ তাঁর ক্যারিয়ারে বেশি ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সাব্বির বলেন, তিনি ‘ট্রাভেল পার্সোনালিটি’ নামে একটি ফিচার নিয়ে কাজ করছেন। ব্যবহারকারীর পছন্দ ও অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে একটি পার্সোনালিটি কার্ড তৈরি হবে। এছাড়া ভ্রমণের অর্জনের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ ব্যাজ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। কেউ ৬৪টি জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন করলে পাবেন বিশেষ স্বীকৃতি।

নোয়াখালীর সন্তান সাব্বির বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে খেলাধুলার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বিভাগীয় ক্রিকেট দলে ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন তিনি।

তরুণদের উদ্দেশে সাব্বির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল ছবি তৈরি বা লেখালেখির সীমাবদ্ধ টুল হিসেবে দেখা উচিত নয়। একে কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান করলে ক্যারিয়ার গঠন অনেক সহজ হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া প্রিয় শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের উপহার

এআই ব্যবহার করে পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ অ্যাপ বানিয়ে ভাইরাল

আপডেট সময় ০৪:৪৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন মো. সাব্বির হোসেন। তিনি ‘আনসিন বাংলাদেশ’ নামে একটি অত্যাধুনিক ওয়েব অ্যাপ তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে তাঁরা কোন কোন স্থানে ঘুরেছেন তা মানচিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শন করতে পারছেন। শুধু তাই নয়, নিজের নামসহ এই মানচিত্রটি ডাউনলোড করার সুযোগও রয়েছে এতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই অ্যাপটি ভ্রমণকারীদের জন্য নিখুঁত পরিকল্পনা তৈরি করে দিচ্ছে। গন্তব্য নির্বাচন করলে অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছে সেখানে যাওয়ার উপায়, থাকার জায়গা, খরচ এবং ভ্রমণের সময়সূচি। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার কোন কোনটিতে ঘুরেছেন, এক ক্লিকেই তা দেখা যায় মানচিত্রে। আবার চার-পাঁচটি জেলা নির্বাচন করলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সাজিয়ে দিতে পারে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা—কোথায় আগে যাবেন, কোথায় থাকবেন, কীভাবে যাবেন, সম্ভাব্য খরচ কত হবে, এসবও জানা যাবে। যেসব জেলা ঘুরেছেন, সেগুলো মানচিত্রে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করেন। নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভাবনাটিকে বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেন তিনি।

অ্যাপটিতে বাংলাদেশের ২৪০টিরও বেশি দর্শনীয় স্থানের তথ্য ছবিসহ যুক্ত রয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্ব মানচিত্র তৈরির সুবিধা, কুইজ এবং ইন্টারেকটিভ গেমও রয়েছে। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের বাইরেও দেশের অনেক কম পরিচিত অথচ সুন্দর স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখানে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ, গাড়ি ভাড়া, পার্কিং এবং গণশৌচাগারের মতো প্রয়োজনীয় তথ্যাবলিও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই উদ্যোগের পেছনের গল্পটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাব্বির নিজে ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। তাঁর ব্যক্তিগত প্রয়োজন থেকেই এই অ্যাপটির ধারণা আসে। শুরুতে তিনি এআই ব্যবহার করে নিজের ভ্রমণ করা জেলাগুলো নিয়ে একটি সাধারণ মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবার নতুন জেলা ভ্রমণের পর মানচিত্রটি ম্যানুয়ালি আপডেট করতে হতো। তখন তিনি চিন্তা করেন, ভ্রমণকারীরা যদি অ্যাপের মাধ্যমে জেলা নির্বাচন করেন, তবে সেটি আগের তালিকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ম্যাপ তৈরি হবে। এই ভাবনা থেকেই ‘আনসিন বাংলাদেশ’-এর যাত্রা শুরু হয়।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম ম্যাপ ফিচারটি প্রকাশের পর থেকে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। সাব্বিরের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে এই ওয়েব অ্যাপটিতে ২ কোটি ৪০ লাখ ভিজিট হয়েছে, যার মধ্যে ইউনিক ভিজিটর রয়েছেন প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার। এখন পর্যন্ত ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৮০৩ জন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং ৪৫ হাজার ৫৩৮ জন বিশ্ব মানচিত্র তৈরি করেছেন।

সাব্বির দীর্ঘ ছয় বছরের বেশি সময় ধরে এআই, মোবাইল অ্যাপ এবং সফটওয়্যার ডিজাইন নিয়ে কাজ করছেন। তিনি জানান, ২০২০ সালে তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় আইটি খাতে তাঁর কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে তিনি দূর থেকে কাজ করার সুযোগ পান। যদিও তাঁর শিক্ষাজীবনের সার্টিফিকেটের চেয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োগ তাঁর ক্যারিয়ারে বেশি ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সাব্বির বলেন, তিনি ‘ট্রাভেল পার্সোনালিটি’ নামে একটি ফিচার নিয়ে কাজ করছেন। ব্যবহারকারীর পছন্দ ও অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে একটি পার্সোনালিটি কার্ড তৈরি হবে। এছাড়া ভ্রমণের অর্জনের ওপর ভিত্তি করে বিশেষ ব্যাজ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। কেউ ৬৪টি জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন করলে পাবেন বিশেষ স্বীকৃতি।

নোয়াখালীর সন্তান সাব্বির বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে খেলাধুলার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। বিভাগীয় ক্রিকেট দলে ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন তিনি।

তরুণদের উদ্দেশে সাব্বির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেবল ছবি তৈরি বা লেখালেখির সীমাবদ্ধ টুল হিসেবে দেখা উচিত নয়। একে কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান করলে ক্যারিয়ার গঠন অনেক সহজ হয়।