ঢাকা ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

বিমান কার্গো নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর ব্যবস্থার আহ্বান আইএটিএর

উড়োজাহাজের কার্গোতে বিপজ্জনক পণ্যের ঝুঁকি কমাতে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারি বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছে আইএটিএ। সংস্থাটির মতে, বিমানবন্দরের তল্লাশির পাশাপাশি প্রতিটি ধাপে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো জরুরি।

উড়োজাহাজে কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে ঘোষণা করা হয়নি বা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে—এমন বিপজ্জনক পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইনজুড়ে কড়া নিয়ন্ত্রণ ও তল্লাশি চালানোর আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, শুধু বিমানবন্দরে গিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি বাড়িয়ে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বরং পণ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, বুকিং এবং পরিবহনের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আইএটিএর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বিপজ্জনক পণ্য সংক্রান্ত যেসব ঘটনার প্রতিবেদন জমা পড়েছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পণ্যগুলো সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি অথবা তা ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই চালানগুলোতে মূলত লিথিয়াম ব্যাটারি, অ্যারোসল এবং ই-সিগারেটের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যা উড়োজাহাজে পরিবহনের সময় আগুন বা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো মূলত বিস্ফোরক শনাক্তকরণের জন্য তৈরি, যা এ ধরনের বিশেষ পণ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় সবসময় কার্যকর নয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইএটিএর কার্গো বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান ব্রেন্ডান সুলিভান জানিয়েছেন, বিপজ্জনক পণ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধের দায়িত্ব সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষের। তিনি বলেন, শুধু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের ওপর নির্ভর না করে পুরো পরিবহন প্রক্রিয়ায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রকাশিত এক শ্বেতপত্রে সংস্থাটি সরকারগুলোকে আইন প্রয়োগ ও নজরদারি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে।

এছাড়াও উৎপাদক এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোকে তাদের পণ্যের সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিপার, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার এবং ডাকসেবা কর্মীবাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে আইএটিএ। কার্গো গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ চালান শনাক্ত করার সক্ষমতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

এয়ারলাইন ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, উড়োজাহাজে পণ্য তোলার আগে তল্লাশি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে হবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে কার্গো সরবরাহ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে। আইএটিএর মতে, কার্গোতে ভুল তথ্য বা বিপজ্জনক পণ্য গোপন করা হলে কেবল একটি চালান নয়, বরং পুরো উড়োজাহাজ ও যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই ঝুঁকি নিরসনে পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়ায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নামফলক থেকে নিজের নাম সরানোর দাবিতে ভবন উদ্বোধন করলেন

বিমান কার্গো নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর ব্যবস্থার আহ্বান আইএটিএর

আপডেট সময় ১০:১৪:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উড়োজাহাজে কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে ঘোষণা করা হয়নি বা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে—এমন বিপজ্জনক পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইনজুড়ে কড়া নিয়ন্ত্রণ ও তল্লাশি চালানোর আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ)। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, শুধু বিমানবন্দরে গিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি বাড়িয়ে এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বরং পণ্য উৎপাদন, প্যাকেজিং, বুকিং এবং পরিবহনের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আইএটিএর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বিপজ্জনক পণ্য সংক্রান্ত যেসব ঘটনার প্রতিবেদন জমা পড়েছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই পণ্যগুলো সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি অথবা তা ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই চালানগুলোতে মূলত লিথিয়াম ব্যাটারি, অ্যারোসল এবং ই-সিগারেটের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যা উড়োজাহাজে পরিবহনের সময় আগুন বা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো মূলত বিস্ফোরক শনাক্তকরণের জন্য তৈরি, যা এ ধরনের বিশেষ পণ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় সবসময় কার্যকর নয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইএটিএর কার্গো বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান ব্রেন্ডান সুলিভান জানিয়েছেন, বিপজ্জনক পণ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধের দায়িত্ব সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি পক্ষের। তিনি বলেন, শুধু বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের ওপর নির্ভর না করে পুরো পরিবহন প্রক্রিয়ায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রকাশিত এক শ্বেতপত্রে সংস্থাটি সরকারগুলোকে আইন প্রয়োগ ও নজরদারি জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে।

এছাড়াও উৎপাদক এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোকে তাদের পণ্যের সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিপার, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার এবং ডাকসেবা কর্মীবাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে আইএটিএ। কার্গো গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ চালান শনাক্ত করার সক্ষমতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।

এয়ারলাইন ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, উড়োজাহাজে পণ্য তোলার আগে তল্লাশি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করতে হবে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে কার্গো সরবরাহ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে। আইএটিএর মতে, কার্গোতে ভুল তথ্য বা বিপজ্জনক পণ্য গোপন করা হলে কেবল একটি চালান নয়, বরং পুরো উড়োজাহাজ ও যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই ঝুঁকি নিরসনে পুরো সরবরাহ প্রক্রিয়ায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।