ঢাকা ১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

তদবির ও অনিয়মে বিপর্যস্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

তদবির, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নানা অনিয়মের বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং পদ্মা অয়েলের কাছে সংস্থাটির বকেয়া পাওনার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেবিচকের পাওনা ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি এবং পদ্মা অয়েলের পাওনা ২ হাজার ১০৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টরা বারবার তাগাদা দিলেও পুরো অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। যদিও বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, বকেয়া পরিশোধের অংশ হিসেবে গত বছরের জানুয়ারি থেকে তারা প্রতি মাসে ২৫ কোটি টাকা করে প্রদান করছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, সংস্থাটি কয়েক বছর ধরে লাভের ধারা বজায় রাখার দাবি করলেও কেন এই বিশাল পরিমাণ বকেয়া রয়ে গেছে।

প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার আরেকটি বড় নজির হিসেবে উঠে এসেছে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিমানের পার্সোনেল শাখা থেকে ১৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। অথচ গত ৩ আগস্ট বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ওই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রকৌশল শাখার পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর রাখার কথা ছিল। মন্ত্রণালয়ের সেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে পদোন্নতি দেওয়ায় প্রশাসনিক পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশের ভাষ্যমতে, বিমানের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার চেয়ে এখন তদবির ও প্রভাবশালীদের সুপারিশকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মপরিবেশ ও কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যাত্রীসেবার মান নিয়েও অভিযোগের অন্ত নেই; ফ্লাইট বিলম্ব, শিডিউল বিপর্যয়, লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং টিকিট বুকিং ও কল সেন্টারের সেবার দুর্বলতা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ইন-ফ্লাইট সেবার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাব নিয়েও যাত্রী মহলে ক্ষোভ রয়েছে।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর মডেলের। সংস্থাটি তাদের বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে আরও ২১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন থেকে ৭৮৫ কোটি টাকা লাভের দাবিও করেছে কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নির্দেশনা অমান্য করে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেই নির্দেশনার পরও পদোন্নতি দেওয়ায় মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ফের ‘পান্ডা কূটনীতি’ চীনের

তদবির ও অনিয়মে বিপর্যস্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

আপডেট সময় ১০:৩৩:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তদবির, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নানা অনিয়মের বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং পদ্মা অয়েলের কাছে সংস্থাটির বকেয়া পাওনার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেবিচকের পাওনা ৫ হাজার ৮৪২ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি এবং পদ্মা অয়েলের পাওনা ২ হাজার ১০৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টরা বারবার তাগাদা দিলেও পুরো অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। যদিও বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, বকেয়া পরিশোধের অংশ হিসেবে গত বছরের জানুয়ারি থেকে তারা প্রতি মাসে ২৫ কোটি টাকা করে প্রদান করছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, সংস্থাটি কয়েক বছর ধরে লাভের ধারা বজায় রাখার দাবি করলেও কেন এই বিশাল পরিমাণ বকেয়া রয়ে গেছে।

প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার আরেকটি বড় নজির হিসেবে উঠে এসেছে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিমানের পার্সোনেল শাখা থেকে ১৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালা পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। অথচ গত ৩ আগস্ট বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ওই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রকৌশল শাখার পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর রাখার কথা ছিল। মন্ত্রণালয়ের সেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে পদোন্নতি দেওয়ায় প্রশাসনিক পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশের ভাষ্যমতে, বিমানের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বা অভিজ্ঞতার চেয়ে এখন তদবির ও প্রভাবশালীদের সুপারিশকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মপরিবেশ ও কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যাত্রীসেবার মান নিয়েও অভিযোগের অন্ত নেই; ফ্লাইট বিলম্ব, শিডিউল বিপর্যয়, লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং টিকিট বুকিং ও কল সেন্টারের সেবার দুর্বলতা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ইন-ফ্লাইট সেবার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাব নিয়েও যাত্রী মহলে ক্ষোভ রয়েছে।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর মডেলের। সংস্থাটি তাদের বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে আরও ২১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন থেকে ৭৮৫ কোটি টাকা লাভের দাবিও করেছে কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নির্দেশনা অমান্য করে পদোন্নতি দেওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু সেই নির্দেশনার পরও পদোন্নতি দেওয়ায় মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।