ঢাকা ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে অস্বাভাবিক ধুলার মেঘ

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে দূরের ‘হট ডগ’ (গরম ও ঘন ধুলায় আচ্ছাদিত ছায়াপথ) হিসেবে পরিচিত একটি ছায়াপথ নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র। গবেষকদের মতে, ছায়াপথটির অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতার পেছনে শুধু কেন্দ্রীয় কৃষ্ণগহ্বর নয়, বরং তার চারপাশে থাকা উত্তপ্ত ধুলার বিশাল মেঘও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ছায়াপথটির নাম ডব্লিউ২২৪৬-০৫২৬। এটি এত দূরে অবস্থিত যে, বিজ্ঞানীরা একে দেখছেন মহাবিস্ফোরণের প্রায় ১২০ কোটি বছর পরের অবস্থায়। এটি ‘হট ডগ’ শ্রেণির একটি ছায়াপথ, যার কেন্দ্রে রয়েছে অত্যন্ত বৃহৎ ও সক্রিয় কৃষ্ণগহ্বর। ঘন ধুলার স্তরের আড়ালে থাকা এই কৃষ্ণগহ্বর বিপুল পরিমাণ পদার্থ টেনে নিচ্ছে।

কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত তীব্র বিকিরণ ধুলা শোষণ করে পরে অবলোহিত আলো হিসেবে ছড়িয়ে দেয়। এ কারণে এ ধরনের ছায়াপথ মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তুগুলোর মধ্যে অন্যতম। গবেষকদের মতে, এটি আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গার চেয়েও প্রায় এক হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল হতে পারে।

সাইপ্রাসের ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক চারালাম্বিয়া ভারনাভার নেতৃত্বে একটি দল জেমস ওয়েবের তথ্য এবং অন্যান্য দূরবীক্ষণ যন্ত্রের পর্যবেক্ষণ একত্র করে ছায়াপথটির শক্তি বণ্টনের ধরন বিশ্লেষণ করে।

তাদের লক্ষ্য ছিল ধুলা, নক্ষত্র এবং কৃষ্ণগহ্বরের কার্যকলাপের কোন সমন্বয় ছায়াপথটির বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে তা নির্ধারণ করা।

গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষ্ণগহ্বরকে ঘিরে থাকা প্রচলিত ধুলার বলয় ছাড়াও অতিরিক্ত উত্তপ্ত ধুলার মেঘ রয়েছে। এই ধুলার মেঘ কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন অক্ষ বরাবর উপরে ও নিচে বিস্তৃত।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এসব ধুলার তাপমাত্রা প্রায় ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারা মনে করছেন, কৃষ্ণগহ্বরের বিপুল শক্তির প্রভাবে এই ধুলা বাইরে ছিটকে যাচ্ছে। গবেষণা দল বলছে, এই অতিরিক্ত ধুলার উপস্থিতি বিবেচনায় নিলে পর্যবেক্ষণ করা তথ্য সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে অস্বাভাবিক ধুলার মেঘ

আপডেট সময় ১০:২০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে দূরের ‘হট ডগ’ (গরম ও ঘন ধুলায় আচ্ছাদিত ছায়াপথ) হিসেবে পরিচিত একটি ছায়াপথ নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে জেমস ওয়েব মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র। গবেষকদের মতে, ছায়াপথটির অস্বাভাবিক উজ্জ্বলতার পেছনে শুধু কেন্দ্রীয় কৃষ্ণগহ্বর নয়, বরং তার চারপাশে থাকা উত্তপ্ত ধুলার বিশাল মেঘও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ছায়াপথটির নাম ডব্লিউ২২৪৬-০৫২৬। এটি এত দূরে অবস্থিত যে, বিজ্ঞানীরা একে দেখছেন মহাবিস্ফোরণের প্রায় ১২০ কোটি বছর পরের অবস্থায়। এটি ‘হট ডগ’ শ্রেণির একটি ছায়াপথ, যার কেন্দ্রে রয়েছে অত্যন্ত বৃহৎ ও সক্রিয় কৃষ্ণগহ্বর। ঘন ধুলার স্তরের আড়ালে থাকা এই কৃষ্ণগহ্বর বিপুল পরিমাণ পদার্থ টেনে নিচ্ছে।

কৃষ্ণগহ্বর থেকে নির্গত তীব্র বিকিরণ ধুলা শোষণ করে পরে অবলোহিত আলো হিসেবে ছড়িয়ে দেয়। এ কারণে এ ধরনের ছায়াপথ মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তুগুলোর মধ্যে অন্যতম। গবেষকদের মতে, এটি আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গার চেয়েও প্রায় এক হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল হতে পারে।

সাইপ্রাসের ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক চারালাম্বিয়া ভারনাভার নেতৃত্বে একটি দল জেমস ওয়েবের তথ্য এবং অন্যান্য দূরবীক্ষণ যন্ত্রের পর্যবেক্ষণ একত্র করে ছায়াপথটির শক্তি বণ্টনের ধরন বিশ্লেষণ করে।

তাদের লক্ষ্য ছিল ধুলা, নক্ষত্র এবং কৃষ্ণগহ্বরের কার্যকলাপের কোন সমন্বয় ছায়াপথটির বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে তা নির্ধারণ করা।

গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষ্ণগহ্বরকে ঘিরে থাকা প্রচলিত ধুলার বলয় ছাড়াও অতিরিক্ত উত্তপ্ত ধুলার মেঘ রয়েছে। এই ধুলার মেঘ কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন অক্ষ বরাবর উপরে ও নিচে বিস্তৃত।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এসব ধুলার তাপমাত্রা প্রায় ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারা মনে করছেন, কৃষ্ণগহ্বরের বিপুল শক্তির প্রভাবে এই ধুলা বাইরে ছিটকে যাচ্ছে। গবেষণা দল বলছে, এই অতিরিক্ত ধুলার উপস্থিতি বিবেচনায় নিলে পর্যবেক্ষণ করা তথ্য সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা যায়।