ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা

তদবিরেও ছাড় মিলবে না চাঁদাবাজদের, কঠোর অবস্থানে ডিএমপি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন সারাদেশে সংগঠিতভাবে তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গ্রেফতারের পাশাপাশি চাঁদাবাজদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কও চিহ্নিত করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে চলমান যৌথ অভিযানে মাঠে নেমেছে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন ইউনিট। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়ে তালিকা হালনাগাদ করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পাঁচ দিনে মোট ৫৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চাঁদাবাজির অভিযোগেই গ্রেফতার হয়েছে ১৭৩ জন। ডিএমপি সূত্র বলছে, গ্রেফতারদের মধ্যে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ৩৫ জন এবং তালিকার বাইরে আরও ৪৮ জন রয়েছেন। এছাড়া সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও ডাকাতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ৬৪ জনকে।

ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, তদবিরের মাধ্যমে কোনো চাঁদাবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলবে, চাঁদাবাজদের অন্য কোনও পরিচয় বিবেচনায় আনা হবে না। এমনকি তাদের ছাড়াতে কেউ তদবির করলে তাকে চক্রের অংশ হিসেবে ধরা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে জানানো হয়, চাঁদাবাজ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী এই অভিযান চলমান থাকবে। সরকারি পর্যায়ে তৈরি অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী সারাদেশে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, র‌্যাবের একটি প্রতিবেদনে দেশে প্রায় ৬৫০ জন ‘চাঁদাবাজ গডফাদার’ চিহ্নিত হয়েছে। এদের অধিকাংশের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি করছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার চাঁদাবাজের প্রাথমিক তালিকাও তৈরি করা হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমের গ্রেফতার ইস্যুও। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শাসনগাছা বাস টার্মিনাল এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত। যদিও গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে বিষয়টি সরকারের কঠোর বার্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজির একটি বড় নেটওয়ার্কের তথ্যও উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এখানে দেড় শতাধিক স্পট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ দোকান ফুটপাত দখল করে পরিচালিত হচ্ছে। এসব দোকান থেকে দৈনিক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব এলাকা থেকে মাসে প্রায় ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ আদায় হয়, যা বিভিন্ন স্তরে ভাগ হয়ে যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, সন্ত্রাসী চক্র ও কিছু প্রভাবশালীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে এই নেটওয়ার্কে।

সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এখন আর কেবল অভিযান নয়- এটি একটি ধারাবাহিক ও কাঠামোগত দমন প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে, যেখানে তালিকা ধরে ধাপে ধাপে নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টা চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রাজধানীতে শুরু হলো দুই দিনের ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথমা বইমেলা

তদবিরেও ছাড় মিলবে না চাঁদাবাজদের, কঠোর অবস্থানে ডিএমপি

আপডেট সময় ০২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন সারাদেশে সংগঠিতভাবে তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গ্রেফতারের পাশাপাশি চাঁদাবাজদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কও চিহ্নিত করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে চলমান যৌথ অভিযানে মাঠে নেমেছে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন ইউনিট। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়ে তালিকা হালনাগাদ করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পাঁচ দিনে মোট ৫৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চাঁদাবাজির অভিযোগেই গ্রেফতার হয়েছে ১৭৩ জন। ডিএমপি সূত্র বলছে, গ্রেফতারদের মধ্যে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ৩৫ জন এবং তালিকার বাইরে আরও ৪৮ জন রয়েছেন। এছাড়া সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও ডাকাতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ৬৪ জনকে।

ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, তদবিরের মাধ্যমে কোনো চাঁদাবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলবে, চাঁদাবাজদের অন্য কোনও পরিচয় বিবেচনায় আনা হবে না। এমনকি তাদের ছাড়াতে কেউ তদবির করলে তাকে চক্রের অংশ হিসেবে ধরা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে জানানো হয়, চাঁদাবাজ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী এই অভিযান চলমান থাকবে। সরকারি পর্যায়ে তৈরি অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী সারাদেশে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, র‌্যাবের একটি প্রতিবেদনে দেশে প্রায় ৬৫০ জন ‘চাঁদাবাজ গডফাদার’ চিহ্নিত হয়েছে। এদের অধিকাংশের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি করছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার চাঁদাবাজের প্রাথমিক তালিকাও তৈরি করা হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমের গ্রেফতার ইস্যুও। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শাসনগাছা বাস টার্মিনাল এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত। যদিও গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে বিষয়টি সরকারের কঠোর বার্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজির একটি বড় নেটওয়ার্কের তথ্যও উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এখানে দেড় শতাধিক স্পট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ দোকান ফুটপাত দখল করে পরিচালিত হচ্ছে। এসব দোকান থেকে দৈনিক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব এলাকা থেকে মাসে প্রায় ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ আদায় হয়, যা বিভিন্ন স্তরে ভাগ হয়ে যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, সন্ত্রাসী চক্র ও কিছু প্রভাবশালীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে এই নেটওয়ার্কে।

সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এখন আর কেবল অভিযান নয়- এটি একটি ধারাবাহিক ও কাঠামোগত দমন প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে, যেখানে তালিকা ধরে ধাপে ধাপে নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টা চলছে।