ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

৪৫টি নতুন গ্রহে জীবনের আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অসীম মহাকাশে কী আমরা একা? এই প্রশ্ন মানুষের বহু দিনের। এবার সেই প্রশ্নের উত্তরের দিকে আরেক ধাপ এগোলেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় তারা এমন ৪৫টি গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজারের বেশি ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ (আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহ) আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে পাথুরে গ্রহগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কারণ এসব গ্রহে পানি থাকার সম্ভাবনা বেশি—আর পানি মানেই জীবনের মূল উপাদান।

এই গবেষণায় কিছু পরিচিত গ্রহ যেমন প্রোক্সিমা সেন্টরি বি, ট্রাপিস্ট-১এফ, কেপলার-১৮৬এফ-এর পাশাপাশি নতুন কিছু গ্রহ যেমন টিওআই-৭১৫ বি-ও রয়েছে। এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্রের এমন একটি জায়গায় ঘোরে, যাকে ‘গোল্ডিলক্স জোন’ বলা হয়। সহজ ভাষায়, এই জায়গার তাপমাত্রা এমন থাকে যেখানে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে—না খুব গরম, না খুব ঠান্ডা।

গবেষণায় ইউরোপের গাইয়া মিশন এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্র থেকে প্রায় পৃথিবীর মতোই শক্তি পায়।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক জায়গাগুলোর একটি হলো ট্রাপিস্ট-১ সিস্টেম, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে। এখানে চারটি গ্রহ এমন অঞ্চলে আছে, যেখানে জীবন থাকতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ এলএইচএস ১১৪০ বি। নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এখানে প্রচুর পানি থাকতে পারে এবং এর বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাস বেশি থাকতে পারে।

এছাড়া আরও ২৪টি গ্রহ পাওয়া গেছে, যেগুলো কখনো এই উপযুক্ত অঞ্চলে ঢোকে, আবার কখনো বের হয়ে যায় (এগুলো উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে)। এগুলো নিয়ে গবেষণা করলে বোঝা যাবে—একটি গ্রহ কতটা তাপ বা বিকিরণ সহ্য করেও বাসযোগ্য থাকতে পারে।

আশা করছেন, এই তালিকা ভবিষ্যতে আরও গবেষণায় সাহায্য করবে। আর একদিন হয়তো মানুষ জানতে পারবে—পৃথিবীর বাইরে কোথাও কি সত্যিই জীবন আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

৪৫টি নতুন গ্রহে জীবনের আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৯:২০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অসীম মহাকাশে কী আমরা একা? এই প্রশ্ন মানুষের বহু দিনের। এবার সেই প্রশ্নের উত্তরের দিকে আরেক ধাপ এগোলেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় তারা এমন ৪৫টি গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজারের বেশি ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ (আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহ) আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে পাথুরে গ্রহগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কারণ এসব গ্রহে পানি থাকার সম্ভাবনা বেশি—আর পানি মানেই জীবনের মূল উপাদান।

এই গবেষণায় কিছু পরিচিত গ্রহ যেমন প্রোক্সিমা সেন্টরি বি, ট্রাপিস্ট-১এফ, কেপলার-১৮৬এফ-এর পাশাপাশি নতুন কিছু গ্রহ যেমন টিওআই-৭১৫ বি-ও রয়েছে। এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্রের এমন একটি জায়গায় ঘোরে, যাকে ‘গোল্ডিলক্স জোন’ বলা হয়। সহজ ভাষায়, এই জায়গার তাপমাত্রা এমন থাকে যেখানে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে—না খুব গরম, না খুব ঠান্ডা।

গবেষণায় ইউরোপের গাইয়া মিশন এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্র থেকে প্রায় পৃথিবীর মতোই শক্তি পায়।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক জায়গাগুলোর একটি হলো ট্রাপিস্ট-১ সিস্টেম, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে। এখানে চারটি গ্রহ এমন অঞ্চলে আছে, যেখানে জীবন থাকতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ এলএইচএস ১১৪০ বি। নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এখানে প্রচুর পানি থাকতে পারে এবং এর বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাস বেশি থাকতে পারে।

এছাড়া আরও ২৪টি গ্রহ পাওয়া গেছে, যেগুলো কখনো এই উপযুক্ত অঞ্চলে ঢোকে, আবার কখনো বের হয়ে যায় (এগুলো উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে)। এগুলো নিয়ে গবেষণা করলে বোঝা যাবে—একটি গ্রহ কতটা তাপ বা বিকিরণ সহ্য করেও বাসযোগ্য থাকতে পারে।

আশা করছেন, এই তালিকা ভবিষ্যতে আরও গবেষণায় সাহায্য করবে। আর একদিন হয়তো মানুষ জানতে পারবে—পৃথিবীর বাইরে কোথাও কি সত্যিই জীবন আছে।