ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

৪৫টি নতুন গ্রহে জীবনের আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অসীম মহাকাশে কী আমরা একা? এই প্রশ্ন মানুষের বহু দিনের। এবার সেই প্রশ্নের উত্তরের দিকে আরেক ধাপ এগোলেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় তারা এমন ৪৫টি গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজারের বেশি ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ (আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহ) আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে পাথুরে গ্রহগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কারণ এসব গ্রহে পানি থাকার সম্ভাবনা বেশি—আর পানি মানেই জীবনের মূল উপাদান।

এই গবেষণায় কিছু পরিচিত গ্রহ যেমন প্রোক্সিমা সেন্টরি বি, ট্রাপিস্ট-১এফ, কেপলার-১৮৬এফ-এর পাশাপাশি নতুন কিছু গ্রহ যেমন টিওআই-৭১৫ বি-ও রয়েছে। এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্রের এমন একটি জায়গায় ঘোরে, যাকে ‘গোল্ডিলক্স জোন’ বলা হয়। সহজ ভাষায়, এই জায়গার তাপমাত্রা এমন থাকে যেখানে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে—না খুব গরম, না খুব ঠান্ডা।

গবেষণায় ইউরোপের গাইয়া মিশন এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্র থেকে প্রায় পৃথিবীর মতোই শক্তি পায়।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক জায়গাগুলোর একটি হলো ট্রাপিস্ট-১ সিস্টেম, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে। এখানে চারটি গ্রহ এমন অঞ্চলে আছে, যেখানে জীবন থাকতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ এলএইচএস ১১৪০ বি। নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এখানে প্রচুর পানি থাকতে পারে এবং এর বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাস বেশি থাকতে পারে।

এছাড়া আরও ২৪টি গ্রহ পাওয়া গেছে, যেগুলো কখনো এই উপযুক্ত অঞ্চলে ঢোকে, আবার কখনো বের হয়ে যায় (এগুলো উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে)। এগুলো নিয়ে গবেষণা করলে বোঝা যাবে—একটি গ্রহ কতটা তাপ বা বিকিরণ সহ্য করেও বাসযোগ্য থাকতে পারে।

আশা করছেন, এই তালিকা ভবিষ্যতে আরও গবেষণায় সাহায্য করবে। আর একদিন হয়তো মানুষ জানতে পারবে—পৃথিবীর বাইরে কোথাও কি সত্যিই জীবন আছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নানা পাটেকরের মৃত্যু: তনুশ্রীর ‘শয়তানের মৃত্যু’ মন্তব্যে পুরোনো বিতর্ক

৪৫টি নতুন গ্রহে জীবনের আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৯:২০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অসীম মহাকাশে কী আমরা একা? এই প্রশ্ন মানুষের বহু দিনের। এবার সেই প্রশ্নের উত্তরের দিকে আরেক ধাপ এগোলেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় তারা এমন ৪৫টি গ্রহ খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজারের বেশি ‘এক্সোপ্ল্যানেট’ (আমাদের সৌরজগতের বাইরে থাকা গ্রহ) আবিষ্কার হয়েছে। এর মধ্যে পাথুরে গ্রহগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। কারণ এসব গ্রহে পানি থাকার সম্ভাবনা বেশি—আর পানি মানেই জীবনের মূল উপাদান।

এই গবেষণায় কিছু পরিচিত গ্রহ যেমন প্রোক্সিমা সেন্টরি বি, ট্রাপিস্ট-১এফ, কেপলার-১৮৬এফ-এর পাশাপাশি নতুন কিছু গ্রহ যেমন টিওআই-৭১৫ বি-ও রয়েছে। এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্রের এমন একটি জায়গায় ঘোরে, যাকে ‘গোল্ডিলক্স জোন’ বলা হয়। সহজ ভাষায়, এই জায়গার তাপমাত্রা এমন থাকে যেখানে পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে—না খুব গরম, না খুব ঠান্ডা।

গবেষণায় ইউরোপের গাইয়া মিশন এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, এসব গ্রহ তাদের নক্ষত্র থেকে প্রায় পৃথিবীর মতোই শক্তি পায়।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক জায়গাগুলোর একটি হলো ট্রাপিস্ট-১ সিস্টেম, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ আলোকবর্ষ দূরে। এখানে চারটি গ্রহ এমন অঞ্চলে আছে, যেখানে জীবন থাকতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ এলএইচএস ১১৪০ বি। নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এখানে প্রচুর পানি থাকতে পারে এবং এর বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন গ্যাস বেশি থাকতে পারে।

এছাড়া আরও ২৪টি গ্রহ পাওয়া গেছে, যেগুলো কখনো এই উপযুক্ত অঞ্চলে ঢোকে, আবার কখনো বের হয়ে যায় (এগুলো উপবৃত্তাকার পথে ঘোরে)। এগুলো নিয়ে গবেষণা করলে বোঝা যাবে—একটি গ্রহ কতটা তাপ বা বিকিরণ সহ্য করেও বাসযোগ্য থাকতে পারে।

আশা করছেন, এই তালিকা ভবিষ্যতে আরও গবেষণায় সাহায্য করবে। আর একদিন হয়তো মানুষ জানতে পারবে—পৃথিবীর বাইরে কোথাও কি সত্যিই জীবন আছে।