ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবাধিকার পরিস্থিতির সূচক উন্নতির দিকে: আইনমন্ত্রী জুনে চালু হতে পারে ই-হেলথ কার্ড: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্তমান সরকার সবার, কারও প্রতিপক্ষ নয়: প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নূর সংসদের অধিবেশন কক্ষে কালিমা তাইয়্যেবা লেখা আরবি ক্যালিগ্রাফি স্থাপন জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিতে আমরা জাতীয়ভাবে সম্মত আছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাহিদের গতি ও তানজিদ ঝড়ে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ খণ্ডিতভাবে ডেপুটি স্পিকার চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ: জামায়াত আমির অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪৩ কোটি টাকা গায়েব, পালালেন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে ঘায়েল করতে মুসলিমদের প্রতি যে আহ্বান জানাল ইরান আমি জনগণকে বিনা পয়সায় সেবা দিতে বাধ্য: হাসনাত আবদুল্লাহ

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির রহস্যময় সংকেতের উৎস খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অনেক বছর ধরে আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অদ্ভুত কিছু সংকেত আসছিল। এই সংকেত নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। কেউ কেউ বলেছিলেন, হয়তো ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

কিন্তু নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই রহস্যময় সংকেতের পেছনে থাকতে পারে ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা অদৃশ্য পদার্থ। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের একদল গবেষক এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. শ্যাম বালাজি বলেন, মহাকাশে যে বড় বড় ঘটনা ঘটে যেমন তারার বিস্ফোরণ—সেগুলো দিয়ে এই অদ্ভুত সংকেত পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। তাই তারা নতুনভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, ডার্ক ম্যাটার হলো এমন এক ধরনের পদার্থ যা আমরা সরাসরি দেখতে পাই না। এটি আলো ছড়ায় না, আলো প্রতিফলনও করে না। তবু ধারণা করা হয়, পুরো মহাবিশ্বের প্রায় এক–চতুর্থাংশই এই পদার্থ দিয়ে তৈরি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘এক্সসাইটেড ডার্ক ম্যাটার’ (উত্তেজিত ডার্ক ম্যাটার) নামে একটি প্রক্রিয়া থাকতে পারে। এতে ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেলে শক্তি জমা হয়। পরে সেই শক্তি পজিট্রন (এক ধরনের কণা) আকারে বের হয়ে আসে।

এই প্রক্রিয়াই মহাকাশে দেখা তিনটি অদ্ভুত সংকেত ব্যাখ্যা করা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে রয়েছে ৫১১-কেভি (keV) শক্তির এক ধরনের বিকিরণ, ২-মেগা ইলেকট্রন ভোল্ট গামা রশ্মি এবং গ্যাসের অস্বাভাবিক আয়নাইজেশন (গ্যাসে শক্তি বেড়ে যাওয়া)।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে চেরেনকভ টেলিস্কোপ অ্যারে অবজারভেটরির মতো নতুন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ প্রকল্প এই তত্ত্ব পরীক্ষা করবে। যদি এই ধারণা সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি ‘ডার্ক ম্যাটার’ নিয়ে মানুষের জ্ঞান অনেকটাই বাড়বে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবাধিকার পরিস্থিতির সূচক উন্নতির দিকে: আইনমন্ত্রী

মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির রহস্যময় সংকেতের উৎস খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৯:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

অনেক বছর ধরে আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অদ্ভুত কিছু সংকেত আসছিল। এই সংকেত নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। কেউ কেউ বলেছিলেন, হয়তো ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

কিন্তু নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই রহস্যময় সংকেতের পেছনে থাকতে পারে ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা অদৃশ্য পদার্থ। যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের একদল গবেষক এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. শ্যাম বালাজি বলেন, মহাকাশে যে বড় বড় ঘটনা ঘটে যেমন তারার বিস্ফোরণ—সেগুলো দিয়ে এই অদ্ভুত সংকেত পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। তাই তারা নতুনভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, ডার্ক ম্যাটার হলো এমন এক ধরনের পদার্থ যা আমরা সরাসরি দেখতে পাই না। এটি আলো ছড়ায় না, আলো প্রতিফলনও করে না। তবু ধারণা করা হয়, পুরো মহাবিশ্বের প্রায় এক–চতুর্থাংশই এই পদার্থ দিয়ে তৈরি।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘এক্সসাইটেড ডার্ক ম্যাটার’ (উত্তেজিত ডার্ক ম্যাটার) নামে একটি প্রক্রিয়া থাকতে পারে। এতে ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেলে শক্তি জমা হয়। পরে সেই শক্তি পজিট্রন (এক ধরনের কণা) আকারে বের হয়ে আসে।

এই প্রক্রিয়াই মহাকাশে দেখা তিনটি অদ্ভুত সংকেত ব্যাখ্যা করা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে রয়েছে ৫১১-কেভি (keV) শক্তির এক ধরনের বিকিরণ, ২-মেগা ইলেকট্রন ভোল্ট গামা রশ্মি এবং গ্যাসের অস্বাভাবিক আয়নাইজেশন (গ্যাসে শক্তি বেড়ে যাওয়া)।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে চেরেনকভ টেলিস্কোপ অ্যারে অবজারভেটরির মতো নতুন মহাকাশ পর্যবেক্ষণ প্রকল্প এই তত্ত্ব পরীক্ষা করবে। যদি এই ধারণা সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি ‘ডার্ক ম্যাটার’ নিয়ে মানুষের জ্ঞান অনেকটাই বাড়বে।