আকাশ নিউজ ডেস্ক:
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চললেও নতুন ও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। পৃথিবী কেবল উষ্ণই হচ্ছে না বরং এই উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার গতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের।
আমেরিকান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ম্যাগাজিন পপুলার মেকানিক্স প্রতিবেদনে লিখেছে, ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। কারণ ২০৩০ সালের আগেই পৃথিবী ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বিপজ্জনক সীমা পেরিয়ে যেতে পারে। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ঠেকাতে একত্র হয়েছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল, বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রাক শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা।
তবে বর্তমানে পৃথিবীর বার্ষিক গড় তাপমাত্রা এরইমধ্যে সেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত যে, এ গুরুত্বপূর্ণ মিশন ব্যর্থ হতে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এ দশকের শেষ নাগাদ পৃথিবী স্থায়ীভাবে ১.৫ ডিগ্রি উষ্ণতার সীমা পেরিয়ে যাবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা তাপমাত্রা বাড়ার গতিও বাড়ছে।
বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’-এ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় এমনই দাবি বিজ্ঞানীদের। নাসা ও নোয়া’সহ পাঁচটি বড় সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন গবেষকরা। জার্মানির ‘পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ’-এর গবেষক ও এ গবেষণার সহ লেখক স্টিফান রামস্টর্ফ বলেছেন, এল নিনো, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সৌরশক্তির মতো প্রাকৃতিক বিভিন্ন প্রভাবকে আলাদা করে তারা এ উষ্ণায়নের প্রকৃত হার বিশ্লেষণ করেছেন।
গবেষক রামস্টর্ফ ও আমেরিকান পরিসংখ্যানবিদ গ্র্যান্ট ফস্টার খুঁজে পেয়েছেন, গত এক দশকে বিশ্ব গড়ে দশমিক ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হয়েছে। ১৯৭০ সাল থেকে সাধারণত তাপমাত্রা বাড়ার যে হার (দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রেকর্ড করা হত তার তুলনায় এটি বড় বৃদ্ধি। এমনটি চিন্তার বিষয়, কারণ পৃথিবী কেবল উষ্ণই হচ্ছে না, বরং এই উষ্ণ হওয়ার গতিও বেড়ে যাচ্ছে, যা জলবায়ু সংকট ঠেকানোর সময়সীমাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রামস্টর্ফ বলেছেন, “সংশোধিত তথ্যগুলো থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, ২০১৫ সাল থেকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ছে। আমরা সব ধরনের তথ্য ও বিভিন্ন বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখেছি, এ উষ্ণতা বৃদ্ধির হারের বিষয়ে ৯৮ শতাংশের বেশি নিশ্চিত হওয়া যায়।”
গত কয়েক বছরে পৃথিবী ‘এল নিনো’ আবহাওয়া ও সূর্যের ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’-এর প্রভাব অনুভব করেছে। সূর্যের এ স্বাভাবিক ১১ বছরের চক্রে সানস্পট বা সৌরকলঙ্ক বেড়ে যায় এবং ঘনঘন সৌর শিখা ও করোনাল মাস ইজেকশন ঘটে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবর নাগাদ শীর্ষে পৌঁছেছিল। গবেষণায় এসব প্রাকৃতিক প্রভাবকে বাদ দেওয়ার মানে হচ্ছে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের গড় তাপমাত্রাকে বাস্তবে যা ছিল তার চেয়ে কিছুটা কমিয়ে সমন্বয় করা। তবে এ পরিবর্তনের পরেও দেখা গেছে, উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার গতি আসলে বাড়ছে।
রামস্টর্ফ ও ফস্টারই যে উষ্ণায়ন বেড়ে যাওয়ার বিজ্ঞানসম্মত দাবি করছেন, তা নয়। আগের বিভিন্ন গবেষণাতে প্রতি দশকে দশমিক ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে উষ্ণতা বাড়ার কথা বলা হয়েছিল, দশমিক ৩৫ ডিগ্রি নয়। বৈশ্বিক প্রভাবের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার সামান্য তারতম্যও বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
‘বার্কলে আর্থ’-এর প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট রোডে (যাদের তথ্য এই গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে) বলেছেন, প্রাকৃতিক বিভিন্ন পরিবর্তনকে বাদ দিয়ে হিসাব করলে এসব অনুমানে কিছুটা ত্রুটি থাকতে পারে। তবে তিনিও মনে করেন, তাপমাত্রা বাড়ার হার দশমিক ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গবেষক রামস্টর্ফ বলেছেন, গত ১০ বছরের পৃথিবী উষ্ণায়নের হার যদি অব্যাহত থাকে তবে ২০৩০ সালের আগেই প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা স্থায়ীভাবে পেরিয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত পৃথিবী কত দ্রুত উত্তপ্ত হতে থাকবে তা নির্ভর করছে আমরা কত দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনতে পারি তার ওপর।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























