ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ন্যাকা ন্যাকা প্রেমের দিন শেষ, নতুন প্রজন্মের পছন্দ হটটেক ডেটিং

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

একটা সময় ডেটিং মানেই ছিল একে অন্যকে খুশি রাখার চেষ্টা এবং মতভেদ এড়িয়ে চলা। অন্তত প্রথম কয়েকটি ডেটে যতটা সম্ভব নিজের ভালো দিকগুলো তুলে ধরা। কিন্তু হটটেক ডেটিং সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। সামান্য বিতর্ক, প্রশ্ন আর যুক্তিতর্ক সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ বলেই মনে করছে নতুন প্রজন্ম। আর তা দেখা যাচ্ছে হটটেক ডেটিংয়ের প্রবণতায়। হটটেক ডেটিং বলতে এমন এক ধরনের ডেটিং প্রবণতাকে বোঝায়, যা মানুষ নিজের মতকে সবার সামনে রাখতে পিছপা হন না। এখানে হটটেক মানে এমন মত, যা সবাই মেনে নাও নিতে পারে।

বর্তমান সময়ে সিঙ্গেলরা অনেকেই এমন সঙ্গী খুঁজছেন, যার বিবিধ বিষয়ে নিজের স্পষ্ট মত রয়েছে এবং সেই মতের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস রয়েছে।

ডেটিংঅ্যাপ সংস্থা টিন্ডারের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৩৭ শতাংশ ব্যক্তি এমন কাউকে চান, যার সঙ্গে তাদের মূল্যবোধ মেলে। তবে একই সঙ্গে অনেকেই অল্প মতবিরোধ বা বিতর্ক থাকলেও সম্পর্কে জড়াতে রাজি। প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কাউকে ডেট করতেও তাদের আপত্তি নেই।

এ প্রবণতা থেকেই বাড়ছে হটটেক ডেটিংয়ের প্রবণতা। হটটেক ডেটিং বলতে এমন এক ধরনের ডেটিং প্রবণতাকে বোঝায়, রাজনীতি, সমাজ, লিঙ্গসমতা, ক্যারিয়ার, বিয়ে, সন্তান কিংবা জীবনদর্শনের মতো বিষয় নিয়ে পরিষ্কার থাকা। এ ধরনের ডেটিংয়ে মুখোশ পরার জায়গা নেই। বরং শুরু থেকেই নিজে কেমন, সেই সত্যিটাই তুলে ধরা হয়ে থাকে। এ প্রবণতা আসলে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য নয়। বরং নিজের মতো করে থাকা বা অথেন্টিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এসেছে।

নিজের সত্যিকারের সত্তাকে সামনে তুলে ধরাটাকে এখন আকর্ষণীয় বলে মনে করেন অনেকেই। তাই মতের অমিল থাকলেও সেই পার্থক্য মেনে নিতে প্রস্তুত অনেকেই।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন বাড়ছে এ প্রবণতা—

হটটেক প্রবণতা বাড়ার প্রথম কারণ হচ্ছে—অথেন্টিসিটির চাহিদা। দীর্ঘদিনের সোশ্যাল মিডিয়া ফিল্টার, এডিট করা জীবন আর সাজানো প্রোফাইল মানুষকে ক্লান্ত করেছে। অনেকেই এখন এমন সঙ্গী চান, যিনি বাস্তব, স্পষ্টভাষী এবং নিজের বিশ্বাসে স্থির। ভান করা ভালো ব্যবহার নয়, বরং সত্যিকারের মতামতই এখন আকর্ষণীয়।

দ্বিতীয়ত মানুষ নিজেকে আরও সচেতনভাবে চিনতে শিখেছে। মহামারিপরবর্তী সময়ে জীবন, সম্পর্ক ও মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে। মানুষ বুঝতে পারছে—শুধু শখ বা পছন্দ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে টিকে থাকার জন্য মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি আর চিন্তাভাবনার ভূমিকা অনেক বেশি।

একই সঙ্গে ডেটিংঅ্যাপের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রোফাইলের ভিড়ে আলাদা করে মানুষের নজর কাড়তে অনেকেই এখন নিজের মতামতকে ডেটিংঅ্যাপের প্রোফাইলের পরিচয় করে তুলতে চাইছেন। এতে যেমন দ্রুত মিল হয়, ঠিক তেমনই অমিল হলে শুরুতেই পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে সময় নষ্ট হয় কম, সম্পর্ক হয় আরও বাস্তবসম্মত।

হটটেকের আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে— ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতা। হটটেক ডেটিং মানে সবাই একমত হবে এমন নয়। বরং অনেকেই বিশ্বাস করেন, মতের অমিল থাকলেও পারস্পরিক সম্মান ও খোলামেলা আলোচনার স্থান থাকলে সম্পর্ক গভীর হতে পারে। এখানে বিতর্ক বিভাজনের জন্য নয়, বোঝাপড়ার জন্য।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ন্যাকা ন্যাকা প্রেমের দিন শেষ, নতুন প্রজন্মের পছন্দ হটটেক ডেটিং

আপডেট সময় ১০:১৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

একটা সময় ডেটিং মানেই ছিল একে অন্যকে খুশি রাখার চেষ্টা এবং মতভেদ এড়িয়ে চলা। অন্তত প্রথম কয়েকটি ডেটে যতটা সম্ভব নিজের ভালো দিকগুলো তুলে ধরা। কিন্তু হটটেক ডেটিং সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে। সামান্য বিতর্ক, প্রশ্ন আর যুক্তিতর্ক সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ বলেই মনে করছে নতুন প্রজন্ম। আর তা দেখা যাচ্ছে হটটেক ডেটিংয়ের প্রবণতায়। হটটেক ডেটিং বলতে এমন এক ধরনের ডেটিং প্রবণতাকে বোঝায়, যা মানুষ নিজের মতকে সবার সামনে রাখতে পিছপা হন না। এখানে হটটেক মানে এমন মত, যা সবাই মেনে নাও নিতে পারে।

বর্তমান সময়ে সিঙ্গেলরা অনেকেই এমন সঙ্গী খুঁজছেন, যার বিবিধ বিষয়ে নিজের স্পষ্ট মত রয়েছে এবং সেই মতের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস রয়েছে।

ডেটিংঅ্যাপ সংস্থা টিন্ডারের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৩৭ শতাংশ ব্যক্তি এমন কাউকে চান, যার সঙ্গে তাদের মূল্যবোধ মেলে। তবে একই সঙ্গে অনেকেই অল্প মতবিরোধ বা বিতর্ক থাকলেও সম্পর্কে জড়াতে রাজি। প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কাউকে ডেট করতেও তাদের আপত্তি নেই।

এ প্রবণতা থেকেই বাড়ছে হটটেক ডেটিংয়ের প্রবণতা। হটটেক ডেটিং বলতে এমন এক ধরনের ডেটিং প্রবণতাকে বোঝায়, রাজনীতি, সমাজ, লিঙ্গসমতা, ক্যারিয়ার, বিয়ে, সন্তান কিংবা জীবনদর্শনের মতো বিষয় নিয়ে পরিষ্কার থাকা। এ ধরনের ডেটিংয়ে মুখোশ পরার জায়গা নেই। বরং শুরু থেকেই নিজে কেমন, সেই সত্যিটাই তুলে ধরা হয়ে থাকে। এ প্রবণতা আসলে বিভাজন সৃষ্টি করার জন্য নয়। বরং নিজের মতো করে থাকা বা অথেন্টিক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই এসেছে।

নিজের সত্যিকারের সত্তাকে সামনে তুলে ধরাটাকে এখন আকর্ষণীয় বলে মনে করেন অনেকেই। তাই মতের অমিল থাকলেও সেই পার্থক্য মেনে নিতে প্রস্তুত অনেকেই।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কেন বাড়ছে এ প্রবণতা—

হটটেক প্রবণতা বাড়ার প্রথম কারণ হচ্ছে—অথেন্টিসিটির চাহিদা। দীর্ঘদিনের সোশ্যাল মিডিয়া ফিল্টার, এডিট করা জীবন আর সাজানো প্রোফাইল মানুষকে ক্লান্ত করেছে। অনেকেই এখন এমন সঙ্গী চান, যিনি বাস্তব, স্পষ্টভাষী এবং নিজের বিশ্বাসে স্থির। ভান করা ভালো ব্যবহার নয়, বরং সত্যিকারের মতামতই এখন আকর্ষণীয়।

দ্বিতীয়ত মানুষ নিজেকে আরও সচেতনভাবে চিনতে শিখেছে। মহামারিপরবর্তী সময়ে জীবন, সম্পর্ক ও মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে। মানুষ বুঝতে পারছে—শুধু শখ বা পছন্দ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে টিকে থাকার জন্য মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি আর চিন্তাভাবনার ভূমিকা অনেক বেশি।

একই সঙ্গে ডেটিংঅ্যাপের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রোফাইলের ভিড়ে আলাদা করে মানুষের নজর কাড়তে অনেকেই এখন নিজের মতামতকে ডেটিংঅ্যাপের প্রোফাইলের পরিচয় করে তুলতে চাইছেন। এতে যেমন দ্রুত মিল হয়, ঠিক তেমনই অমিল হলে শুরুতেই পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে সময় নষ্ট হয় কম, সম্পর্ক হয় আরও বাস্তবসম্মত।

হটটেকের আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে— ভিন্নমত গ্রহণের মানসিকতা। হটটেক ডেটিং মানে সবাই একমত হবে এমন নয়। বরং অনেকেই বিশ্বাস করেন, মতের অমিল থাকলেও পারস্পরিক সম্মান ও খোলামেলা আলোচনার স্থান থাকলে সম্পর্ক গভীর হতে পারে। এখানে বিতর্ক বিভাজনের জন্য নয়, বোঝাপড়ার জন্য।