ঢাকা ০১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার টেঁটার আঘাতে চাচা মাহমুদুর রহমান কামাল (৫৫) নিহত হয়েছেন। নিহত কামাল আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় কামালের ছেলে কাকন (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতের মরদেহ শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে কামাল মারা যান।

স্থানীয়রা জানায়, মাহমুদুর রহমান কামালের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই ভিটাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমি ও দোকান সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে জমির আইল কাটা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের সময় ভাতিজা মো. সাদ্দাম হোসেনের টেঁটার আঘাতে কামাল ও তাঁর ছেলে কাকন গুরুতর আহত হন।

নিহতের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, জালাল মাস্টার ও তার ছেলে সাদ্দাম আমাদের জমি দখল করতে গেলে আমার স্বামী কামাল ও ছেলে কাকন বাধা দেয়। তখন তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমার স্বামী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়। পরে আমার স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই এলাকার মাহতাব উদ্দিন গরম বলেন, সাদ্দাম গত পনের বছর আগে একটি তুচ্ছ ঘটনায় মালেক নামের এক ছাত্রের চোখ উপড়ে দিয়েছিল।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার অনিক জানান, টেঁটাবিদ্ধ দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খান বলেন, সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই জালাল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাদের ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে করবী আক্তার বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

আপডেট সময় ০৬:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার টেঁটার আঘাতে চাচা মাহমুদুর রহমান কামাল (৫৫) নিহত হয়েছেন। নিহত কামাল আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় কামালের ছেলে কাকন (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতের মরদেহ শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে কামাল মারা যান।

স্থানীয়রা জানায়, মাহমুদুর রহমান কামালের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই ভিটাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমি ও দোকান সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে জমির আইল কাটা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের সময় ভাতিজা মো. সাদ্দাম হোসেনের টেঁটার আঘাতে কামাল ও তাঁর ছেলে কাকন গুরুতর আহত হন।

নিহতের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, জালাল মাস্টার ও তার ছেলে সাদ্দাম আমাদের জমি দখল করতে গেলে আমার স্বামী কামাল ও ছেলে কাকন বাধা দেয়। তখন তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমার স্বামী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়। পরে আমার স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই এলাকার মাহতাব উদ্দিন গরম বলেন, সাদ্দাম গত পনের বছর আগে একটি তুচ্ছ ঘটনায় মালেক নামের এক ছাত্রের চোখ উপড়ে দিয়েছিল।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার অনিক জানান, টেঁটাবিদ্ধ দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খান বলেন, সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই জালাল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাদের ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে করবী আক্তার বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।