ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত হত্যাকে বৈধতা দিয়েছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির বর্ষপূতি: শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগোতে হবে: ডা. জুবাইদা লুটপাটের জন্য ছাত্রজনতা রক্ত দেয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আঘাত না হানলে আজ ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকত না: ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা গণতন্ত্র না থাকায় অনেক এলাকার সমস্যা গুরুত্ব পায়নি: ডেপুটি স্পিকার ছাত্র-জনতার অধিকার রক্ষায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার বিকল্প নেই:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার টেঁটার আঘাতে চাচা মাহমুদুর রহমান কামাল (৫৫) নিহত হয়েছেন। নিহত কামাল আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় কামালের ছেলে কাকন (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতের মরদেহ শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে কামাল মারা যান।

স্থানীয়রা জানায়, মাহমুদুর রহমান কামালের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই ভিটাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমি ও দোকান সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে জমির আইল কাটা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের সময় ভাতিজা মো. সাদ্দাম হোসেনের টেঁটার আঘাতে কামাল ও তাঁর ছেলে কাকন গুরুতর আহত হন।

নিহতের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, জালাল মাস্টার ও তার ছেলে সাদ্দাম আমাদের জমি দখল করতে গেলে আমার স্বামী কামাল ও ছেলে কাকন বাধা দেয়। তখন তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমার স্বামী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়। পরে আমার স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই এলাকার মাহতাব উদ্দিন গরম বলেন, সাদ্দাম গত পনের বছর আগে একটি তুচ্ছ ঘটনায় মালেক নামের এক ছাত্রের চোখ উপড়ে দিয়েছিল।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার অনিক জানান, টেঁটাবিদ্ধ দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খান বলেন, সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই জালাল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাদের ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে করবী আক্তার বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে ভাতিজার হাতে চাচা খুন

আপডেট সময় ০৬:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার টেঁটার আঘাতে চাচা মাহমুদুর রহমান কামাল (৫৫) নিহত হয়েছেন। নিহত কামাল আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় কামালের ছেলে কাকন (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহতের মরদেহ শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পশ্চিম ভিটাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে কামাল মারা যান।

স্থানীয়রা জানায়, মাহমুদুর রহমান কামালের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই ভিটাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে জমি ও দোকান সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে জমির আইল কাটা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষের সময় ভাতিজা মো. সাদ্দাম হোসেনের টেঁটার আঘাতে কামাল ও তাঁর ছেলে কাকন গুরুতর আহত হন।

নিহতের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, জালাল মাস্টার ও তার ছেলে সাদ্দাম আমাদের জমি দখল করতে গেলে আমার স্বামী কামাল ও ছেলে কাকন বাধা দেয়। তখন তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে আমার স্বামী ও ছেলে গুরুতর আহত হয়। পরে আমার স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওই এলাকার মাহতাব উদ্দিন গরম বলেন, সাদ্দাম গত পনের বছর আগে একটি তুচ্ছ ঘটনায় মালেক নামের এক ছাত্রের চোখ উপড়ে দিয়েছিল।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার অনিক জানান, টেঁটাবিদ্ধ দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুল্লাহ খান বলেন, সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই জালাল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাদের ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে করবী আক্তার বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।