ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

মহাবিশ্বের ডার্ক ম্যাটারের সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য পদার্থ) কীভাবে ছড়িয়ে আছে, তার সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। এটি করতে যেয়ে আকাশের এমন একটি অংশ নিয়ে কাজ করা হয়েছে, যার আয়তন পূর্ণ চাঁদের প্রায় তিন গুণ।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার। বাকি ১৫ শতাংশ হলো সাধারণ পদার্থ—যা দিয়ে তারা, গ্রহ, মানুষসহ চোখে দেখা সবকিছু তৈরি। ডার্ক ম্যাটার আলো ছড়ায় না বা প্রতিফলিত করে না, তাই এটি সরাসরি দেখা যায় না।

ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব বোঝা যায় এর মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব থেকে। যেমন—গ্যালাক্সি কত দ্রুত ঘোরে, গ্যালাক্সির দল কীভাবে একসঙ্গে থাকে, কিংবা দূরের আলোর পথ বড় কোনো কাঠামোর কাছে গিয়ে কীভাবে বাঁক নেয়। এই আলো বাঁকানোর ঘটনাকে কাজে লাগিয়েই বিজ্ঞানীরা মানচিত্রটি তৈরি করেছেন।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে প্রায় আড়াই লাখ দূরবর্তী গ্যালাক্সির আকারে সূক্ষ্ম বিকৃতি ধরা পড়ে। এসব বিকৃতি বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, আলোর পথে কোথায় কতটা ডার্ক ম্যাটার রয়েছে। আগে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে এমন মানচিত্র তৈরি হয়েছিল। নতুন মানচিত্রটি তার চেয়ে দ্বিগুণ স্পষ্ট, বেশি অঞ্চল জুড়ে এবং আরও পেছনের সময় —প্রায় ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্ব পর্যন্ত দেখা যায়।

এই মানচিত্রে মহাবিশ্বের ‘কসমিক ওয়েব’ (মহাজাগতিক জাল) আরও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে। এতে রয়েছে গ্যালাক্সির বড় বড় দল, ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি দীর্ঘ ফিলামেন্ট বা সুতোসদৃশ কাঠামো, আর তুলনামূলক কম ঘনত্বের অঞ্চল।

গবেষকেরা জানান, এই ফলাফল বর্তমান স্বীকৃত মহাবিশ্ব মডেলের সঙ্গে মিল রয়েছে। ওই মডেল অনুযায়ী, বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বের গঠন ও বিকাশে ডার্ক ম্যাটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন মানচিত্র ভবিষ্যতে গ্যালাক্সির জন্ম ও বিবর্তন বোঝার গবেষণায় বড় সহায়তা দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক: ১৩ কোটি নাম বাদ?

মহাবিশ্বের ডার্ক ম্যাটারের সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ

আপডেট সময় ১০:১৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক : 

বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বে ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য পদার্থ) কীভাবে ছড়িয়ে আছে, তার সবচেয়ে বিস্তারিত মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। এটি করতে যেয়ে আকাশের এমন একটি অংশ নিয়ে কাজ করা হয়েছে, যার আয়তন পূর্ণ চাঁদের প্রায় তিন গুণ।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ৮৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার। বাকি ১৫ শতাংশ হলো সাধারণ পদার্থ—যা দিয়ে তারা, গ্রহ, মানুষসহ চোখে দেখা সবকিছু তৈরি। ডার্ক ম্যাটার আলো ছড়ায় না বা প্রতিফলিত করে না, তাই এটি সরাসরি দেখা যায় না।

ডার্ক ম্যাটারের অস্তিত্ব বোঝা যায় এর মাধ্যাকর্ষণ প্রভাব থেকে। যেমন—গ্যালাক্সি কত দ্রুত ঘোরে, গ্যালাক্সির দল কীভাবে একসঙ্গে থাকে, কিংবা দূরের আলোর পথ বড় কোনো কাঠামোর কাছে গিয়ে কীভাবে বাঁক নেয়। এই আলো বাঁকানোর ঘটনাকে কাজে লাগিয়েই বিজ্ঞানীরা মানচিত্রটি তৈরি করেছেন।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে প্রায় আড়াই লাখ দূরবর্তী গ্যালাক্সির আকারে সূক্ষ্ম বিকৃতি ধরা পড়ে। এসব বিকৃতি বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, আলোর পথে কোথায় কতটা ডার্ক ম্যাটার রয়েছে। আগে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে এমন মানচিত্র তৈরি হয়েছিল। নতুন মানচিত্রটি তার চেয়ে দ্বিগুণ স্পষ্ট, বেশি অঞ্চল জুড়ে এবং আরও পেছনের সময় —প্রায় ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্ব পর্যন্ত দেখা যায়।

এই মানচিত্রে মহাবিশ্বের ‘কসমিক ওয়েব’ (মহাজাগতিক জাল) আরও পরিষ্কারভাবে ধরা পড়েছে। এতে রয়েছে গ্যালাক্সির বড় বড় দল, ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি দীর্ঘ ফিলামেন্ট বা সুতোসদৃশ কাঠামো, আর তুলনামূলক কম ঘনত্বের অঞ্চল।

গবেষকেরা জানান, এই ফলাফল বর্তমান স্বীকৃত মহাবিশ্ব মডেলের সঙ্গে মিল রয়েছে। ওই মডেল অনুযায়ী, বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বের গঠন ও বিকাশে ডার্ক ম্যাটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নতুন মানচিত্র ভবিষ্যতে গ্যালাক্সির জন্ম ও বিবর্তন বোঝার গবেষণায় বড় সহায়তা দেবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।