ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সাত মিলিয়ন বছর আগের জীবাশ্মে দুই পায়ে হাঁটার প্রমাণ

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মানুষ কীভাবে দুই পায়ে হাঁটা শিখল—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে গবেষণা করছেন। এবার সেই খোঁজে নতুন আলো ফেলেছে আফ্রিকার সাত মিলিয়ন বছর আগের এক প্রাণীর হাড় বিশ্লেষণ। গবেষকদের মতে, এই প্রাণীটি মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন পূর্বপুরুষ হতে পারে। তবে সব বিজ্ঞানী এখনো এ বিষয়ে একমত নন।

সম্প্রতি সায়েন্স অ্যাডভ্যান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সাহেলানথ্রোপাস ট্যাচাডেনসিস নামের এই প্রজাতিটি আংশিকভাবে হলেও দুই পায়ে হাঁটতে পারত। এই প্রজাতিটি ২০০১ সালে আফ্রিকার চাদ দেশে আবিষ্কৃত হয়। গবেষকেরা একে আদর করে ‘টুমাই’ নামেও ডাকেন।

গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবাশ্ম হাড় গভীরভাবে পরীক্ষা করা হয়। এতে উরুর হাড়ে (ফিমার) একটি ছোট উঁচু অংশ পাওয়া গেছে, যাকে ফিমোরাল টিউবার্কল বলা হয়। এটি এমন এক স্থানে থাকে, যেখানে শরীর সোজা রেখে দাঁড়ানো ও হাঁটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি লিগামেন্ট (হাড় ও পেশি যুক্তকারী শক্ত টিস্যু) যুক্ত থাকে। এই গঠন সাধারণত দুই পায়ে হাঁটা প্রাণীদের মধ্যেই দেখা যায়।

গবেষকদের মতে, টুমাই দেখতে ছিল বানরজাতীয়। তবে তার হাড়ের গঠন আধুনিক শিম্পাঞ্জির চেয়ে মানুষের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বেশি মিল রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, সে মাটিতে দুই পায়ে হাঁটত, আবার সময়ের একটি অংশ গাছেও কাটাত।

তবে এ নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। অনেক বিজ্ঞানীর মতে, প্রমাণ এখনো যথেষ্ট নয়। আরও জীবাশ্ম না পাওয়া গেলে নিশ্চিত করে বলা কঠিন, টুমাই সত্যিই মানুষের সরাসরি পূর্বপুরুষ কি না।

এই বিতর্ক মেটাতে গবেষকেরা আবার চাদে গিয়ে নতুন জীবাশ্ম খোঁজার পরিকল্পনা করছেন। নতুন প্রমাণ মিললে মানুষের শুরুর ইতিহাসে হয়তো বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সাত মিলিয়ন বছর আগের জীবাশ্মে দুই পায়ে হাঁটার প্রমাণ

আপডেট সময় ১১:১০:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক :

মানুষ কীভাবে দুই পায়ে হাঁটা শিখল—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে গবেষণা করছেন। এবার সেই খোঁজে নতুন আলো ফেলেছে আফ্রিকার সাত মিলিয়ন বছর আগের এক প্রাণীর হাড় বিশ্লেষণ। গবেষকদের মতে, এই প্রাণীটি মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন পূর্বপুরুষ হতে পারে। তবে সব বিজ্ঞানী এখনো এ বিষয়ে একমত নন।

সম্প্রতি সায়েন্স অ্যাডভ্যান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সাহেলানথ্রোপাস ট্যাচাডেনসিস নামের এই প্রজাতিটি আংশিকভাবে হলেও দুই পায়ে হাঁটতে পারত। এই প্রজাতিটি ২০০১ সালে আফ্রিকার চাদ দেশে আবিষ্কৃত হয়। গবেষকেরা একে আদর করে ‘টুমাই’ নামেও ডাকেন।

গবেষণায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবাশ্ম হাড় গভীরভাবে পরীক্ষা করা হয়। এতে উরুর হাড়ে (ফিমার) একটি ছোট উঁচু অংশ পাওয়া গেছে, যাকে ফিমোরাল টিউবার্কল বলা হয়। এটি এমন এক স্থানে থাকে, যেখানে শরীর সোজা রেখে দাঁড়ানো ও হাঁটার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি লিগামেন্ট (হাড় ও পেশি যুক্তকারী শক্ত টিস্যু) যুক্ত থাকে। এই গঠন সাধারণত দুই পায়ে হাঁটা প্রাণীদের মধ্যেই দেখা যায়।

গবেষকদের মতে, টুমাই দেখতে ছিল বানরজাতীয়। তবে তার হাড়ের গঠন আধুনিক শিম্পাঞ্জির চেয়ে মানুষের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বেশি মিল রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, সে মাটিতে দুই পায়ে হাঁটত, আবার সময়ের একটি অংশ গাছেও কাটাত।

তবে এ নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে। অনেক বিজ্ঞানীর মতে, প্রমাণ এখনো যথেষ্ট নয়। আরও জীবাশ্ম না পাওয়া গেলে নিশ্চিত করে বলা কঠিন, টুমাই সত্যিই মানুষের সরাসরি পূর্বপুরুষ কি না।

এই বিতর্ক মেটাতে গবেষকেরা আবার চাদে গিয়ে নতুন জীবাশ্ম খোঁজার পরিকল্পনা করছেন। নতুন প্রমাণ মিললে মানুষের শুরুর ইতিহাসে হয়তো বড় পরিবর্তন আসতে পারে।