ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ট্যাবে বাড়তি খরচ ১৫০ কোটি, সিসিজিপিতে যাচ্ছে প্রস্তাব

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনা সংকটে ধীরগতি দেখা দিয়েছে জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পে। জাতিসংঘের বড় অংকের অনুদান না মিললেও এই প্রকল্পে নতুন করে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব কেনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

১৫০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ থাকলেও বিদেশি ট্যাবে মজেছে বিবিএস। প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার পিস ট্যাব এবং ৭২ পিস এয়ার কন্ডিশনার ক্রয়ের জন্য দরপত্রে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ব্যবধানে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্বেও বিদেশি একটি কোম্পানিকে কাজ দিতে সায় দিয়েছি বিবিএস।

এছাড়াও জনশুমারি ও গৃহগণনার মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের বাস্তবায়নে দেশীয় কোম্পানিটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চাহিদার তুলনায় আরো আরো নতুন ও আধুনিক ফিচার সংযোজন করেছে।

সূত্র জানায়, দরপত্রে ১৫০ কোটি টাকার বেশি সরাসরি ব্যবধানের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদিত পণ্য হওয়ায়, প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং শিল্পায়ন ও কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। দেশীয় কোম্পানি সম্প্রসারণে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ একাধিক দেশীয় সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিবিএসকে চিঠি দিলেও কোনো কাজ হয়নি।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (সিসিজিপি) প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিবিবিএস। দেশীয় প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোম্পানির চেয়ে উন্নত স্পেসিফিকেশন অর্থাৎ ২ জিবির পরিবর্তে ৪ জিবির র‌্যাম এবং ৩২ জিবির পরিবর্তে ৬৪ জিবি রম সমৃদ্ধ ট্যাব দেওয়ার কথা বলেছে। সেটিও ফেয়ারের চেয়ে ১৪৬ কোটি টাকা কমে। অর্থাৎ টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা দেশীয় প্রতিষ্ঠান। অথচ বিবিএস বিদেশি গুরুত্বে কোম্পানিকে।

প্রকল্পের আওতায় শুধু ডিজিটাল জনশুমারির জন্য প্রথম সংশোধনীতে ২ জিবি র‌্যাম এবং ৩২ জিবি রম সমৃদ্ধ ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব কিনতে ৫৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও এর চেয়ে কম বাজেটে এর চেয়ে উন্নত স্পেসিফিকেশনের ট্যাব কেনা সম্ভব।

ই-জিপিতে বিদেশি কোম্পানি ৫৪৮ কোটি টাকা এবং দেশীয় কোম্পানি ৪০২ কোটি টাকায় টেন্ডার সাবমিট করেছে। ই-জিপির নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে। কিন্তু টেন্ডারে অংশ নিতে না পারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিবিএস চাচ্ছে ১৪৬ কোটি টাকা বেশি দরদাতাকে কাজ দিতে।

বিবিএস মহাপরিচালক(অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ট্যাব কেনার বিষয়ে সিসিজিপি সিদ্ধান্ত নেবে আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে। ’

প্রবাসীদের গণনা প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, প্রবাসীদের গণনার প্রস্তাব থাকছে। আমরা এটা বাদ দিচ্ছি না। প্রতিটা হাউসহোল্ডে যাবো এবং প্রবাসীদের গণনা করবো। ’

‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১’ প্রকল্পের আওতায় নানা কাজ সম্পন্ন হবে। জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছিল ১ হাজার ৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ছিল ১৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা। কিন্তু সাহায্যের টাকা না পাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় কমানো হচ্ছে। নতুন করে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হচ্ছে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুলাই থেকে চলমান। ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ পূর্ণ হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বিরতির পর নতুন রূপ নিয়ে ফিরছেন রাইমা সেন

ট্যাবে বাড়তি খরচ ১৫০ কোটি, সিসিজিপিতে যাচ্ছে প্রস্তাব

আপডেট সময় ০৭:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অগাস্ট ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনা সংকটে ধীরগতি দেখা দিয়েছে জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পে। জাতিসংঘের বড় অংকের অনুদান না মিললেও এই প্রকল্পে নতুন করে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব কেনার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

১৫০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ থাকলেও বিদেশি ট্যাবে মজেছে বিবিএস। প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার পিস ট্যাব এবং ৭২ পিস এয়ার কন্ডিশনার ক্রয়ের জন্য দরপত্রে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ব্যবধানে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্বেও বিদেশি একটি কোম্পানিকে কাজ দিতে সায় দিয়েছি বিবিএস।

এছাড়াও জনশুমারি ও গৃহগণনার মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের বাস্তবায়নে দেশীয় কোম্পানিটি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চাহিদার তুলনায় আরো আরো নতুন ও আধুনিক ফিচার সংযোজন করেছে।

সূত্র জানায়, দরপত্রে ১৫০ কোটি টাকার বেশি সরাসরি ব্যবধানের পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদিত পণ্য হওয়ায়, প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং শিল্পায়ন ও কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। দেশীয় কোম্পানি সম্প্রসারণে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ একাধিক দেশীয় সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিবিএসকে চিঠি দিলেও কোনো কাজ হয়নি।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (সিসিজিপি) প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিবিবিএস। দেশীয় প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোম্পানির চেয়ে উন্নত স্পেসিফিকেশন অর্থাৎ ২ জিবির পরিবর্তে ৪ জিবির র‌্যাম এবং ৩২ জিবির পরিবর্তে ৬৪ জিবি রম সমৃদ্ধ ট্যাব দেওয়ার কথা বলেছে। সেটিও ফেয়ারের চেয়ে ১৪৬ কোটি টাকা কমে। অর্থাৎ টেন্ডারে সর্বনিম্ন দরদাতা দেশীয় প্রতিষ্ঠান। অথচ বিবিএস বিদেশি গুরুত্বে কোম্পানিকে।

প্রকল্পের আওতায় শুধু ডিজিটাল জনশুমারির জন্য প্রথম সংশোধনীতে ২ জিবি র‌্যাম এবং ৩২ জিবি রম সমৃদ্ধ ৩ লাখ ৯৫ হাজার ট্যাব কিনতে ৫৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও এর চেয়ে কম বাজেটে এর চেয়ে উন্নত স্পেসিফিকেশনের ট্যাব কেনা সম্ভব।

ই-জিপিতে বিদেশি কোম্পানি ৫৪৮ কোটি টাকা এবং দেশীয় কোম্পানি ৪০২ কোটি টাকায় টেন্ডার সাবমিট করেছে। ই-জিপির নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে। কিন্তু টেন্ডারে অংশ নিতে না পারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিবিএস চাচ্ছে ১৪৬ কোটি টাকা বেশি দরদাতাকে কাজ দিতে।

বিবিএস মহাপরিচালক(অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ট্যাব কেনার বিষয়ে সিসিজিপি সিদ্ধান্ত নেবে আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রকল্পের কাজ সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে। ’

প্রবাসীদের গণনা প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, প্রবাসীদের গণনার প্রস্তাব থাকছে। আমরা এটা বাদ দিচ্ছি না। প্রতিটা হাউসহোল্ডে যাবো এবং প্রবাসীদের গণনা করবো। ’

‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১’ প্রকল্পের আওতায় নানা কাজ সম্পন্ন হবে। জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছিল ১ হাজার ৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ছিল ১৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা। কিন্তু সাহায্যের টাকা না পাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় কমানো হচ্ছে। নতুন করে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হচ্ছে ১ হাজার ৫৭৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুলাই থেকে চলমান। ২০২৪ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ পূর্ণ হবে।