ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ছেলেকে অপহরণ করলেন মা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে নিজের ছেলেকে অপহরণ করেছেন মা। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য থানায়ও অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার বাদীই এখন আসামি।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার বিটেশ্বর এস আর আদর্শ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রুমানকে (৮) বৃহস্পতিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। রুমান উপজেলার তিনপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী নাসির মিয়ার বড় ছেলে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগে অপহৃত রুমানের মা রুনা আক্তার মঙ্গলবার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। পাশাপাশি অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়ে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানানো হয়। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অপহৃত রুমানের বাবা প্রবাসী নাসির মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মা রুনা আক্তার রুমানকে নিজেই অপহরণ করেন। মিথ্যা অপহরণের মামলা দায়েরের ঘটনায় মা রুনা আক্তার, খালা নাসরিন আক্তার ও মামি নুসরাত জাহান লাকীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার সকালে অপহরণের পর অপহৃত রুমানকে প্রথমে দাউদকান্দির চক্রতলা গ্রামে রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রোমানের মা রুনা আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মুক্তিপণ চাওয়ার কথাও পুলিশকে জানান।

পুলিশ মুক্তিপণ চাওয়া মুঠোফোন ও রুমানের মায়ের মুঠোফোনের সূত্র ধরে অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে বুধবার রুমানকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে রুমানের খালার বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায়ও অভিযান চালায়। সেখানে রুমানের ব্যবহৃত স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস পাওয়া যায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে রুমানকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ রুমানকে যাত্রাবাড়ীর একটি বাস কাউন্টার এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায়-রুনার বিরুদ্ধে স্বামীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ছেলেকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ মামলা দায়েরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মা রুনা আক্তার জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের একটি মামলায় তার মা ও একটি হত্যা মামলায় তার ভাই কারাগারে রয়েছে। তাদের ছাড়ানোর খরচের জন্য তিনি এই নাটক সাজান। তাদের দুই বছরের আরেকটি ছেলে রয়েছে। এদিকে ফোনে বিদেশ থেকে নাসির মিয়া পুলিশের নিকট তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ছেলেকে অপহরণ করলেন মা!

আপডেট সময় ১০:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে নিজের ছেলেকে অপহরণ করেছেন মা। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য থানায়ও অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার বাদীই এখন আসামি।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার বিটেশ্বর এস আর আদর্শ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রুমানকে (৮) বৃহস্পতিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। রুমান উপজেলার তিনপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী নাসির মিয়ার বড় ছেলে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগে অপহৃত রুমানের মা রুনা আক্তার মঙ্গলবার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। পাশাপাশি অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়ে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানানো হয়। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অপহৃত রুমানের বাবা প্রবাসী নাসির মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মা রুনা আক্তার রুমানকে নিজেই অপহরণ করেন। মিথ্যা অপহরণের মামলা দায়েরের ঘটনায় মা রুনা আক্তার, খালা নাসরিন আক্তার ও মামি নুসরাত জাহান লাকীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার সকালে অপহরণের পর অপহৃত রুমানকে প্রথমে দাউদকান্দির চক্রতলা গ্রামে রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রোমানের মা রুনা আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মুক্তিপণ চাওয়ার কথাও পুলিশকে জানান।

পুলিশ মুক্তিপণ চাওয়া মুঠোফোন ও রুমানের মায়ের মুঠোফোনের সূত্র ধরে অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে বুধবার রুমানকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে রুমানের খালার বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায়ও অভিযান চালায়। সেখানে রুমানের ব্যবহৃত স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস পাওয়া যায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে রুমানকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ রুমানকে যাত্রাবাড়ীর একটি বাস কাউন্টার এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায়-রুনার বিরুদ্ধে স্বামীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ছেলেকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ মামলা দায়েরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মা রুনা আক্তার জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের একটি মামলায় তার মা ও একটি হত্যা মামলায় তার ভাই কারাগারে রয়েছে। তাদের ছাড়ানোর খরচের জন্য তিনি এই নাটক সাজান। তাদের দুই বছরের আরেকটি ছেলে রয়েছে। এদিকে ফোনে বিদেশ থেকে নাসির মিয়া পুলিশের নিকট তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।