আকাশ নিউজ ডেস্ক :
পরিমিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে না পারার জন্য শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না এবং ঘন ঘন বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়। আমাদের দেশে শিশুর পুষ্টিহীনতার অন্যতম কারণ কৃমিজনিত সংক্রমণ। সে কারণে পুষ্টির অভাব দূর করতে পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় অন্তর কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
কৃমি যেভাবে ক্ষতি করে:
পুষ্টিহীনতা ও রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি করা কৃমির প্রধান কাজ। এমনকি শিশুর জীবন বিপন্ন করার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি করতে পারে। পেটের সমস্যা নিয়ে বেশি অস্থির হতে দেখা যায় বাবা-মাদের। শিশু খেতে চায় না, শিশুর বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়ার মূল কারণ কৃমির সমস্যা। এ ছাড়াও মলদ্বারের চারপাশে চুলকানির সঙ্গে কৃমি দেখা যাওয়া, চুলকানির কারণে শিশুর কান্নাকাটি এবং ঘুমাতে অসুবিধা, ব্যথাযুক্ত প্রস্রাব শিশুরা অভিযোগ করে থাকে।
শিশুর খেতে অনীহা (ক্ষুধামান্দ্য) বা হঠাৎ অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগতে পারে। বিভিন্ন রকম এলার্জিজনিত সমস্যা–যেমন চামড়া লাল হয়ে চুলকানি হওয়া, ঠান্ডা থেকে কাশি, পরে শ্বাসকষ্ট হতে দেখা যায়। অন্ত্রে কৃমি থাকলে পেটে ব্যথা, কামড়ানো বা ফোলাভাব অনুভব হতে পারে। দাঁত কিড়মিড় করা যদিও এটি সবক্ষেত্রে হয় না, তবে কিছু শিশুর মধ্যে এই লক্ষণও দেখা যায়।
কিছু কৃমি শরীরের বিশেষ অংশ যেমন পিত্তথলি, অগ্ন্যাশয়, অ্যাপেনডিক্সে অবস্থান নিয়ে পেটে তীব্র ব্যথা, এমনকি জন্ডিসের কারণ হতে পারে। আবার দলে দলে এরা মরে গিয়ে খাদ্যনালিতে আটকে জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কৃমির কারণে শরীরে কিছু ভিটামিন যেমন ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন বি-১২ পোষণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।
ফলে ভিটামিন ‘এ’ অভাবজনিত বিভিন্ন অসুবিধা প্রকটভাবে দেখা যায়। আপনার শিশুকে কৃমিমুক্ত রাখুন। একটু সচেতনতাই পারে আপনার শিশুকে এই কৃমির হাত থেকে বাঁচাতে। তাই কিছু বিষয়ের প্রতি আমাদের সজাগ থাকতে হবে।
# খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
# খাওয়ার আগে শাক-সবজি ও ফলমূল ভালো করে ধুয়ে নিন।
# রান্নাঘরের থালা-বাসন ও পাতিল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
# খাবার সবসময় ঢেকে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
# খোলা ও বাসি খাবার শিশুকে খাওয়াবেন না।
# শিশুর হাত ও পায়ের নখ কেটে রাখতে হবে।
# পায়খানায় যাওয়ার সময় অবশ্যই শিশুকে স্যান্ডাল পরানোর অভ্যাস করাতে হবে।
# পায়খানা থেকে আসার পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
# যেখানে-সেখানে শিওর মলমূত্র ফেলে রাখা যাবে না।
# চারদিক ঘেরা এবং পানি বের হয় না এমন স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে।
# গরুর মাংস ভালো করে সেদ্ধ করে শিশুকে খেতে দিন।
# গৃহপালিত কুকুর, বিড়ালকে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ দিতে হবে।
# প্রত্যেক শিশুকে প্রতি ৪ মাস অন্তর নিয়মিত কৃমিনাশক বড়ি খাওয়াতে হবে।
এই স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো আমরা যেন সবাই মেনে চলি। শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি এবং বিকাশে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই শুধু স্বাস্থ্যবামীদের দায়িত্ব দিয়ে বসে না থেকে দেশের সব মানুষকে কৃমি প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।
[অধ্যাপক, শিশুবিভাগ; চেম্বার: আলোক মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার, মিরপুর]
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























