ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে অনড় ক্রিকেটাররা, মাঠে যাননি কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে হামলা হতে পারে: রয়টার্স আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করলে রিকনসিলিয়েশন সম্ভব: প্রধান উপদেষ্টা নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর

স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ছেলেকে অপহরণ করলেন মা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে নিজের ছেলেকে অপহরণ করেছেন মা। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য থানায়ও অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার বাদীই এখন আসামি।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার বিটেশ্বর এস আর আদর্শ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রুমানকে (৮) বৃহস্পতিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। রুমান উপজেলার তিনপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী নাসির মিয়ার বড় ছেলে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগে অপহৃত রুমানের মা রুনা আক্তার মঙ্গলবার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। পাশাপাশি অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়ে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানানো হয়। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অপহৃত রুমানের বাবা প্রবাসী নাসির মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মা রুনা আক্তার রুমানকে নিজেই অপহরণ করেন। মিথ্যা অপহরণের মামলা দায়েরের ঘটনায় মা রুনা আক্তার, খালা নাসরিন আক্তার ও মামি নুসরাত জাহান লাকীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার সকালে অপহরণের পর অপহৃত রুমানকে প্রথমে দাউদকান্দির চক্রতলা গ্রামে রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রোমানের মা রুনা আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মুক্তিপণ চাওয়ার কথাও পুলিশকে জানান।

পুলিশ মুক্তিপণ চাওয়া মুঠোফোন ও রুমানের মায়ের মুঠোফোনের সূত্র ধরে অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে বুধবার রুমানকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে রুমানের খালার বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায়ও অভিযান চালায়। সেখানে রুমানের ব্যবহৃত স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস পাওয়া যায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে রুমানকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ রুমানকে যাত্রাবাড়ীর একটি বাস কাউন্টার এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায়-রুনার বিরুদ্ধে স্বামীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ছেলেকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ মামলা দায়েরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মা রুনা আক্তার জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের একটি মামলায় তার মা ও একটি হত্যা মামলায় তার ভাই কারাগারে রয়েছে। তাদের ছাড়ানোর খরচের জন্য তিনি এই নাটক সাজান। তাদের দুই বছরের আরেকটি ছেলে রয়েছে। এদিকে ফোনে বিদেশ থেকে নাসির মিয়া পুলিশের নিকট তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ছেলেকে অপহরণ করলেন মা!

আপডেট সময় ১০:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে নিজের ছেলেকে অপহরণ করেছেন মা। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য থানায়ও অপহরণের মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার বাদীই এখন আসামি।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলার বিটেশ্বর এস আর আদর্শ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রুমানকে (৮) বৃহস্পতিবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। রুমান উপজেলার তিনপাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী নাসির মিয়ার বড় ছেলে।

সূত্র জানায়, গত সোমবার শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগে অপহৃত রুমানের মা রুনা আক্তার মঙ্গলবার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। পাশাপাশি অপহরণকারীরা মুক্তিপণ চেয়ে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানানো হয়। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, অপহৃত রুমানের বাবা প্রবাসী নাসির মিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মা রুনা আক্তার রুমানকে নিজেই অপহরণ করেন। মিথ্যা অপহরণের মামলা দায়েরের ঘটনায় মা রুনা আক্তার, খালা নাসরিন আক্তার ও মামি নুসরাত জাহান লাকীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার সকালে অপহরণের পর অপহৃত রুমানকে প্রথমে দাউদকান্দির চক্রতলা গ্রামে রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রোমানের মা রুনা আক্তার বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মুক্তিপণ চাওয়ার কথাও পুলিশকে জানান।

পুলিশ মুক্তিপণ চাওয়া মুঠোফোন ও রুমানের মায়ের মুঠোফোনের সূত্র ধরে অভিযান চালায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে বুধবার রুমানকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে রুমানের খালার বাড়িতে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকায়ও অভিযান চালায়। সেখানে রুমানের ব্যবহৃত স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস পাওয়া যায়। পুলিশের অভিযান আঁচ করতে পেরে রুমানকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ রুমানকে যাত্রাবাড়ীর একটি বাস কাউন্টার এলাকা থেকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায়-রুনার বিরুদ্ধে স্বামীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ছেলেকে লুকিয়ে রেখে অপহরণ মামলা দায়েরের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে মা রুনা আক্তার জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের একটি মামলায় তার মা ও একটি হত্যা মামলায় তার ভাই কারাগারে রয়েছে। তাদের ছাড়ানোর খরচের জন্য তিনি এই নাটক সাজান। তাদের দুই বছরের আরেকটি ছেলে রয়েছে। এদিকে ফোনে বিদেশ থেকে নাসির মিয়া পুলিশের নিকট তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।