ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ইসলামে সুদের লেনদেন হারাম

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সুদ খাওয়া কবিরা গুনাহ। নামে-বেনামে যেভাবেই হোক সুদের পরিণাম ভয়ংকর। তাই তো আল্লাহ রব্বুল আলামিন সুদকে হারাম করেছেন এবং সুদি কারবার চালিয়ে যাওয়াকে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকার সমতুল্য অপরাধ বলে ঘোষণা করেছেন। খুব ভালোভাবে স্মরণ রাখতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে সুদ গ্রহীতা যেমন অভিশপ্ত তেমনিভাবে সুদদাতা, সুদের রক্ষক, সুদের সাক্ষী ও সুদের সহযোগিতাকারী সবাই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে অভিশপ্ত।

সুদ ইসলামে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ। শরিয়তের পরিভাষায় সুদ নেওয়া দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। সুদ যেহেতু শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয় সেহেতু সুদ দেওয়া নেওয়ার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ার করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। এ এজন্য যে তারা বলে, কেনাবেচা তো সুদের মতো। অথচ আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।

’ সুদকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হাদিসে। একে শিরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের গুনাহ সত্তরের অধিক আর শিরক তার সমান।’ মুসনাদে বাজ্জার, ইবনে মাজাহ। আরেক হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের মধ্যে তিয়াত্তর প্রকারের পাপ রয়েছে। এর সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের পাপ হলো নিজের মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।’ মুসতাদরাকে হাকেম।

উপরোক্ত দুটি হাদিসে সুদ যে কত পাপের তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর পাপের কাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। সুদকে এর সঙ্গে তুলনা করে আল্লাহর কাছে এটি যে কতটা অগ্রহণযোগ্য তা চিহ্নিত করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে জিনা জঘন্য অপরাধের একটি। সুদ দেওয়া নেওয়াকে তার সঙ্গে তুলনা করে এ গর্হিত কাজ থেকে মুমিনদের দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সুদের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যখন কোনো এলাকায় সুদ ও জিনা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয় তখন ওই এলাকার অধিবাসীরা আল্লাহর আজাব নিজের ওপর টেনে নিয়ে আসে।’ আল মুসতাদরাক। বর্তমানে দুনিয়ায় সুদের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে এবং তা সবকিছু গ্রাস করতে চলেছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামতের আগে এমন একটি সময় আসবে কোনো ব্যক্তিই সুদ খাওয়া থেকে বেঁচে থাকবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ইসলামে সুদের লেনদেন হারাম

আপডেট সময় ০৯:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সুদ খাওয়া কবিরা গুনাহ। নামে-বেনামে যেভাবেই হোক সুদের পরিণাম ভয়ংকর। তাই তো আল্লাহ রব্বুল আলামিন সুদকে হারাম করেছেন এবং সুদি কারবার চালিয়ে যাওয়াকে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকার সমতুল্য অপরাধ বলে ঘোষণা করেছেন। খুব ভালোভাবে স্মরণ রাখতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে সুদ গ্রহীতা যেমন অভিশপ্ত তেমনিভাবে সুদদাতা, সুদের রক্ষক, সুদের সাক্ষী ও সুদের সহযোগিতাকারী সবাই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে অভিশপ্ত।

সুদ ইসলামে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ। শরিয়তের পরিভাষায় সুদ নেওয়া দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। সুদ যেহেতু শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয় সেহেতু সুদ দেওয়া নেওয়ার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ার করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। এ এজন্য যে তারা বলে, কেনাবেচা তো সুদের মতো। অথচ আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।

’ সুদকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হাদিসে। একে শিরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের গুনাহ সত্তরের অধিক আর শিরক তার সমান।’ মুসনাদে বাজ্জার, ইবনে মাজাহ। আরেক হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের মধ্যে তিয়াত্তর প্রকারের পাপ রয়েছে। এর সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের পাপ হলো নিজের মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।’ মুসতাদরাকে হাকেম।

উপরোক্ত দুটি হাদিসে সুদ যে কত পাপের তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর পাপের কাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। সুদকে এর সঙ্গে তুলনা করে আল্লাহর কাছে এটি যে কতটা অগ্রহণযোগ্য তা চিহ্নিত করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে জিনা জঘন্য অপরাধের একটি। সুদ দেওয়া নেওয়াকে তার সঙ্গে তুলনা করে এ গর্হিত কাজ থেকে মুমিনদের দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সুদের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যখন কোনো এলাকায় সুদ ও জিনা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয় তখন ওই এলাকার অধিবাসীরা আল্লাহর আজাব নিজের ওপর টেনে নিয়ে আসে।’ আল মুসতাদরাক। বর্তমানে দুনিয়ায় সুদের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে এবং তা সবকিছু গ্রাস করতে চলেছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামতের আগে এমন একটি সময় আসবে কোনো ব্যক্তিই সুদ খাওয়া থেকে বেঁচে থাকবে না।