ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় আমির হামজার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু

ইসলামে সুদের লেনদেন হারাম

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সুদ খাওয়া কবিরা গুনাহ। নামে-বেনামে যেভাবেই হোক সুদের পরিণাম ভয়ংকর। তাই তো আল্লাহ রব্বুল আলামিন সুদকে হারাম করেছেন এবং সুদি কারবার চালিয়ে যাওয়াকে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকার সমতুল্য অপরাধ বলে ঘোষণা করেছেন। খুব ভালোভাবে স্মরণ রাখতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে সুদ গ্রহীতা যেমন অভিশপ্ত তেমনিভাবে সুদদাতা, সুদের রক্ষক, সুদের সাক্ষী ও সুদের সহযোগিতাকারী সবাই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে অভিশপ্ত।

সুদ ইসলামে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ। শরিয়তের পরিভাষায় সুদ নেওয়া দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। সুদ যেহেতু শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয় সেহেতু সুদ দেওয়া নেওয়ার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ার করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। এ এজন্য যে তারা বলে, কেনাবেচা তো সুদের মতো। অথচ আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।

’ সুদকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হাদিসে। একে শিরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের গুনাহ সত্তরের অধিক আর শিরক তার সমান।’ মুসনাদে বাজ্জার, ইবনে মাজাহ। আরেক হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের মধ্যে তিয়াত্তর প্রকারের পাপ রয়েছে। এর সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের পাপ হলো নিজের মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।’ মুসতাদরাকে হাকেম।

উপরোক্ত দুটি হাদিসে সুদ যে কত পাপের তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর পাপের কাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। সুদকে এর সঙ্গে তুলনা করে আল্লাহর কাছে এটি যে কতটা অগ্রহণযোগ্য তা চিহ্নিত করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে জিনা জঘন্য অপরাধের একটি। সুদ দেওয়া নেওয়াকে তার সঙ্গে তুলনা করে এ গর্হিত কাজ থেকে মুমিনদের দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সুদের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যখন কোনো এলাকায় সুদ ও জিনা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয় তখন ওই এলাকার অধিবাসীরা আল্লাহর আজাব নিজের ওপর টেনে নিয়ে আসে।’ আল মুসতাদরাক। বর্তমানে দুনিয়ায় সুদের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে এবং তা সবকিছু গ্রাস করতে চলেছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামতের আগে এমন একটি সময় আসবে কোনো ব্যক্তিই সুদ খাওয়া থেকে বেঁচে থাকবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে শপিংমলে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু

ইসলামে সুদের লেনদেন হারাম

আপডেট সময় ০৯:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

সুদ খাওয়া কবিরা গুনাহ। নামে-বেনামে যেভাবেই হোক সুদের পরিণাম ভয়ংকর। তাই তো আল্লাহ রব্বুল আলামিন সুদকে হারাম করেছেন এবং সুদি কারবার চালিয়ে যাওয়াকে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত থাকার সমতুল্য অপরাধ বলে ঘোষণা করেছেন। খুব ভালোভাবে স্মরণ রাখতে হবে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে সুদ গ্রহীতা যেমন অভিশপ্ত তেমনিভাবে সুদদাতা, সুদের রক্ষক, সুদের সাক্ষী ও সুদের সহযোগিতাকারী সবাই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের দৃষ্টিতে অভিশপ্ত।

সুদ ইসলামে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ। শরিয়তের পরিভাষায় সুদ নেওয়া দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। সুদ যেহেতু শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হয় সেহেতু সুদ দেওয়া নেওয়ার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে কঠোর হুঁশিয়ার করা হয়েছে। সুরা বাকারার ২৭৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা সেই ব্যক্তির মতো দাঁড়াবে যাকে শয়তান স্পর্শ দ্বারা পাগল করে। এ এজন্য যে তারা বলে, কেনাবেচা তো সুদের মতো। অথচ আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।

’ সুদকে জঘন্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হাদিসে। একে শিরকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের গুনাহ সত্তরের অধিক আর শিরক তার সমান।’ মুসনাদে বাজ্জার, ইবনে মাজাহ। আরেক হাদিসে রসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সুদের মধ্যে তিয়াত্তর প্রকারের পাপ রয়েছে। এর সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের পাপ হলো নিজের মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।’ মুসতাদরাকে হাকেম।

উপরোক্ত দুটি হাদিসে সুদ যে কত পাপের তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর পাপের কাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। সুদকে এর সঙ্গে তুলনা করে আল্লাহর কাছে এটি যে কতটা অগ্রহণযোগ্য তা চিহ্নিত করা হয়েছে। মায়ের সঙ্গে জিনা জঘন্য অপরাধের একটি। সুদ দেওয়া নেওয়াকে তার সঙ্গে তুলনা করে এ গর্হিত কাজ থেকে মুমিনদের দূরে থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সুদের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যখন কোনো এলাকায় সুদ ও জিনা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয় তখন ওই এলাকার অধিবাসীরা আল্লাহর আজাব নিজের ওপর টেনে নিয়ে আসে।’ আল মুসতাদরাক। বর্তমানে দুনিয়ায় সুদের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে এবং তা সবকিছু গ্রাস করতে চলেছে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কিয়ামতের আগে এমন একটি সময় আসবে কোনো ব্যক্তিই সুদ খাওয়া থেকে বেঁচে থাকবে না।