ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

‘বাড়ি গিয়ে সাবান দিয়ে গোসল করলেই হবে’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

টাঙ্গাইলে দীর্ঘ দেড় মাস পর রোববার মার্কেটগুলো খুলেছে। প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্য বিধি না মেনে প্রতিটি মার্কেটে উপচেপড়া ঢল নামে ক্রেতাদের।

এ কারণে জেলা প্রশাসন সোমবার শহরে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তাতেও মার্কেটগুলো মানুষের ভিড় কমেনি। মানুষ পায়ে হেটেই ঈদের কেনাকাটা করতে ব্যস্ত। এ অবস্থা চলতে থাকলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে অনেকে শিশুসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন। জানতে চাইলে অনেকে মন্তব্য করেন, বাড়িতে গিয়ে সাবান দিয়ে গোসল করবো, তাতেই হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য গত ২৫ মার্চ থেকে টাঙ্গাইলের মার্কেটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ঈদকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোববার থেকে দোকানপাট খোলার উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। প্রথম দিন ভিড় হওয়ায় সোমবার থেকে চালকদের প্রনোদনা দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

রোববার সকাল থেকেই শহরের পুরাতন আদালত সড়কের মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেট, টাঙ্গাইল প্লাজা, হীরা সুপার মার্কেট, রাজধানী সুপার মার্কেট, কালিবাড়ী রোডের সবুর খান টাওয়ার, পৌর সুপার মার্কেটসহ শহরের সবগুলো মার্কেটে ভিড় লেগে যায়।

সরেজমিন মার্কেট গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি মার্কেটের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু মানুষ খুব কমই হাত ধুচ্ছে। দোকানগুলোতে ভিড়ের কারণে খুব কাছাকাছি দাড়িয়ে কেনাকাটা করছেন।

টাঙ্গাইল প্লাজায় বাসাইল উপজেলা থেকে আসা শফিকুল ইসলাম জানান, ছেলে মেয়েদের ঈদের পোশাক কেনার জন্য পুরো পরিবার এসেছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাড়িতে গিয়ে সাবান দিয়ে গোসল করবো, তাতেই হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। ঈদের আগে কয়েকটা দিন বেচাকেনা করতে পারলে দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন অন্তত দেয়া যাবে। তাই ঝুঁকি থাকলেও তারা দোকান খুলেছেন।

সরকারি এমএম আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা জানান, করোনাভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে দোকানপাট বন্ধ রাখলেই ভাল হতো। এভাবে মার্কেট খোলা রাখায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে পড়ছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও শফিকুল ইসলাম জানান, এভাবে মার্কেটের দোকানপাট খোলায় মানুষ অনেক বেশি করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা জানান, সোমবার সকাল থেকে শহরে রিকশা, অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে বাহিরের মানুষ মার্কেটে আসতে পারবে না। শুধু শহরের মানুষ কেনাকাটা করবে। তখন ভিড় এতো থাকবে না। এর পরও যদি ভিড় হয় তবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, সোমবার থেকে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব যানবাহনের চালকদের নগদ ৫ হাজার টাকা, চাল, ডালসহ ঈদের বাজার সামগ্রী প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেটগুলোতে যাতে বেচা কেনা হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

‘বাড়ি গিয়ে সাবান দিয়ে গোসল করলেই হবে’

আপডেট সময় ০৮:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

টাঙ্গাইলে দীর্ঘ দেড় মাস পর রোববার মার্কেটগুলো খুলেছে। প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্য বিধি না মেনে প্রতিটি মার্কেটে উপচেপড়া ঢল নামে ক্রেতাদের।

এ কারণে জেলা প্রশাসন সোমবার শহরে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তাতেও মার্কেটগুলো মানুষের ভিড় কমেনি। মানুষ পায়ে হেটেই ঈদের কেনাকাটা করতে ব্যস্ত। এ অবস্থা চলতে থাকলে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে অনেকে শিশুসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছেন। জানতে চাইলে অনেকে মন্তব্য করেন, বাড়িতে গিয়ে সাবান দিয়ে গোসল করবো, তাতেই হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য গত ২৫ মার্চ থেকে টাঙ্গাইলের মার্কেটগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ঈদকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রোববার থেকে দোকানপাট খোলার উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। প্রথম দিন ভিড় হওয়ায় সোমবার থেকে চালকদের প্রনোদনা দিয়ে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

রোববার সকাল থেকেই শহরের পুরাতন আদালত সড়কের মাহমুদুল হাসান কলেজ মার্কেট, টাঙ্গাইল প্লাজা, হীরা সুপার মার্কেট, রাজধানী সুপার মার্কেট, কালিবাড়ী রোডের সবুর খান টাওয়ার, পৌর সুপার মার্কেটসহ শহরের সবগুলো মার্কেটে ভিড় লেগে যায়।

সরেজমিন মার্কেট গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি মার্কেটের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিন্তু মানুষ খুব কমই হাত ধুচ্ছে। দোকানগুলোতে ভিড়ের কারণে খুব কাছাকাছি দাড়িয়ে কেনাকাটা করছেন।

টাঙ্গাইল প্লাজায় বাসাইল উপজেলা থেকে আসা শফিকুল ইসলাম জানান, ছেলে মেয়েদের ঈদের পোশাক কেনার জন্য পুরো পরিবার এসেছেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাড়িতে গিয়ে সাবান দিয়ে গোসল করবো, তাতেই হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। ঈদের আগে কয়েকটা দিন বেচাকেনা করতে পারলে দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন অন্তত দেয়া যাবে। তাই ঝুঁকি থাকলেও তারা দোকান খুলেছেন।

সরকারি এমএম আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা জানান, করোনাভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে দোকানপাট বন্ধ রাখলেই ভাল হতো। এভাবে মার্কেট খোলা রাখায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে পড়ছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও শফিকুল ইসলাম জানান, এভাবে মার্কেটের দোকানপাট খোলায় মানুষ অনেক বেশি করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে।

জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যজোটের সভাপতি আবুল কালাম মোস্তফা জানান, সোমবার সকাল থেকে শহরে রিকশা, অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে বাহিরের মানুষ মার্কেটে আসতে পারবে না। শুধু শহরের মানুষ কেনাকাটা করবে। তখন ভিড় এতো থাকবে না। এর পরও যদি ভিড় হয় তবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম জানান, সোমবার থেকে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব যানবাহনের চালকদের নগদ ৫ হাজার টাকা, চাল, ডালসহ ঈদের বাজার সামগ্রী প্রণোদনা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেটগুলোতে যাতে বেচা কেনা হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।