ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

জেলে থেকেও পুরো মাসের বেতন পেল দফতরি!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থ আত্মসাৎ চেষ্টা মামলায় ১৫দিন জেল হাজতে থেকেও সরকারি বেতন-ভাতার পুরো অর্থ উঠিয়ে নিয়েছে এক স্কুল দফতরি। বাগেরহাটের শরখোলা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামের যোগসাজশে ওই দফতরি এমন সুযোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী, উপজেলার ধানসাগর ইউপির খেজুরবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক) শরীফ ফিরোজ-অর-রশিদ বলেন, তিনি অবসরে যাওয়ার পর ২০১৭ সালে একই এলাকার বাসিন্দা আ. ছালাম হাওলাদার ছেলে ও পার্শ্ববর্তী ১ নম্বর খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি মো: সোহাগ হাওলাদার তার বাবা ও মাকে সঙ্গে নিয়ে একটি ফাঁকা চেকের অনুকূলে তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয়। যা পরবর্তী তিন মাস পর পরিশোধ করার কথা।

কিন্তু এরইমধ্যে তিন বছর অতিবাহিত হলেও সোহাগ ওই টাকা পরিশোধ না করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করেন। তাই টাকা উদ্ধারের জন্য তিনি তার এক পরিচিত অ্যাডভোকেটের সহায়তায় ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে সোহাগের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে চলতি বছরের ১২মার্চ সোহাগকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে শরণখোলা থানা পুলিশ। ওই মামলায় ১৫ দিন জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আসেন তিনি।

অপরদিকে, রহস্যজনকভাবে চলতি বছরের মার্চ মাসের পুরো বেতন-ভাতার টাকা জনতা ব্যাংক শরণখোলা শাখায় সোহাগের হিসাব নম্বরে জমা হলে তা তুলে নেয় সোহাগ। সাবেক এক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ওই কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত হবে কিন্তু জীবন বাঁচাতে কিছু টাকা পাবেন তিনি । তবে, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা জড়িত তা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না । কারণ মামলার বিষয়টি তিনি না জেনেও ওই কর্মচারীর বিলে স্বাক্ষর করতে পারেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা .আশরাফুল ইসলাম জানান ,বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি। এ ক্ষেত্রে আমার কোনো দায় নেই। এছাড়া দফতরি সোহাগ হাওলাদার বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাসান হাওলাদার বলেন, সোহাগকে পুলিশ ধরে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি (টিও) স্যারকে মামলার বিষয়টি জানিয়েছি এবং ঘটনাটি শিক্ষা অফিসের সবাই জানে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

জেলে থেকেও পুরো মাসের বেতন পেল দফতরি!

আপডেট সময় ১১:১৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অর্থ আত্মসাৎ চেষ্টা মামলায় ১৫দিন জেল হাজতে থেকেও সরকারি বেতন-ভাতার পুরো অর্থ উঠিয়ে নিয়েছে এক স্কুল দফতরি। বাগেরহাটের শরখোলা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামের যোগসাজশে ওই দফতরি এমন সুযোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী, উপজেলার ধানসাগর ইউপির খেজুরবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক) শরীফ ফিরোজ-অর-রশিদ বলেন, তিনি অবসরে যাওয়ার পর ২০১৭ সালে একই এলাকার বাসিন্দা আ. ছালাম হাওলাদার ছেলে ও পার্শ্ববর্তী ১ নম্বর খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি মো: সোহাগ হাওলাদার তার বাবা ও মাকে সঙ্গে নিয়ে একটি ফাঁকা চেকের অনুকূলে তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয়। যা পরবর্তী তিন মাস পর পরিশোধ করার কথা।

কিন্তু এরইমধ্যে তিন বছর অতিবাহিত হলেও সোহাগ ওই টাকা পরিশোধ না করে তা আত্মসাতের চেষ্টা করেন। তাই টাকা উদ্ধারের জন্য তিনি তার এক পরিচিত অ্যাডভোকেটের সহায়তায় ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে সোহাগের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

ওই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে চলতি বছরের ১২মার্চ সোহাগকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে শরণখোলা থানা পুলিশ। ওই মামলায় ১৫ দিন জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আসেন তিনি।

অপরদিকে, রহস্যজনকভাবে চলতি বছরের মার্চ মাসের পুরো বেতন-ভাতার টাকা জনতা ব্যাংক শরণখোলা শাখায় সোহাগের হিসাব নম্বরে জমা হলে তা তুলে নেয় সোহাগ। সাবেক এক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ওই কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত হবে কিন্তু জীবন বাঁচাতে কিছু টাকা পাবেন তিনি । তবে, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা জড়িত তা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না । কারণ মামলার বিষয়টি তিনি না জেনেও ওই কর্মচারীর বিলে স্বাক্ষর করতে পারেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা .আশরাফুল ইসলাম জানান ,বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি। এ ক্ষেত্রে আমার কোনো দায় নেই। এছাড়া দফতরি সোহাগ হাওলাদার বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাসান হাওলাদার বলেন, সোহাগকে পুলিশ ধরে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি (টিও) স্যারকে মামলার বিষয়টি জানিয়েছি এবং ঘটনাটি শিক্ষা অফিসের সবাই জানে।