আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
স্বামীহারা এই নারীর সংসার চলত অন্যের বাড়িতে কাজ করে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বর্তমানে সে কাজও বন্ধ। নেই আয়ের কোনো পথ। নিজের ও সাত বছর বয়সী মেয়ের ক্ষুধা নিবারণে বাধ্য হয়ে অন্যের কাছে হাত পাতছেন তিনি। বয়স কম হওয়ায় কেউ ভিক্ষাও দিচ্ছেন না।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা ওই নারীর এমন করুণ চিত্র বেশ কিছুদিন ধরে দেখেছেন স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস্ নেটওয়ার্ক-স্ক্যান এর সভাপতি জাহাঙ্গীর নাকীর।
জাহাঙ্গীর জানান, তিনি ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে বিপাকে পড়া এই নারী তাকে জানিয়েছেন, তার স্বামী প্রায় এক বছর আগে মারা গেছেন। তার সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে। গ্রামের বাড়ি ভোলা। ঢাকায় বাসা বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছিলেন। বর্তমানে তিনি কর্মহীন। কেউ এখন কাজেও নিচ্ছে না।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ক্ষিধার জ্বালায় রাস্তায় গিয়ে হাত পাতে। কম বয়সী বলে কেউ সাহায্য করে না। কয়েকদিন থেকেই লক্ষ্য করছি। কেউই তাকে সাহায্য করছে না। খালি হাতে ফিরে আসে। আগে কাজ করে যা সঞ্চয় করেছিল তাও ফুরিয়ে গেছে। সাত বছরের একটাই মাত্র মেয়ে। দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সব মিলিয়ে দিশেহারা। কাজ করতে চায়। কিন্তু কাজ তো নেই। কয়েকদিন থেকে যোগাযোগ করছে আর বলছে, – হয় কাজ দেন নাইলে কিছু খাবার দেন স্যার। বললাম লকডাউন শেষ হোক। কাদো কাদো গলায় গতরাতে (সোমবার) ফোন কলে জানায়, স্যার আপনি তো কত মানুষকে সাহায্য করছেন। আমাকে কিছু খাবার দেন। মেয়েটা না খাইয়া আছে। আর সইতে পারি না।
মঙ্গলবার সকালে ওই নারীকে ডেকে এনে তার হাতে এক সপ্তাহের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন জাহাঙ্গীর নাকীর। তিনি বলেন, ‘সাত দিনের খাবার তার হাতে তুলে দিয়েছি। আর বলেছি লকডাউনের পরে যোগাযোগ করবে। তোমার একটা কাজ দিব। তোমার মেয়ের লেখাপড়ার দায়িত্বও নেব।‘
বর্তমান পরিস্থিতিতে সমাজের সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এভাবে কতজনের দায়িত্ব নেব? প্রতিদিন শত শত মানুষের আহাজারি! আপনারা যারা সামর্থ্যবান আছেন, মানুষের কল্যাণে এই দুঃসময়ে তারা এগিয়ে আসতে পারেন।‘
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























