ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

করোনা নয়, ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে যমুনা পাড়ের মানুষ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৈশাখ মাস সবেমাত্র শুরু। মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও যমুনা নদীতে জোয়ার শুরু হয়নি। বর্ষা মৌসুম আসতে এখনো প্রায় তিন মাস দেরি। এ অবস্থাতেই সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে শঙ্কা নিয়ে দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষগুলোর। করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) চেয়ে নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে রয়েছে তারা।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানাধীন খুকনী, জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের যমুনা নদী তীরবর্তী পাঁচ কিলোমিটার এলাকা গত কয়েক বছর ধরেই ভাঙনের কবলে পড়েছে। বাড়িঘর ও ফসলি জমি হারিয়েছে এসব ইউনিয়নের ব্রহ্মণগ্রাম, আরকান্দি, পাকুরতলা, পুঁটিপাড়া, বাঐখোলা, ঘাটাবাড়ি, ভেকা, জালালপুর, চিলাপাড়া ও হাট পাচিলসহ ১০ গ্রামের মানুষ। কয়েক বছরের ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামগুলো। এ বছর বর্ষা মৌসুম আসার আগেই ফের ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে ভাঙন কবলিত মানুষেরা।

দফায় দফায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সাব্বির হোসেন, আলমগীর হোসেন, নুরুল মির্জা, আমিরুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ আলী, সাহেরা খাতুন, মোমেনা খাতুন জসিম উদ্দিন ও এমদাদ আলীসহ অনেকেই বলেন, করোনা এসেছে, আবার চলেও যাবে। কিন্তু নদীভাঙনে যদি বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায় সেটা আর ফিরে আসবে না। তাই করোনা নয়, যমুনাই আমাদের আতঙ্কের কারণ।

তারা বলেন, গত বছরের ভাঙ্গনে এসব গ্রামের কমপক্ষে চার শতাধিক বাড়িঘর, তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুইটি মসজিদ, দুইটি ঈদগাহ মাঠ, একটি মন্দির, কবরস্থান ও ৫০টি তাঁত কারখানাসহ আবাদি জমি ও কাঁচা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এবার আগে থেকেই তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভাঙনরোধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা অনেক মানববন্ধন করেছি, তাতে কোনো লাভ হয়নি।

খুকনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন, অসময়েই যমুনার ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবারের বর্ষায় এ গ্রামগুলি মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে যাবে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ শামসুজ্জোহা  বলেন, অচিরেই এখানকার ভাঙ্গন রোধে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হবে। এটি হলে তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙ্গন রোধে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মণগ্রাম হতে হাটপাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় তীরসংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ, চর ড্রেজিং ও নদী শাসন রয়েছে। এ প্রস্তাবটি প্রি-একনেকে খসড়া আকারে অনুমোদনও হয়েছে। এখন একনেকে পাস হলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া এ বছর বর্ষার আগে ভাঙ্গন ঠেকাতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বালুর বস্তা ফেলে কাজ শুরু হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

করোনা নয়, ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে যমুনা পাড়ের মানুষ

আপডেট সময় ০৫:০৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বৈশাখ মাস সবেমাত্র শুরু। মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টিপাত হলেও যমুনা নদীতে জোয়ার শুরু হয়নি। বর্ষা মৌসুম আসতে এখনো প্রায় তিন মাস দেরি। এ অবস্থাতেই সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে শঙ্কা নিয়ে দিন কাটছে তীরবর্তী মানুষগুলোর। করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) চেয়ে নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে রয়েছে তারা।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানাধীন খুকনী, জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের যমুনা নদী তীরবর্তী পাঁচ কিলোমিটার এলাকা গত কয়েক বছর ধরেই ভাঙনের কবলে পড়েছে। বাড়িঘর ও ফসলি জমি হারিয়েছে এসব ইউনিয়নের ব্রহ্মণগ্রাম, আরকান্দি, পাকুরতলা, পুঁটিপাড়া, বাঐখোলা, ঘাটাবাড়ি, ভেকা, জালালপুর, চিলাপাড়া ও হাট পাচিলসহ ১০ গ্রামের মানুষ। কয়েক বছরের ভাঙনে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামগুলো। এ বছর বর্ষা মৌসুম আসার আগেই ফের ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে ভাঙন কবলিত মানুষেরা।

দফায় দফায় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সাব্বির হোসেন, আলমগীর হোসেন, নুরুল মির্জা, আমিরুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ আলী, সাহেরা খাতুন, মোমেনা খাতুন জসিম উদ্দিন ও এমদাদ আলীসহ অনেকেই বলেন, করোনা এসেছে, আবার চলেও যাবে। কিন্তু নদীভাঙনে যদি বাড়িঘর বিলীন হয়ে যায় সেটা আর ফিরে আসবে না। তাই করোনা নয়, যমুনাই আমাদের আতঙ্কের কারণ।

তারা বলেন, গত বছরের ভাঙ্গনে এসব গ্রামের কমপক্ষে চার শতাধিক বাড়িঘর, তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুইটি মসজিদ, দুইটি ঈদগাহ মাঠ, একটি মন্দির, কবরস্থান ও ৫০টি তাঁত কারখানাসহ আবাদি জমি ও কাঁচা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এবার আগে থেকেই তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ভাঙনরোধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা অনেক মানববন্ধন করেছি, তাতে কোনো লাভ হয়নি।

খুকনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া বলেন, অসময়েই যমুনার ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবারের বর্ষায় এ গ্রামগুলি মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে যাবে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ শামসুজ্জোহা  বলেন, অচিরেই এখানকার ভাঙ্গন রোধে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হবে। এটি হলে তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙ্গন রোধে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মণগ্রাম হতে হাটপাচিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকায় তীরসংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ, চর ড্রেজিং ও নদী শাসন রয়েছে। এ প্রস্তাবটি প্রি-একনেকে খসড়া আকারে অনুমোদনও হয়েছে। এখন একনেকে পাস হলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া এ বছর বর্ষার আগে ভাঙ্গন ঠেকাতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বালুর বস্তা ফেলে কাজ শুরু হবে।