আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে আওয়ামী লিগের ব্যানারে নির্বাচিত হন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এর পর দ্বিতীয় দফায় নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার জন্য বিরামহীন দৌঁড়ঝাপ করছেন তিনি।
সদ্য পর্দা নেমেছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল)। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার মুকুট জিতেছে আবাহনী লিমিটেড। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প। তবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা লিগে খেলা ক্রিকেটারদের ক্যাম্প থেকে দুদিনের ছুটি দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিশ্রাম নেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা।
ছুটি পেয়েই নড়াইলে ছুটেছেন তিনি। পরিবার নয়, নিজের এলাকার উন্নয়নকাজের তদারকিতে সেখানে গেছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক। সেই তদারকিতে আবির্ভূত হয়েছেন অগ্নিমূর্তি রূপে।
গেল ২৪ এপ্রিল নড়াইলে এসেই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মাশরাফি। নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি শহরের ভেতর সড়ক ও জনপথের জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, আমিও কিন্তু নড়াইল শহরের সড়ক ও জনপথের রাস্তার ওপর বসবাস করি, আমার নানাবাড়ি পড়ছে, আমার নানাবাড়ি যদি পড়ে সবার আগে সেটিই ভাঙবেন।
দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে ম্যাশ বলেন, আমি একজন সরকারি কর্মকর্তার ফাইল রেডি করে আনছি। আমি নিজেই দুদকে কেস করবো তার নামে।
তিনি বলেন, আমি একা বলে কি হবে? আপনাদেরও এসব কাজে সহযোগিতা করতে হবে। তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে সহযোগিতা করতে হবে। এছাড়া একার পক্ষে সব সম্ভব নয়।
নড়াইলের উন্নয়ন অগ্রগতি তুলে ধরে সাংসদ বলেন, ইতিমধ্যে একটি টিম দিয়ে নড়াইল উন্নয়ন মাস্টার প্লান’র কাজ শুরু করা হয়েছে। আমরা একটি পরিকল্পিত মডেল জেলা গড়তে চাই। পৌরসভার উন্নয়নের জন্য পাঁচ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনরোধে কাজ চলছে।
বিভিন্ন দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করে মাশরাফি বলেন, যারা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়, তারাও ওই দোষে দোষী। আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যদি কেউ হুমকি দেয় তা হলে আমাকে জানাবেন। কারো বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম পেলে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে নড়াইলের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির তথ্য আমার হাতে এসেছে। আমি নিজেই ওই কর্মকর্তার নামে দুদকে মামলা করবো।
পরিকল্পিতভাবে নড়াইল শহরের উন্নয়ন, নদীর নাব্যতা রক্ষায় চিত্রা ও নবগঙ্গা নদী পুনর্খনন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষাখাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে কাজ হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার কাছে অনেকেই আসেন ব্যক্তিগত সহযোগিতার জন্য। কেউ আসেন চাকুরির জন্য, আবার কেউ আসেন ব্যক্তিগত সহযোগিতার জন্য। আপনারা আমার কাছে আসবেন, আপনার এলাকার উন্নয়নের জন্য।
সবশেষে বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন,আমরা আগামী ৩০ মে ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। আপনার সবাই দোয়া করবেন। আমরা যেন দেশকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারি। ২ জুন ওভালে প্রথম বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা খেলা হবে।
মতবিনিময় সভায় জেলা পর্যায় সব সরকারিদপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















