অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ফের নেয়া হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ঘ ইউনিটের অধীনে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা।
শুক্রবার বিকালে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
১ হাজার ৬১৫টি আসনের বিপরীতে ১৮ হাজার ৪৬৩ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বাতিল হয়েছিল।
এবারের ভর্তি পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের থেকে প্রশ্নপত্রের কপি রেখে দেয়া হয়েছে। এর আগে এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের দিয়ে দেয়া হতো।
ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।
এখন থেকে ঘ ইউনিটের পরীক্ষার প্রশ্ন রেখে দেয়া হবে। তবে প্রশ্নপত্র রেখে দেয়ার বিস্তারিত কারণ জানা যায়নি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কলা ভবন কেন্দ্রে আটকে দেয়া হয়।
বেলা ২টা ৪৭ মিনিটে কেন্দ্রটির মূল ফটক আটকে দিলে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।
এ সময় দরজার ওপরের অংশে থাকা কাচ ভেঙে মাথায় পড়লে এক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়।
এদিকে পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশ্নপত্রটি বিগত প্রশ্নপত্রের চেয়ে কিছুটা কঠিন হয়েছে।
মেহেদী হাসান নামের এক শিক্ষার্থী যুগান্তরকে বলেন, এবারের প্রশ্নপত্র বিগত পরীক্ষার চেয়ে একটু কঠিন হয়েছে। সাধারণ জ্ঞান অংশের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ভাগে প্রশ্নগুলো বেশি কঠিন ছিল। ইংরেজি অংশেও বিগত পরীক্ষার চেয়ে প্রশ্ন কিছুটা কঠিন ছিল।
পরীক্ষার সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানী সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচষ্টোয় পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে যারা প্রশ্নবদ্ধি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ছিলে। যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে।
এদিকে হাইকোর্টের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ পুনঃভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেয়ার নির্দেশ দেন।
তবে ওই শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় আপিল করলে তা ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
এর আগে ১২ অক্টোবর শুক্রবার বেলা ১০টায় ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। টানা তৃতীয়বারের মতো ইউনিটটির ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে।
সেদিন বেলা ১০টায় পরীক্ষা শুরুর আগে সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়।
বেলা ১১টায় পরীক্ষা শেষ হলে হাতে লেখা ওই উত্তরপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, সেখানে বাংলা অংশে ১৯টি, ইংরেজি অংশে ১৭টি, সাধারণ জ্ঞান অংশে ৩৬টিসহ মোট ৭২টি প্রশ্নের হুবহু মিল রয়েছে।
ঘ ইউনিটে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান এ তিনটি বিষয়ে মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকে। এ অবস্থায় পরীক্ষা বাতিল না করে ফলাফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরবর্তীতে তীব্র আন্দোলন ও সমালোচনার মুখে ২৩ অক্টোবর ডিনস কমিটির এক সভায় কেবল পাসকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পরীক্ষা চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারম্নজ্জামান ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ঘ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আজিজ, ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রমুখ।
ঢাবি অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের বাণিজ্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
চলতি শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির বাণিজ্য ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে মোট সাতটি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৫ হাজার ২১০টি আসনের বিপরীতে ২২ হাজার ৬৭১ জন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















