ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান নির্বাচনে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে: সেনাপ্রধান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবের কবর জিয়ারত করে প্রচারণা শুরু স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রয়োজনে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবো : মামুনুল হক তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে অসুস্থ ফজলুর রহমান গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিকল্প নেই : ড. মোশাররফ এবার দুষ্কৃতকারীদের ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু

নিজেদের কনটেন্ট বাড়াতে বাংলাদেশ ই-গভর্নেন্স ফোরামের আহ্বান

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

নিজেদের কনটেন্ট ছাড়া ইন্টারনেট দুনিয়ায় দেশকে তুলে ধরার কোনো উপায় নেই। মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দিতে পারলেই ইন্টারনেটে নিজেদের ভিত মজবুত করা সম্ভব হবে।

‘বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম ২০১৮’ আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনায় এমন কথা বলেন বক্তারা। বক্তারা বলেন, মানুষ কেন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, তার চাহিদা কী সেটা আগে খুঁজে বের করতে হবে।

তারপর সে অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। তবেই এই সফলতা আসবে। বাংলাদেশ ইন্টারনেটের বড় বাজার এবং এমন বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আসতে বাধ্য। তবে তার আগে নিজেদের সঠিক জায়গায় নিতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সিরডাপ মিলনায়তনে দিনব্যাপী ওই আয়োজন শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের চেয়ারম্যান আকরাম এইচ চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেটকে আমরা ব্যবহার করেছি কৃষিতে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে আমরা বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তবে সেগুলোতে চ্যালেঞ্জ ছিল। বাংলা ভাষায় আরও কনটেন্ট তৈরি করতে পারলে সব ক্ষেত্রে সাধারণের জন্যও তা ব্যবহার সহজ হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিভি, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ইন্টারনেটকে ছাড়া যেহেতু আমরা কোনো কিছুই কল্পনা করতে পারছি না, তাই এর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

ইউরোপে ডেটার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর আইন হচ্ছে। দেশেও সে সব নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। তিনি ভাষার বাধা কাটিয়ে উঠে নিজেদের ভাষায় কনটেন্ট তৈরির আহ্বান জানান। এতে আইজেএফ বড় ভূমিকার রাখতে পারে বলে মত দেন তিনি।

সাউথ এশিয়া আর্টিকেল১৯-এর আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফাইসাল বলেন, ইন্টারনেটকে কোনোভাবেই শুধু নিয়মনীতির বেড়াজালে বন্দি করে কঠোর করলে হবে না। তাহলে বিশ্বে নিজেদের নামে কিছু করতে গেলে পা পিছলে পড়তে হবে।

ইন্টারনেট প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ছে এটা আশার কথা। কিন্তু আমরা এর কতটা প্রোডাক্টিভ কাজে লাগাতে পারছি সেটা দেখতে হবে।

ট্রান্সমিশন খরচের জন্য প্রত্যন্ত এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাতে শহরের চেয়ে কয়েক গুণ খরচ হয়। তাই তারাও কমদামে সেটি পায় না। এদিকে সরকারকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মহাপরিচালক (ইঅ্যান্ডও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা কামাল তার বক্তব্যে বলেন, আমরা ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা নিয়ে অনেকটাই যুদ্ধ করেছি।

সেখানে সফল হয়েছি। এখন অন্য ধরনের যুদ্ধ করতে হবে। সেটা মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির। তিনি বলেন, গ্রামে যেভাবে স্যাটেলাইট টিভির সংযোগ দেয়া হয়, সেই মডেলে আমরা ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিতে পারি। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। তবে তার আগে দরকার নিজেদের কনটেন্ট।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউএন ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মাদ আবদুল হক অনু। আগামী ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর ফ্রান্সে বসছে ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের মূল আয়োজন। সেখানে বাংলাদেশ থেকেই সংগঠনটির প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারও নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : তারেক রহমান

নিজেদের কনটেন্ট বাড়াতে বাংলাদেশ ই-গভর্নেন্স ফোরামের আহ্বান

আপডেট সময় ১০:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর ২০১৮

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

নিজেদের কনটেন্ট ছাড়া ইন্টারনেট দুনিয়ায় দেশকে তুলে ধরার কোনো উপায় নেই। মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দিতে পারলেই ইন্টারনেটে নিজেদের ভিত মজবুত করা সম্ভব হবে।

‘বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরাম ২০১৮’ আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচনায় এমন কথা বলেন বক্তারা। বক্তারা বলেন, মানুষ কেন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, তার চাহিদা কী সেটা আগে খুঁজে বের করতে হবে।

তারপর সে অনুযায়ী কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। তবেই এই সফলতা আসবে। বাংলাদেশ ইন্টারনেটের বড় বাজার এবং এমন বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আসতে বাধ্য। তবে তার আগে নিজেদের সঠিক জায়গায় নিতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সিরডাপ মিলনায়তনে দিনব্যাপী ওই আয়োজন শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বরেন্দ্র বহুমুখী প্রকল্পের চেয়ারম্যান আকরাম এইচ চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেটকে আমরা ব্যবহার করেছি কৃষিতে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে আমরা বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। তবে সেগুলোতে চ্যালেঞ্জ ছিল। বাংলা ভাষায় আরও কনটেন্ট তৈরি করতে পারলে সব ক্ষেত্রে সাধারণের জন্যও তা ব্যবহার সহজ হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিভি, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ইন্টারনেটকে ছাড়া যেহেতু আমরা কোনো কিছুই কল্পনা করতে পারছি না, তাই এর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

ইউরোপে ডেটার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর আইন হচ্ছে। দেশেও সে সব নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। তিনি ভাষার বাধা কাটিয়ে উঠে নিজেদের ভাষায় কনটেন্ট তৈরির আহ্বান জানান। এতে আইজেএফ বড় ভূমিকার রাখতে পারে বলে মত দেন তিনি।

সাউথ এশিয়া আর্টিকেল১৯-এর আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফাইসাল বলেন, ইন্টারনেটকে কোনোভাবেই শুধু নিয়মনীতির বেড়াজালে বন্দি করে কঠোর করলে হবে না। তাহলে বিশ্বে নিজেদের নামে কিছু করতে গেলে পা পিছলে পড়তে হবে।

ইন্টারনেট প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ছে এটা আশার কথা। কিন্তু আমরা এর কতটা প্রোডাক্টিভ কাজে লাগাতে পারছি সেটা দেখতে হবে।

ট্রান্সমিশন খরচের জন্য প্রত্যন্ত এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাতে শহরের চেয়ে কয়েক গুণ খরচ হয়। তাই তারাও কমদামে সেটি পায় না। এদিকে সরকারকে নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মহাপরিচালক (ইঅ্যান্ডও) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা কামাল তার বক্তব্যে বলেন, আমরা ইন্টারনেটে বাংলা ভাষা নিয়ে অনেকটাই যুদ্ধ করেছি।

সেখানে সফল হয়েছি। এখন অন্য ধরনের যুদ্ধ করতে হবে। সেটা মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির। তিনি বলেন, গ্রামে যেভাবে স্যাটেলাইট টিভির সংযোগ দেয়া হয়, সেই মডেলে আমরা ব্রডব্যান্ড সংযোগ দিতে পারি। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। তবে তার আগে দরকার নিজেদের কনটেন্ট।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউএন ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মাদ আবদুল হক অনু। আগামী ১২ থেকে ১৪ নভেম্বর ফ্রান্সে বসছে ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের মূল আয়োজন। সেখানে বাংলাদেশ থেকেই সংগঠনটির প্রতিনিধিত্ব থাকবে।