ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুকুর-কুমির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় টাউন হল সভা চালু থাকবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশে ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে গেছে: প্রতিমন্ত্রী ‘এক-এগারোর’ মাসুদ উদ্দিন ফের ৪ দিনের রিমান্ডে কাল থেকে ৪ সিটিতে হামের টিকা শুরু, যাদের না দেয়ার পরামর্শ জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির ‘নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়’ কক্সবাজারের পর্যটন স্পটে মিলবে ফ্রি ইন্টারনেট: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী তেল আছে শুধু সংসদে: জামায়াত আমির

হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের সহযোগী রুবেল আহমেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার গভীর রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে রুবেলকে আদালতে হাজির করে সিআইডি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুর কাদির ভূঁঞা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মো. রুকনুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা, নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি এবং প্রার্থীদের মনোবল দুর্বল করার উদ্দেশ্যে রুবেল আহমেদ তার সহযোগী, সহায়তাকারী ও অর্থায়নকারীদের পরামর্শে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে। ঘটনার পরপরই রুবেল আত্মগোপনে চলে যান। তিনি এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও উল্লেখ করা হয়। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে বলা হয়।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অপারেশন শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং পরে ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

মামলাটি শুরুতে তদন্ত করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন। প্রধান আসামি ফয়সালসহ ৬ জন এখনও পলাতক।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কুকুর-কুমির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর

হাদি হত্যা: ফয়সাল করিমের আরেক সহযোগী গ্রেফতার, ৬ দিনের রিমান্ড

আপডেট সময় ১০:৫৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের সহযোগী রুবেল আহমেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার গভীর রাতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আটি নয়াবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে রুবেলকে আদালতে হাজির করে সিআইডি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবদুর কাদির ভূঁঞা তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মো. রুকনুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা, নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি এবং প্রার্থীদের মনোবল দুর্বল করার উদ্দেশ্যে রুবেল আহমেদ তার সহযোগী, সহায়তাকারী ও অর্থায়নকারীদের পরামর্শে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে। ঘটনার পরপরই রুবেল আত্মগোপনে চলে যান। তিনি এজাহারনামীয় আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও উল্লেখ করা হয়। মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে বলা হয়।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অপারেশন শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং পরে ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

মামলাটি শুরুতে তদন্ত করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন। প্রধান আসামি ফয়সালসহ ৬ জন এখনও পলাতক।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।