ঢাকা ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

চিকিৎসকের হাতে ফেসবুক, মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে চিকিৎসা না দিয়ে লাঞ্ছিত!

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা সেলুনা বেগমকে চিকিৎসা না দিয়ে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে।

রোববার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনার বিচার চেয়ে ওইদিন রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি ওই দম্পতি।

জানা গেছে, আমতলী অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার) মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা তার স্ত্রী কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. সেলুনা বেগমকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে রোববার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যায়। ওই সময়ে জরুরি বিভাগে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিল মিঠুন সরকার।

মিঠুন সরকার প্রধান শিক্ষক সেলুনা বেগমের পায়ের কাটা আঙুলের চিকিৎসা না দিয়ে জরুরি বিভাগে বসে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ফেসবুক চালাচ্ছিলেন। প্রায় আধাঘণ্টা ওই দম্পতি জরুরি বিভাগে বসে থাকেন এমন অভিযোগ তাদের।

একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকারের কাছে গিয়ে তার স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় মিঠুন সরকার।

এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায় মিঠুন সরকার ও তার সহযোগী দি একমি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি রিয়াজ উদ্দিন বিশ্বাস ওই দম্পতির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং মারধর করতে তেড়ে আসে। পরে চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় জরুরি বিভাগ থেকে তাড়িয়ে দেয়। লাঞ্ছিত হয়ে ওই দম্পতি জরুরি বিভাগ থেকে এসে বাইরে চিকিৎসা নেন।

এছাড়াও মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। তিনি উপজেলার গাজীপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে না গিয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে দায়িত্বপালন করছেন। এতে গাজীপুর এলাকার অর্ধলক্ষ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত বলে জানান এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শী কাঁঠালিয়া দাখিল মাদ্রাসার দফতরি জাহাঙ্গীর জানান, প্রধান শিক্ষক সেলুনা বেগমকে চিকিৎসা না দিয়ে মিঠুন সরকার তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফাকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, আমার স্ত্রী সেলুনা বেগমের পায়ের তিনটি কাটা আঙুলের চিকিৎসার করাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। দীর্ঘক্ষণ আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে মোবাইল ফোনে ফেসবুক দেখছিল মিঠুন সরকার। আমি গিয়ে তাকে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ করলেই তিনি ক্ষেপে যান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

তিনি বলেন, আমি এর প্রতিবাদ করলেই তিনি ও তার সহযোগীরা আমার দিকে তেড়ে আসেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে জরুরি বিভাগ থেকে আমাদের তাড়িয়ে দেয়। আমি মিঠুন সরকারের এমন আচরণের বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারীর কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকার চিকিৎসা না করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কোনো মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে লাঞ্ছিত করিনি। উল্টো তিনি আমাকে গালমন্দ করেছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, আমার কাছে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকালে মিঠুন সরকারকে ডেকে এনে শাসিয়ে দিয়েছি যেন পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চিকিৎসকের হাতে ফেসবুক, মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে চিকিৎসা না দিয়ে লাঞ্ছিত!

আপডেট সময় ১১:২৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার গোলাম মোস্তফা ও তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা সেলুনা বেগমকে চিকিৎসা না দিয়ে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে।

রোববার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনার বিচার চেয়ে ওইদিন রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি ওই দম্পতি।

জানা গেছে, আমতলী অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক (সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার) মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা তার স্ত্রী কাউনিয়া ইব্রাহিম একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. সেলুনা বেগমকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে রোববার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যায়। ওই সময়ে জরুরি বিভাগে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিল মিঠুন সরকার।

মিঠুন সরকার প্রধান শিক্ষক সেলুনা বেগমের পায়ের কাটা আঙুলের চিকিৎসা না দিয়ে জরুরি বিভাগে বসে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ফেসবুক চালাচ্ছিলেন। প্রায় আধাঘণ্টা ওই দম্পতি জরুরি বিভাগে বসে থাকেন এমন অভিযোগ তাদের।

একপর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকারের কাছে গিয়ে তার স্ত্রীকে চিকিৎসা করানোর কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় মিঠুন সরকার।

এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায় মিঠুন সরকার ও তার সহযোগী দি একমি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি রিয়াজ উদ্দিন বিশ্বাস ওই দম্পতির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং মারধর করতে তেড়ে আসে। পরে চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় জরুরি বিভাগ থেকে তাড়িয়ে দেয়। লাঞ্ছিত হয়ে ওই দম্পতি জরুরি বিভাগ থেকে এসে বাইরে চিকিৎসা নেন।

এছাড়াও মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। তিনি উপজেলার গাজীপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত। ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে না গিয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে দায়িত্বপালন করছেন। এতে গাজীপুর এলাকার অর্ধলক্ষ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত বলে জানান এলাকাবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শী কাঁঠালিয়া দাখিল মাদ্রাসার দফতরি জাহাঙ্গীর জানান, প্রধান শিক্ষক সেলুনা বেগমকে চিকিৎসা না দিয়ে মিঠুন সরকার তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফাকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, আমার স্ত্রী সেলুনা বেগমের পায়ের তিনটি কাটা আঙুলের চিকিৎসার করাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। দীর্ঘক্ষণ আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে মোবাইল ফোনে ফেসবুক দেখছিল মিঠুন সরকার। আমি গিয়ে তাকে চিকিৎসা করানোর অনুরোধ করলেই তিনি ক্ষেপে যান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

তিনি বলেন, আমি এর প্রতিবাদ করলেই তিনি ও তার সহযোগীরা আমার দিকে তেড়ে আসেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, আমার স্ত্রীকে চিকিৎসা না দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে জরুরি বিভাগ থেকে আমাদের তাড়িয়ে দেয়। আমি মিঠুন সরকারের এমন আচরণের বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারীর কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মিঠুন সরকার চিকিৎসা না করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কোনো মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে লাঞ্ছিত করিনি। উল্টো তিনি আমাকে গালমন্দ করেছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য প্রশাসক শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, আমার কাছে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেছেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকালে মিঠুন সরকারকে ডেকে এনে শাসিয়ে দিয়েছি যেন পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে।