আকাশ আইসিটি ডেস্ক:
ডেটা চুরি করতে দেশের বাইরে থেকে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ চেষ্টা চালানো হয় তা অচিন্তনীয়।
আর এ অবস্থার মধ্যেও দেশে এখনও এ ডেটা বা তথ্য নিরাপত্তায় বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন এবং নীতিমালা করা যায়নি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের একটি হোটেলে টেলিকম বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
টিআরএনবি সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজলের সঞ্চালনায় ‘প্রাইভেসি অ্যান্ড ডেটা সিকিউরিটিবিষয়ক এ গোলটেবিল আলোচনায় বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকসহ এটুআই, মোবাইল ফোন অপারেটর ও হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের প্রতিনিধি এবং খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, দেশের বাইরে থেকে ডেটা চুরির জন্য যে পরিমাণ চেষ্টা করা হয় তা চিন্তাও করা যায় না। শুধু ডেটা চুরির করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ৪ হাজার ৬০০ বার একদিনে হামলা হয়েছে। এমনভাবে সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠানে ডেটা আছে সেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলোর প্রত্যেকটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।
মন্ত্রী বলেন, যারা আজ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটির বিরোধিতা করছেন তারাই এক সময় এসে বলবেন, কেন এত দুর্বল আইন আমরা তখন করেছিলাম। কারণ তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল তার সবটা আমরা নিতে পারিনি। সামনের সংসদ হয়তো সেই কাজটি করবে।
‘ডিজিটাল দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ব্যক্তির গোপনীয়তা ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ডিজিটাল মাধ্যমে কারও সম্মানহানি না হওয়া। এখন বড় শপের ট্রায়াল রুমে ক্যামেরা বসানো, বেডরুমে চুরি করে ক্যামেরা লাগানো- এগুলো তো মেনে নেয়া যায় না।’ -বলছিলেন মন্ত্রী।
বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফা কামাল বলেন, বিটিআরসি শিগগিরই সব সংস্থা-কোম্পানি-ব্যাংক-হাসপাতালকে নিয়ে বসবে যে কীভাবে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা করা যায়।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, এখন দুই কোটিরও বেশি স্মার্টফোন বাজারে ব্যবহার হচ্ছে। শুধু তার পরিপ্রেক্ষিতেই কত ডেটা জেনারেট হচ্ছে প্রতিদিন।
কয়েক বছর পর যখন সাত-আট কোটি স্মার্টফোন ব্যবহার হবে, তখন এত বেশি ডেটা জেনারেট হবে যে তা আর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, যদি এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হয়।
আলোচনায় গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত ও বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান ডেটা সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। অপারেটর-সরকার এতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে অভিমত দেন তারা।
রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম বলেন, অনেক দেশেই ডেটা প্রাইভেসি অ্যাক্ট নেই। তবে যেখানে এমন আইন নেই সেখানে তারা অন্য কোনো আইনের আওতায় গ্রাহকের নিরাপত্তা দিয়ে আসছে; কিন্তু বাংলাদেশে এ বিষয়ে কোথাও কিছু নেই। সামনের দিনে আইওটি সেবা আসবে। এ সেবা দিতে হলে ডেটা প্রসেস করার ক্ষমতা অপারেটরদের থাকতে হবে।
গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহাব উদ্দিন, এটুআই প্রকল্পের হেড অব টেকনোলজি আরফে এলাহী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহান আহমেদ।
আলোচনার প্রথমেই দুটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে এবং ব্যারিস্টার আশরাফুল হাদী।
এতে জানানো হয়, ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি ইনডেক্স অনুয়ায়ী বিশ্বের ১১১টি দেশের মধ্যে সাইবার জগতের নিরাপত্তা ক্রমে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৭। টেকশহর। -আইটি ডেস্ক
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























