অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দোয়াইয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সুরেন বিকাশ চাকমা (৩৫) ওরফে ডাক্তার নামে জেএসএস সংস্কারপন্থী দলের (এমএন লারমা) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে এ জেলায় দুই দিনের ব্যবধানে সংস্কারপন্থী দলের দুই সদস্যকে হত্যা করা হলো।
রবিবার সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে রুপকারী ইউনিয়নে মিলনপুর দোয়াইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুরেন বিকাশ দোয়াইয়া গ্রামে লাল বাত্যা চাকমার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় ১১ জনের একটি সশস্ত্র দল দোয়াইয়া গ্রামে গিয়ে ঘর থেকে সুরেনকে ধরে কয়েক গজ দূরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
বাঘাইছড়ি থানার ওসি আমির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দোয়াইয়াতে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে শুনেছি। এলাকাটি দুর্গম ও বাঘাইছড়ি বন্যার পানি না কমায় ঘটনাস্থলে যেতে বিলম্ব হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।
জেএসএস এমএন লারমা দলের পক্ষ এ ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে। তবে ইউপিডিএফ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গতকাল শনিবার (১৬ জুন) খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার দুর্গম পাইয়ংপাড়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বিজয় ত্রিপুরা (৩৫) নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস এমএন লারমা) এক সদস্য নিহত হন।
তার আগের দিন ১৫ জুন রাঙামাটির লংগদু উপজেলার দোজর পাড়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে রঞ্জন চাকমা (৫৫) নামে সংস্কারপন্থী জেএসএস (এমএন লারমা) দলের এক সদস্য মারা গেছেন।
এ নিয়ে তিনদিনে দুই জেলায় তিন জন সংস্কারপন্থী খুন হলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে বেশ কয়েক মাস ধরেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে। জানা গেছে, চারটি আঞ্চলিক দলের চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, শান্তিচুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা পার্বত্য তিন জেলায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
গত ৩ মে বৃহস্পতিবার রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন। উপজেলা চেয়রম্যান শক্তিমান চাকমা শেষকৃত্যে যোগ দিতে গিয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (গণতান্ত্রিক) গ্রুপের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ পাঁচজন নিহত হন।
এ ঘটনায় পর থেকেই পাহাড়ে নতুন করে অশান্তির বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























