অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী গরু হাটের কাচাবাজার, কাপড়ের বাজারসহ অধিকাংশ বাজারই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বামন্দীর শ্রমিকলীগের পরিচয় দানকারী হবিবুর রহমান হবির। কিছু অংশ রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দখলে।
যারা নিজের জমিতে সাইকেল স্ট্যান্ড বসিয়ে কিছু টাকা আয় করেন। ফলে প্রায় কয়েকটি পরিবার ভালো চলছে। কিন্তু হবিবুর রহমান হবি এটা মানতে নারাজ। তারা গত ১৮ মে হাটের দিনে পুরো হাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত কয়েকজনকে সাথে নিয়ে দফায় দফায় সাইকেল স্ট্যান্ডে হামলা চালায়। এ ঘটনায় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাইকেল স্ট্যান্ডের দায়িত্বে থাকা ফিরোজরা।
প্রতিরোধের মুখে পাল্টা হামলায় আহত হন হবিসহ এলাকার বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এমন অভিযোগ করেছেন মটমুড়া ইউনিয়নের স্থানীয় ছাতিয়ান ইউপি সদস্য লিটন হোসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাতিয়ান গ্রামের শতাধিক পরিবারে পুরুষ শূন্য। মেয়েরা রয়েছেন হতাশায়। পুরুষেরা দিনে কেউ কেউ বাড়িতে আসলেও পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে সন্ধ্যার আগেই আশ্রয় নেন অন্যত্র।
এলাকাবাসীদের দাবি, যদি এভাবে চলতে থাকে এবং পুরুষরা এলাকায় ফিরতে না পারে- তবে ওই সব পরিবারে বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে। তাই আইন শৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তাদের বাড়িতে ফিরে আসার ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
ছাতিয়ান গ্রামের মীর কাশেম ওরফে রতন জানান, তার নামে কোন মামলা নেই তারপরেও হবি গ্রুপের লোকজন তাকে তাড়া করে। প্রাণ বাঁচাতে অন্যত্র আশ্রয় নেন। তাছাড়া পুলিশের ভয় তো রয়েছেই।
ছাতিয়ান গ্রামের ইউপি সদস্য লিটন জানান, ঘটনার সময় উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। অথচ তার নামেও মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনিও এলাকাছাড়া।
তিনি আরো জানান, হাটের সমস্যাটা হবি এ বামন্দীহাটের সবটুকু দখল নিতে চাচ্ছে। কিন্তু যাদের নিজের জমিতে সাইকেল স্ট্যান্ড দিয়ে রেখেছেন ও যারা দীর্ঘদিন ধরে সবার সম্মতিতে নছিমন স্ট্যান্ড চালিয়ে আসছেন তাদের টাও দখল নিতে চাচ্ছে।
ছাতিয়ান গ্রামের মুক্তা খাতুন ও রহিমা খাতুন নামে দুই গৃহবধূ জানান, আমরা চরম অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছি। আবার আমাদের পরিবারের পুরুষদের নামে মামলাও নেই। তারপরও কেন যে এলাকার সন্ত্রাসী ও মাস্তান এবং পুলিশের লোকজন পরিচয়ে রাতে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করছে তা বুঝতে পারছেন না কেউ।
মুক্তা খাতুন আরো জানান, রাতে কয়েকজন এসে আমাদের বাড়ি থেকে ছাগল নিয়ে চলে যাচ্ছিল। পরে গ্রামের সব মহিলারা একজোট হয়ে সামনে আসলে পরে ছাগল না নিয়ে চলে যায়।
হামলার ব্যাপারে হবিবর রহমানের ছেলে স্বজল জানান, তারা কোন হামলার সাথে জড়িত নন। পুলিশ অভিযান চালাতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে অনেকেই ষড়যন্ত্র করে অপবাদ দিতে পারে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গাংনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান, যেহেতু সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সেহেতু আসামি ধরতে পুলিশ অভিযান চালাবে। তবে রাতে সাদা পোশাকে কোন পুলিশি অভিযান চলে না। আবার ক্যাডার মাস্তানদের দৌরাত্বের বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
তিনি আরো জানান, বাদী পক্ষের কোন লোক যদি আসামি পরিবার বা এলাকার কোন নিরীহ লোকজনকে হয়রানি করে তা বরদাশত করা হবে না। প্রসঙ্গত, বামন্দি পশু হাটের সাইকেল স্ট্যান্ড দখলে নেয়ার জন্য হবি বাহিনী হামলা চালায়। পাল্টা হামলা চালায় ফিরোজের লোকজন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























