অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
অবশেষে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ শ্রমিক লীগ নেতা কাউসর আহমেদ পলাশের অবৈধ দখল থেকে বুড়িগঙ্গার তীর ও সরকারি সম্পদ উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু বিআইডব্লিউটিএ।
মঙ্গলবার সকাল থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ও আনসারের সহযোগিতায় পাগলার তালতলা থেকে এ অভিযান শুরু হয়েছে। চলবে বিকাল পর্যন্ত।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের জানান, বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদীবন্দরের জিডির পরিপ্রেক্ষিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া, অর্থাৎ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে চলা এ অভিযান আলীগঞ্জ পর্যন্ত চলবে।
বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফউদ্দিন জানান, দখলদাররা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
কাউসার আহমেদ পলাশ শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি ডাবল মার্ডারসহ ৪টি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া ফতুল্লা ও সদর মডেল থানায় চাঁদাবাজি, লুট ও মারধরসহ ২১টি মামলা রয়েছে। প্রত্যেকটি মামলায় পলাশ চার্জশিটভুক্ত আসামি।
পলাশের বিরুদ্ধে ৩ এপ্রিল তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশ করা হয়। ওই সংবাদের পর বিআইডব্লিউটিএ বুড়িগঙ্গার তীর পরিদর্শন করে পলাশের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করে।
জিডিতে ফতুল্লার পোস্ট অফিস এলাকা থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত পলাশ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে বুড়িগঙ্গার তীর দখল করে ওয়াকওয়ে ভেঙে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে কয়েক বছর আগে বুড়িগঙ্গা নদীর ফতুল্লার পোস্ট অফিস থেকে আলীগঞ্জ পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার এলাকায় কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা প্রশাসন এবং বিআইডব্লিউটিএ ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সীমানা পিলার স্থাপন করে।
হাইকোর্টের নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কাই করেনি প্রভাবশালী মহল। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওয়াকওয়ে ভেঙে ফেলা হয়। আলীগঞ্জে টিসিবির ভবনসংলগ্ন এলাকা থেকে পিডব্লিউডি খেলার মাঠ পর্যন্ত এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন কাউসার আহমেদ পলাশ। এ এলাকাতেই মূলত ওয়াকওয়ের ত্রাহিদশা। আলীগঞ্জ মাদ্রাসাসংলগ্ন ঘাট থেকে কয়েকশ ফুট ওয়াকওয়ে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সেখানে এখন ওয়াকওয়ের চিহ্ন বলতে কিছুই নেই। অনেক স্থানেই ওয়াকওয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
আলীগঞ্জ মাদ্রাসাঘাটে নদীর তীর দখল করে বসানো হয়েছে দুটি বিশালাকারের ক্রেন। ২-৩টি এক্সাভেটরও (ভেকু) রয়েছে। অবাধে চলছে বালু, কয়লার লোড-আনলোডিং কার্যক্রম। স্তূপ করে রাখা হয়েছে বালু ও কয়লা। স্থাপন করা হয়েছে একাধিক বাঁশের জেটি। এসব নিয়ন্ত্রণ করেন কাউসার আহমেদ পলাশ।
এ ছাড়া আলীগঞ্জ পিডব্লিউডি মাঠের শেষ প্রান্তে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অসংখ্য কাঠের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক আরিফউদ্দিন বলেন, ফতুল্লা থানায় আমার দফতর থেকে গত ৩ মে পলাশ ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে একটি জিডি করেছি, যার জিডি নং-১২৪, তারিখ : ০৩-০৫-২০১৮ইং।
আমরা থানাকে অনুরোধ করেছি আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। যেহেতু সরকারি সম্পত্তি দখল ও ধ্বংস করে এসব কিছু করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী নদীর পাড়ে কোনো অবৈধভাবে দখল করা যাবে না। এগুলো সরাসরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করার শামিল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























