ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

শিশুরা যেন ধর্মীয় উগ্রবাদ না শিখে: রাষ্ট্রপতি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিশুরা যেন কুসংস্কার ও ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে মুক্ত থাকতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভেতরকার সম্ভাবনা বিকাশে সহায়তা করার কথাও বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০১৮ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শিশুরা যাতে কুসংস্কার ও ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে মুক্ত থাকতে পারে তার জন্য তাদের (শিশুদের) শিক্ষা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি এবং তাদের বেশি করে বই পড়া, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্পকলা ও সাহিত্য সম্পর্কে জানা এবং অন্য পাঠ্য বহির্ভূত কার্যক্রম বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিশুদের পড়াশোনা অথবা অন্য কোনো বিষয়ে চাপ সৃষ্টি না করে বরং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে তাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘এই অশুভ ও অসম প্রতিযোগিতা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।’

শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজে অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘তাদের বোঝা মনে করা যাবে না এবং সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার তাদের সহায়তা করতে হবে- সকল পর্যায়ে তাদের মানসিক বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।’

তিনি তাদের (শারীরিক প্রতিবন্ধীদের) সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের মূল্যবান মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতির জনক শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের অংশ হিসেবে জাতীয় শিশু আইন-১৯৭৪ প্রণয়ন করেছিলেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি তাদের নিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন।’ পরে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিষয়ে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও পদক বিতরণ করেন।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ক্রীড়া, সৃষ্টিশীল নৃত্য, সঙ্গীত, অভিনয়, হামদ, নাত, কবিতা পাঠ, কিরাত, ছড়া গান, গল্পবলা, চিত্রাংকন ও নৃত্যসহ ২৮টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, এই মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান ও উপন্যাসিক সেলিনা হোসেন এবং পরিচালক আনজির লিটন বক্তৃতা করেন।

এতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেবেকা মোমিন এমপি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে হাসপাতালে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছখ্যাত বিজয়

শিশুরা যেন ধর্মীয় উগ্রবাদ না শিখে: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০৯:৩০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শিশুরা যেন কুসংস্কার ও ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে মুক্ত থাকতে পারে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভেতরকার সম্ভাবনা বিকাশে সহায়তা করার কথাও বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০১৮ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শিশুরা যাতে কুসংস্কার ও ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে মুক্ত থাকতে পারে তার জন্য তাদের (শিশুদের) শিক্ষা পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি এবং তাদের বেশি করে বই পড়া, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিল্পকলা ও সাহিত্য সম্পর্কে জানা এবং অন্য পাঠ্য বহির্ভূত কার্যক্রম বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শিশুদের পড়াশোনা অথবা অন্য কোনো বিষয়ে চাপ সৃষ্টি না করে বরং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে তাদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘এই অশুভ ও অসম প্রতিযোগিতা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে।’

শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের সমাজে অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘তাদের বোঝা মনে করা যাবে না এবং সমাজের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার তাদের সহায়তা করতে হবে- সকল পর্যায়ে তাদের মানসিক বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।’

তিনি তাদের (শারীরিক প্রতিবন্ধীদের) সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাদের মূল্যবান মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন অনুযায়ী বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতির জনক শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের অংশ হিসেবে জাতীয় শিশু আইন-১৯৭৪ প্রণয়ন করেছিলেন।

আবদুল হামিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি তাদের নিয়ে সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন।’ পরে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন বিষয়ে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও পদক বিতরণ করেন।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ক্রীড়া, সৃষ্টিশীল নৃত্য, সঙ্গীত, অভিনয়, হামদ, নাত, কবিতা পাঠ, কিরাত, ছড়া গান, গল্পবলা, চিত্রাংকন ও নৃত্যসহ ২৮টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, এই মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান ও উপন্যাসিক সেলিনা হোসেন এবং পরিচালক আনজির লিটন বক্তৃতা করেন।

এতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেবেকা মোমিন এমপি।