ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী আমরা ভালো হয়ে গেলে দেশও ভালো হয়ে যাবে: শফিকুর রহমান ২৫ এপ্রিল ঢাকায় সমাবেশের ডাক দিল জামায়াত হান্নান মাসউদ, আপনি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন নাকি: স্পিকার ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না: ছাত্রদল সম্পাদক নাছির ডিআইজিসহ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে তনু হত্যা মামলা: ১০ বছর পর সাবেক সেনাসদস্য গ্রেফতার, ৩ দিনের রিমান্ডে কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই: এনবিআর চেয়ারম্যান গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

পা দিয়ে লিখেই সুমনের এসএসসি জয়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পা দিয়ে লিখেই এসএসসি পাস করল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. ওমর ফারুক সুমন। বগুড়ার শেরপুর ডিজে হাইস্কুল থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৬১ পেয়েছে এই শিক্ষার্থী।

অন্য আট-দশজনের মতো চলাফেরা কথাবার্তা বলতে পারলেও জন্মগতভাবেই দুটো হাত নেই তার। এরপরও মনের জোরের কমতি নেই প্রতিবন্ধী ওমর ফারুক সুমনের।

তাই তো এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে খাতায় উত্তর লিখেছে পা দিয়ে। এমনকি পরীক্ষায় পাসও করেছে জিপিএ-৩.৬১ গ্রেড নিয়ে। তার স্বপ্ন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারি কর্মকর্তা হওয়া।

পড়াশোনার দৌড়ে অন্যদের তুলনায় সে কোনো অংশেই একেবারে কম না হলেও এই স্বপ্নজয়ে বড় বাঁধা দারিদ্র্যতা।

মঙ্গলবার শেরপুর পৌরশহরের উত্তর সাহাপাড়ার ওমর ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অভাবের সংসারে যে যার মতো ব্যস্ত। তার বাবা মজিবর রহমান পেশায় একজন ডেকোরেটর শ্রমিক। মা ফাতেমা বেগম গৃহিণী। মা-বাবা, দুই ভাই ও দুই বোন নিয়ে তাদের সংসার। এর মধ্যে ওমর ফারুক সুমন সবার ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। আরেক ভাই ছোটখাটো ব্যবসা করে। মোটামুটি বাবার সামান্য আয়ে চলে সংসার ও সুমনের লেখাপড়া।

ওমর ফারুক সুমন জানান, পরীক্ষায় পাসের খবর জানার পর খুবই ভালো লেগেছে। আনন্দে হাসব না, কাঁদব বুঝতে পারছিলাম না। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ভীষণ আগ্রহী।

অভাবের সংসার হলেও মা-বাবা তাকে কখনও লেখাপড়া করা থেকে বিরত থাকতে বলেননি। সাধ্যের মধ্যে থেকেই যতটুকু পারেন তারা তার পেছনে ব্যয় করেন। আমি কলেজে ভর্তি হব, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করব। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে বাবা-মার দুঃখকষ্ট দূর করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অদম্য শিক্ষার্থী ওমর ফারুক সুমন।

সুমনের মা ফাতেমা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করাতে হচ্ছে। পড়াশোনার প্রতি সুমনেরও আগ্রহ রয়েছে। সে শেরপুর পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪ দশমিক ৩৫ গ্রেড পেয়ে পিইসি পাস করে।

এরপর শেরপুর ডিজে হাইস্কুলে ভর্তি হয়। সেখান থেকে ২০১৫ সালে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪ দশমিক ১৫ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ওই প্রতিষ্ঠানেই সুমন পড়াশোনা করছে। হাইস্কুলে তার কাছ থেকে অর্ধেক বেতন নেয়া হতো।

শেরপুর ডিজে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আখতার উদ্দিন বিপ্লব বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল ওমর ফারুক সুমন পাস করবে। অনেক কষ্ট করেই সে লেখাপড়া করছে। তার অদম্য ইচ্ছাই তাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অসাধু চক্র কৃত্রিম লাইনে বাজার অস্থির করছে:জ্বালানি মন্ত্রী

পা দিয়ে লিখেই সুমনের এসএসসি জয়

আপডেট সময় ০৯:১৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পা দিয়ে লিখেই এসএসসি পাস করল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মো. ওমর ফারুক সুমন। বগুড়ার শেরপুর ডিজে হাইস্কুল থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৬১ পেয়েছে এই শিক্ষার্থী।

অন্য আট-দশজনের মতো চলাফেরা কথাবার্তা বলতে পারলেও জন্মগতভাবেই দুটো হাত নেই তার। এরপরও মনের জোরের কমতি নেই প্রতিবন্ধী ওমর ফারুক সুমনের।

তাই তো এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে খাতায় উত্তর লিখেছে পা দিয়ে। এমনকি পরীক্ষায় পাসও করেছে জিপিএ-৩.৬১ গ্রেড নিয়ে। তার স্বপ্ন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারি কর্মকর্তা হওয়া।

পড়াশোনার দৌড়ে অন্যদের তুলনায় সে কোনো অংশেই একেবারে কম না হলেও এই স্বপ্নজয়ে বড় বাঁধা দারিদ্র্যতা।

মঙ্গলবার শেরপুর পৌরশহরের উত্তর সাহাপাড়ার ওমর ফারুকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অভাবের সংসারে যে যার মতো ব্যস্ত। তার বাবা মজিবর রহমান পেশায় একজন ডেকোরেটর শ্রমিক। মা ফাতেমা বেগম গৃহিণী। মা-বাবা, দুই ভাই ও দুই বোন নিয়ে তাদের সংসার। এর মধ্যে ওমর ফারুক সুমন সবার ছোট। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। আরেক ভাই ছোটখাটো ব্যবসা করে। মোটামুটি বাবার সামান্য আয়ে চলে সংসার ও সুমনের লেখাপড়া।

ওমর ফারুক সুমন জানান, পরীক্ষায় পাসের খবর জানার পর খুবই ভালো লেগেছে। আনন্দে হাসব না, কাঁদব বুঝতে পারছিলাম না। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ভীষণ আগ্রহী।

অভাবের সংসার হলেও মা-বাবা তাকে কখনও লেখাপড়া করা থেকে বিরত থাকতে বলেননি। সাধ্যের মধ্যে থেকেই যতটুকু পারেন তারা তার পেছনে ব্যয় করেন। আমি কলেজে ভর্তি হব, এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করব। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারি কর্মকর্তা হয়ে বাবা-মার দুঃখকষ্ট দূর করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অদম্য শিক্ষার্থী ওমর ফারুক সুমন।

সুমনের মা ফাতেমা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করাতে হচ্ছে। পড়াশোনার প্রতি সুমনেরও আগ্রহ রয়েছে। সে শেরপুর পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪ দশমিক ৩৫ গ্রেড পেয়ে পিইসি পাস করে।

এরপর শেরপুর ডিজে হাইস্কুলে ভর্তি হয়। সেখান থেকে ২০১৫ সালে জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪ দশমিক ১৫ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ওই প্রতিষ্ঠানেই সুমন পড়াশোনা করছে। হাইস্কুলে তার কাছ থেকে অর্ধেক বেতন নেয়া হতো।

শেরপুর ডিজে হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আখতার উদ্দিন বিপ্লব বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল ওমর ফারুক সুমন পাস করবে। অনেক কষ্ট করেই সে লেখাপড়া করছে। তার অদম্য ইচ্ছাই তাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।