ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

যুক্তরাষ্ট্রকে এড়িয়ে চীনের মহাপরিকল্পনায় পাকিস্তান

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হওয়ার পর চীন তাদের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়ে জোরেশোরেই এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে এর কিছু অংশ চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে চীন থেকে পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে মালামাল পরিবহন করা হয়েছে গোয়াডর বন্দর পর্যন্ত। সেখান থেকে চীনের পন্য গেছে আফ্রিকায এবং পশ্চিম এশিয়ায়।

সম্প্রতি দুই কোরিয়া সম্পর্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নমনীয় নীতিও গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পরাশক্তিধর দেশটি। ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে চীনের।

‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান ওয়ে’ অর্থ্যাৎ ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ এর পরিকল্পনা বহুদিন আগেই নিয়েছে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় চীন এ নীতিতে জোর দিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছে। পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধের হুমকির পর পাকিস্তানও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য চীনের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

চীন পাকিস্তানে পারমাণবিক চুল্লিও নির্মাণ করছে। দু’টির নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে এসেছে। আরও কয়েকটির কাজ চলছে।

তবে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এত দ্রুত বাণিজ্য যুদ্ধে জড়াবে না বলে বোঝা যাচ্ছে। এ জন্য এরই মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে চীন সফরে রয়েছে ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল। তারা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছে।

পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, আসলে পাকিস্তান চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করতে চাওয়ার কারণেই ট্রাম্প সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছে।

তাদের একজন বলেন, ‘চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে সুপার পাওয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন এবং পাকিস্তান আগে থেকেই কাছের বন্ধু। এখন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে চীনের সাথেই পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা উচিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন শিক্ষক জানান, ‘পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ হচ্ছে চীন। সেটা এখানকার টেলিভিশন, রেডিও বা গণমাধ্যমের খবর দেখলেই বোঝা যায়, দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন গভীর হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমেও সেটাই তুলে ধরা হচ্ছে। সাধারণ মানুষও চীনকে কাছের বন্ধু হিসেবে দেখছে।

এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডোরে আফগানিস্তানকেও সঙ্গে নিতে চায় চীন। পাঁচ হাজার সাতশো কোটি ডলারের এই উচ্চাকাঙ্খী পরিকল্পনা চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ মহাপরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে চীন এশিয়া, ইউরোপ হয়ে পুরো বিশ্বের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য পথ তৈরি করতে চায়।

অর্থনৈতিক করিডোরে আফগানিস্তানকে যু্ক্ত করতে চীন যে আগ্রহী তার প্রামাণ পাওয়া গেছে গত মঙ্গলবার বেইজিংয়ে তিন দেশের পররাষ্টমন্ত্রীদের বৈঠকে। সেখানে চীনের পররাষ্টমন্ত্রী ওয়াং ই জানান, ‘আফগানিস্তানের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জরুরী তাগিদ আছে। তারা এরকম উদ্যোগে যুক্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর আফগানিস্তান পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যায় কি না, যাতে সবাই উপকৃত হবে, সেটা দেখতে আমরা আগ্রহী। তবে এর জন্য তিন দেশের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সমঝোতা হওয়া দরকার।’

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপেক) চীনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাসী প্রকল্পগুলোর একটি। এর মধ্যে মহাসড়ক, রেলপথ, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, জ্বালানি, বন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ বহু প্রকল্প রয়েছে। এটি পাকিস্তানের অবকাঠামোর নাটকীয় উন্নয়ন ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চীনের এই মহাপরিকল্পনাকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল প্ল্যানের সঙ্গে তুলনা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বিধ্বস্ত দেশগুলোর পুর্নগঠনে যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনা নিয়েছিল। সূত্র: বিবিসি

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রকে এড়িয়ে চীনের মহাপরিকল্পনায় পাকিস্তান

আপডেট সময় ১১:২২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হওয়ার পর চীন তাদের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়ে জোরেশোরেই এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে এর কিছু অংশ চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে চীন থেকে পাকিস্তানের ভেতর দিয়ে মালামাল পরিবহন করা হয়েছে গোয়াডর বন্দর পর্যন্ত। সেখান থেকে চীনের পন্য গেছে আফ্রিকায এবং পশ্চিম এশিয়ায়।

সম্প্রতি দুই কোরিয়া সম্পর্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নমনীয় নীতিও গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পরাশক্তিধর দেশটি। ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে চীনের।

‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান ওয়ে’ অর্থ্যাৎ ‘এক অঞ্চল, এক পথ’ এর পরিকল্পনা বহুদিন আগেই নিয়েছে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় চীন এ নীতিতে জোর দিয়ে এগোনোর চেষ্টা করছে। পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধের হুমকির পর পাকিস্তানও অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য চীনের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

চীন পাকিস্তানে পারমাণবিক চুল্লিও নির্মাণ করছে। দু’টির নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ে এসেছে। আরও কয়েকটির কাজ চলছে।

তবে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এত দ্রুত বাণিজ্য যুদ্ধে জড়াবে না বলে বোঝা যাচ্ছে। এ জন্য এরই মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে চীন সফরে রয়েছে ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল। তারা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছে।

পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, আসলে পাকিস্তান চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করতে চাওয়ার কারণেই ট্রাম্প সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছে।

তাদের একজন বলেন, ‘চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে সুপার পাওয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীন এবং পাকিস্তান আগে থেকেই কাছের বন্ধু। এখন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে চীনের সাথেই পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা উচিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন শিক্ষক জানান, ‘পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ হচ্ছে চীন। সেটা এখানকার টেলিভিশন, রেডিও বা গণমাধ্যমের খবর দেখলেই বোঝা যায়, দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন গভীর হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমেও সেটাই তুলে ধরা হচ্ছে। সাধারণ মানুষও চীনকে কাছের বন্ধু হিসেবে দেখছে।

এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডোরে আফগানিস্তানকেও সঙ্গে নিতে চায় চীন। পাঁচ হাজার সাতশো কোটি ডলারের এই উচ্চাকাঙ্খী পরিকল্পনা চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ মহাপরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে চীন এশিয়া, ইউরোপ হয়ে পুরো বিশ্বের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য পথ তৈরি করতে চায়।

অর্থনৈতিক করিডোরে আফগানিস্তানকে যু্ক্ত করতে চীন যে আগ্রহী তার প্রামাণ পাওয়া গেছে গত মঙ্গলবার বেইজিংয়ে তিন দেশের পররাষ্টমন্ত্রীদের বৈঠকে। সেখানে চীনের পররাষ্টমন্ত্রী ওয়াং ই জানান, ‘আফগানিস্তানের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জরুরী তাগিদ আছে। তারা এরকম উদ্যোগে যুক্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর আফগানিস্তান পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা যায় কি না, যাতে সবাই উপকৃত হবে, সেটা দেখতে আমরা আগ্রহী। তবে এর জন্য তিন দেশের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সমঝোতা হওয়া দরকার।’

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপেক) চীনের সবচেয়ে উচ্চাভিলাসী প্রকল্পগুলোর একটি। এর মধ্যে মহাসড়ক, রেলপথ, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, জ্বালানি, বন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ বহু প্রকল্প রয়েছে। এটি পাকিস্তানের অবকাঠামোর নাটকীয় উন্নয়ন ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চীনের এই মহাপরিকল্পনাকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল প্ল্যানের সঙ্গে তুলনা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের বিধ্বস্ত দেশগুলোর পুর্নগঠনে যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনা নিয়েছিল। সূত্র: বিবিসি