ঢাকা ০৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

পাহাড়ে অস্থিরতার নেপথ্যে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চারটি আঞ্চলিক দলের চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, শান্তিচুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা পার্বত্য তিন জেলায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে আধিপত্য বিস্তারের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই দিনের ব্যবধানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাহাড়ে নতুন করে অশান্তির দেখা দিয়েছে।

হঠাৎ করে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সেনাবাহিনীর সহায়তায় এই অভিযান পরিচালিত হবে বলে ৫ মে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি। যদিও তিন পার্বত্য জেলায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়।

১৯৯৭ সালে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে (জেএসএস) শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে। এর এক বছরের মাথায় চুক্তির বিরোধিতা করে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে গঠিত হয় ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। মূলত তার পরেই পাহাড়ে আবারও ভ্রাতৃঘাতী রক্তের খেলা শুরু হয়।

এরপর ২০০৭ সালে জেএসএস থেকে বেরিয়ে রূপায়ণ দেওয়ান-সুধাসিন্ধু খীসাদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা)’। এতদিন ইউপিডিএফ ও জেএসএস (এম এন লারমা) দুই সংগঠন অনেকটা এক হয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল।

কিন্তু গতবছরে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে আত্মপ্রকাশ করে পাহাড়ের চতুর্থ আঞ্চলিক দল। মূলত এই চার সংগঠনের ক্ষমতার বিস্তার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়।

তবে চারটি আঞ্চলিক দলই একে আদর্শের সংঘাত বলে দাবি করে থাকে। যদিও তাদের এই দাবি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর লোকরোও বিশ্বাস করে না। ভাতৃঘাতী রক্তের খেলায় পাহাড়ি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর লোকজনও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠেছে।

গত এক দশকের পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ইউপিডিএফের আধিপত্য খাগড়াছড়িতে বেশি। বালাঘাটা ও নাইক্ষ্যংছড়ির কিছু এলাকা বাদে বান্দরবানে আধিপত্য বেশি জেএেএসের। তবে রাঙামাটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন সময় দখল-পাল্টা দখল খুনোখুনির ঘটনা লেগেই আছে।

২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা শুরু হলে রাঙামাটিতে একের পর এক উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার করে ইউপিডিএফ। জরুরি অবস্থা শেষ হতেই পাল্টা আঘাত হানে তাদের আধিপত্যে আঘাত হানে জেএসএস। তারা ইউপিডিএফের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করে নেয় আগের আধিপত্য।

শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে জন্ম নেওয়া ইউপিডিএফের সাংগঠনিক অবস্থা বর্তমানে নাজুক। গত কয়েক মাসে তাদের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মী খুন হয়েছে। তাছাড়া গ্রেপ্তার ও মামলার ভয়ে পলাতক থাকার কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রমও অনেকটা কমে আসছে।

তবে সম্প্রতি পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) যৌথতায়। দুই দল এখন অনেকটা এক হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। অন্যদিকে এতদিন জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও সম্প্রতি তারাও দ্বন্দ্ব মিটমাট করে অভিন্ন কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তিন পার্বত্য জেলার পরিস্থিতি হঠাৎ করেই জটিল হয়ে উঠছে। আঞ্চলিক দলগুলোর নেতৃত্বে চার ভাগ হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এ বিভক্তি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

পার্বত্য সূত্রগুলো বলছে, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় এসব গ্রুপ-উপ-গ্রুপের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে খুন এবং গুমের ঘটনা ঘটছে প্রায়। এসব নিয়ে পাহাড়ে নিয়মিত সংঘাতের খবর মিলছে। এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখার জন্য এসব গ্রুপ-উপ-গ্রুপের কাছে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। এ প্রেক্ষিতে পার্বত্য বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলো প্রশাসনের কাছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙামাটির একজন চাকমা ব্যবসায়ী জানান, পাহাড়ে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই চারটি সংগঠন গড়ে ওঠেছে। চাঁদাবাজির কারণেই সশস্ত্র অবস্থায় গোটা পার্বত্য এলাকা তারা চষে বেড়াচ্ছে তারা।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রাঙ্গামাটি জেলার একজন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নেতা বলেন, ‘পাহাড়ে যৌথ অভিযানের সময় এখনই। একজন জনপ্রতিনিধিকে দিনে দুপুরে হত্যা করা এবং তার শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাওয়ার সময় আবার খুনের ঘটনা পাহাড়ে অস্তিতিশীলতার লক্ষণ। এমন অবস্থা এখানে বসবাসরত পাহাড়ি বাঙালি কারোরই কাম্য নয়।’

স্থানীয় সূত্র মতে, রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকা হিসাবে পরিচিত বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, মারিশ্যা এবং লংগদু এলাকায় সন্ত্রাসীরা অনেকটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আছে। যখন-তখন তাদের সক্রিয়তায় বাসিন্দাদের মধ্যেও ভীতি কাজ করে। পাহাড়ের দুইটি আঞ্চলিক দলের নামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দারাও থাকছেন তটস্থ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক পাহাড়ি শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘পাহাড়ের অবস্থা অস্থিতিশীল থাকুক কারোরই কাম্য না। এখন নিজের বাড়িতে যেতেও ইচ্ছে করে না। তার ওপর পাহাড়ে বিবদমান দুই দল নানা উপদলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। অবস্থা এখন এমন যে প্রতিবেশীকেও অবিশ্বাস করা শুরু করেছে।’

রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির দৈনিক আকাশকে জানান, পাহাড়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। যৌথ অভিযানের কোনও সিদ্ধান্তের খবর রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জানা নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে একজন সেনা কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় কোনও বৈষম্য নেই। বরং ক্ষেত্রবিশেষে অধিকতর সুবিধা পাচ্ছেন তারা। তবুও গোটা একটা অঞ্চলে স্থানীয় দল উপদলের আধিপত্য বিরোধের জেরে খুন-চাঁদাবাজির ঘটনা একটা হুমকি। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে এমনি ষড়যন্ত্রের শেষ নেই।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

পাহাড়ে অস্থিরতার নেপথ্যে

আপডেট সময় ১০:৫৩:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চারটি আঞ্চলিক দলের চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার, শান্তিচুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা পার্বত্য তিন জেলায় অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে আধিপত্য বিস্তারের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই দিনের ব্যবধানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাহাড়ে নতুন করে অশান্তির দেখা দিয়েছে।

হঠাৎ করে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে শিগগিরই যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সেনাবাহিনীর সহায়তায় এই অভিযান পরিচালিত হবে বলে ৫ মে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি। যদিও তিন পার্বত্য জেলায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়।

১৯৯৭ সালে জনসংহতি সমিতির সঙ্গে (জেএসএস) শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে। এর এক বছরের মাথায় চুক্তির বিরোধিতা করে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে গঠিত হয় ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। মূলত তার পরেই পাহাড়ে আবারও ভ্রাতৃঘাতী রক্তের খেলা শুরু হয়।

এরপর ২০০৭ সালে জেএসএস থেকে বেরিয়ে রূপায়ণ দেওয়ান-সুধাসিন্ধু খীসাদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা)’। এতদিন ইউপিডিএফ ও জেএসএস (এম এন লারমা) দুই সংগঠন অনেকটা এক হয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল।

কিন্তু গতবছরে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নামে আত্মপ্রকাশ করে পাহাড়ের চতুর্থ আঞ্চলিক দল। মূলত এই চার সংগঠনের ক্ষমতার বিস্তার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়।

তবে চারটি আঞ্চলিক দলই একে আদর্শের সংঘাত বলে দাবি করে থাকে। যদিও তাদের এই দাবি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর লোকরোও বিশ্বাস করে না। ভাতৃঘাতী রক্তের খেলায় পাহাড়ি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর লোকজনও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে উঠেছে।

গত এক দশকের পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনীতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ইউপিডিএফের আধিপত্য খাগড়াছড়িতে বেশি। বালাঘাটা ও নাইক্ষ্যংছড়ির কিছু এলাকা বাদে বান্দরবানে আধিপত্য বেশি জেএেএসের। তবে রাঙামাটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন সময় দখল-পাল্টা দখল খুনোখুনির ঘটনা লেগেই আছে।

২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা শুরু হলে রাঙামাটিতে একের পর এক উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার করে ইউপিডিএফ। জরুরি অবস্থা শেষ হতেই পাল্টা আঘাত হানে তাদের আধিপত্যে আঘাত হানে জেএসএস। তারা ইউপিডিএফের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করে নেয় আগের আধিপত্য।

শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে জন্ম নেওয়া ইউপিডিএফের সাংগঠনিক অবস্থা বর্তমানে নাজুক। গত কয়েক মাসে তাদের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মী খুন হয়েছে। তাছাড়া গ্রেপ্তার ও মামলার ভয়ে পলাতক থাকার কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রমও অনেকটা কমে আসছে।

তবে সম্প্রতি পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) যৌথতায়। দুই দল এখন অনেকটা এক হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। অন্যদিকে এতদিন জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও সম্প্রতি তারাও দ্বন্দ্ব মিটমাট করে অভিন্ন কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তিন পার্বত্য জেলার পরিস্থিতি হঠাৎ করেই জটিল হয়ে উঠছে। আঞ্চলিক দলগুলোর নেতৃত্বে চার ভাগ হলেও তৃণমূল পর্যায়ে এ বিভক্তি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

পার্বত্য সূত্রগুলো বলছে, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় এসব গ্রুপ-উপ-গ্রুপের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে খুন এবং গুমের ঘটনা ঘটছে প্রায়। এসব নিয়ে পাহাড়ে নিয়মিত সংঘাতের খবর মিলছে। এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখার জন্য এসব গ্রুপ-উপ-গ্রুপের কাছে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। এ প্রেক্ষিতে পার্বত্য বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলো প্রশাসনের কাছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক রাঙামাটির একজন চাকমা ব্যবসায়ী জানান, পাহাড়ে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই চারটি সংগঠন গড়ে ওঠেছে। চাঁদাবাজির কারণেই সশস্ত্র অবস্থায় গোটা পার্বত্য এলাকা তারা চষে বেড়াচ্ছে তারা।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রাঙ্গামাটি জেলার একজন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নেতা বলেন, ‘পাহাড়ে যৌথ অভিযানের সময় এখনই। একজন জনপ্রতিনিধিকে দিনে দুপুরে হত্যা করা এবং তার শেষকৃত্যে যোগ দিতে যাওয়ার সময় আবার খুনের ঘটনা পাহাড়ে অস্তিতিশীলতার লক্ষণ। এমন অবস্থা এখানে বসবাসরত পাহাড়ি বাঙালি কারোরই কাম্য নয়।’

স্থানীয় সূত্র মতে, রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকা হিসাবে পরিচিত বাঘাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, মারিশ্যা এবং লংগদু এলাকায় সন্ত্রাসীরা অনেকটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আছে। যখন-তখন তাদের সক্রিয়তায় বাসিন্দাদের মধ্যেও ভীতি কাজ করে। পাহাড়ের দুইটি আঞ্চলিক দলের নামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় বাসিন্দারাও থাকছেন তটস্থ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক পাহাড়ি শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘পাহাড়ের অবস্থা অস্থিতিশীল থাকুক কারোরই কাম্য না। এখন নিজের বাড়িতে যেতেও ইচ্ছে করে না। তার ওপর পাহাড়ে বিবদমান দুই দল নানা উপদলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। অবস্থা এখন এমন যে প্রতিবেশীকেও অবিশ্বাস করা শুরু করেছে।’

রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির দৈনিক আকাশকে জানান, পাহাড়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। যৌথ অভিযানের কোনও সিদ্ধান্তের খবর রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জানা নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে একজন সেনা কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় কোনও বৈষম্য নেই। বরং ক্ষেত্রবিশেষে অধিকতর সুবিধা পাচ্ছেন তারা। তবুও গোটা একটা অঞ্চলে স্থানীয় দল উপদলের আধিপত্য বিরোধের জেরে খুন-চাঁদাবাজির ঘটনা একটা হুমকি। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে এমনি ষড়যন্ত্রের শেষ নেই।’