অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
একই পরিবারে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমর্থন দেখা যায় হরহামেশা। তাই বলে একই বাড়ি থেকে তিন দলের জন্য নির্বাচনে তিনজনের লড়াই করার ঘটনা এর আগে ঘটেনি। এ ঘটনাটি ঘটতে চলেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় এবার পঞ্চায়েত ভোটে।
আড়শার রুগড়ি গ্রামের মণ্ডলবাড়ির তিন বৌকে তিন দল মনোনয়ন দিয়েছে। বড় বৌ মঞ্জুকে প্রার্থী করেছে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল, আর মেজ বৌ আশাকে প্রার্থী করেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং ছোট বৌ জারুকে প্রার্থী করেছে সোনিয়া গান্ধীর দল কংগ্রেস।
বস্তুত তারা রাজনীতির সঙ্গে তেমন জড়িত নয়। তবুও ওই পঞ্চায়েতে নারী প্রার্থীই দিতে হবে এমন নিয়মের পর একই বাড়ি থেকে প্রার্থী দিয়েছে তিন দল।
যদিও ভোটের আঁচ পড়েনি তাদের ঘরোয়া জীবনযাত্রায়। পারিবারিক একটি বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে তিন জায়েই কয়েটা দিন ব্যস্ত ছিলেন।
মঞ্জুর স্বামী কৃষক। দুই হাইস্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়ের মা মঞ্জু বলেন, ‘সকলে আমাকে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার জন্য ধরায় তা ফেলতে পারিনি। তবে পরিবারের সম্মতি নিয়েই প্রার্থী হয়েছি।’
এক বাড়িতে থাকলেও মেজ জা আশা ও ছোট জা জারুর হেঁশেল আলাদা। বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, দুই জা সংসারের কাজ সামলাতে ব্যস্ত। দেখে বোঝার উপায় নেই, তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন।
মেজ বৌয়ের স্বামীও কৃষক। দুই ছেলে মেয়ের মা আশা বলেন, ‘বরাবাজারে আমার বাপের বাড়ি। দাদা আগে কংগ্রেস সমর্থক ছিলেন, এখন বিজেপি করেন। তাই আমাকে যখন বিজেপি থেকে প্রার্থী হতে বলল, ঠিক করলাম দাঁড়িয়েই পড়ি। এটা তো নতুন অভিজ্ঞতা।’
এরমাঝেই এসে পড়েন কংগ্রেসে প্রার্থী জারু। তিনি বলেন, ‘আমি কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়িয়েছি। শিগগির প্রচারে নামব।’
মজার বিষয় এ নিয়ে তাদের তিন বৌয়ের মধ্যে কোন বিবাদ নেই। তার প্রমাণ পাওয়া যায় আশার কথাতেই। ছোট বৌ জারুর ছোট্ট ছেলে রয়েছে। কংগ্রেসের হয়ে জারু প্রচারে গেলে তাকে সামলাবেন বিজেপির প্রার্থী হওয়া মেজ বৌ আশা। এ বিষয়ে আশা বলেন, ”জারু যখন প্রচারে যাবে, তখন ওর ছোট্ট ছেলেটাকে আমিই দেখব। ভোটের লডাইটা বাইরে। বাড়ির মধ্যে তাকে টেনে আনব কেন?’
তবে ভোটে জেতার ব্যাপারে আশাবাদী তিন বৌ ই। আর পরিবারের সদস্যরা কাকে ভোট দিবেন তা অব্যশ প্রকাশ করেননি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























