ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার জেরে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা, মায়ের প্রেমিক গ্রেফতার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আড়াইহাজারে পরকীয়ার জেরে শিশু হৃদয়কে (৯) পুড়িয়ে হত্যা মামলার মূল আসামি রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে গ্রেফতার করেছে আড়াইহাজার থানা পুলিশ। রোববার ভোর রাতে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলের মেরাকোনা গ্রাম থেকে তার এক আত্ময়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ওইদিন দুপুরে গ্রেফতারকৃত মোমেনকে আড়াইহাজার থানায় আনলে এলাকার শতশত লোক এ নৃশংস হত্যার অভিযুক্তকে দেখতে থানায় ভিড় করেন। এদিকে নিজ গর্ভের সন্তান হৃদয়কে (৯) পুড়িয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহত হৃদয়ের মা শেফালী আক্তার।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মেহেদি হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। এ সময় শেফালী আক্তার বলেন,পরকীয়া প্রেমিক মোমেনের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যই মোমেনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের দুই সন্তানকে হত্যার উদ্দেশে কাঁথায় মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

এতে বড় ছেলে হৃদয় (৯) সঙ্গে সঙ্গে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট ছেলে শিহাবকে (৭) তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় সে বেঁচে যায়। জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনয়িনের বাড়ৈপাড়া গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আনোয়ারের স্ত্রী শেফালীর সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা মোমেনের প্রায় দুই বৎসর ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল।

এক বৎসর পূর্বে বিষয়টি তার পরিবারের লোকজন জানতে পেরে শেফালীকে এ কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য সতর্ক করা হয়। এতে কাজ না হওয়ায় তার বাবাকে ডেকে এনে বিষয়টি জানান এবং তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত সাত মাস পূর্বে তার প্রবাসী স্বামী আনোয়ার দেশে এসে সন্তানদের কথা চিন্তা করে বাড়িতে ঠাঁই দেয় শেফালীকে। ১৫ দিন দেশে থেকে স্বামী প্রবাসে চলে গেলে আবারও তার প্রেমিক মোমেনের সঙ্গে চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতো শেফালী।

৫ মাস পূর্বে মোমেনের স্ত্রী একটি মোবাইলে তাদের দুইজনের আপত্তিকর কিছু ছবি ও ভিডিও দেখে আনোয়ারের বাবাকে দেখালে স্থানীয় মাতাব্বরদের মাধ্যমে শেফালীর বিচার করা হয়। এ সময় আপত্তিকর ছবিগুলো প্রবাসে আনোয়ারের কাছে পাঠালে আনোয়ার তালাকের কাগজ পাঠিয়ে দিলেও তার স্বামী দেশে না আসা পর্যন্ত এই বাড়ি ছেড়ে যাবে না বলে জানায় শেফালী।

এনিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ওই সময় থেকেই নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার প্রেমিক মোমেন। ঘটনার আগেরদিন দুজনের কুকর্ম শেফালী আক্তারের ছেলেরা দেখে ফেললে শেফালী আক্তার ও তার প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন শিশু হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

গত ১৩ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পাষণ্ড মা শেফালী বেগম ও তার প্রেমিক মোমেন ঘুমন্ত অবস্থায় দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষ্পাপ দুই সন্তানের দেহ।

আশপাশের লোকজন সন্তানদের চিৎকারে এগিয়ে আসে। কিন্তু এর মধ্যে অগ্নিদগ্ধ হৃদয় (৯) মধ্যে মারা যায়। প্রতিবেশীরা আরেক সন্তান শিহাবকে (৭) অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে তাকে শনিবার সকালে বাড়িতে আনা হয়।

নিহত হৃদয় বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র। এ ব্যাপারে নিহত হৃদয়ের দাদা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় শেফালী ও মোমেনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরকীয়ার জেরে সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা, মায়ের প্রেমিক গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৬:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আড়াইহাজারে পরকীয়ার জেরে শিশু হৃদয়কে (৯) পুড়িয়ে হত্যা মামলার মূল আসামি রাশেদুল ইসলাম মোমেনকে গ্রেফতার করেছে আড়াইহাজার থানা পুলিশ। রোববার ভোর রাতে ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলের মেরাকোনা গ্রাম থেকে তার এক আত্ময়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ওইদিন দুপুরে গ্রেফতারকৃত মোমেনকে আড়াইহাজার থানায় আনলে এলাকার শতশত লোক এ নৃশংস হত্যার অভিযুক্তকে দেখতে থানায় ভিড় করেন। এদিকে নিজ গর্ভের সন্তান হৃদয়কে (৯) পুড়িয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহত হৃদয়ের মা শেফালী আক্তার।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মেহেদি হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। এ সময় শেফালী আক্তার বলেন,পরকীয়া প্রেমিক মোমেনের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্যই মোমেনকে সঙ্গে নিয়ে নিজের দুই সন্তানকে হত্যার উদ্দেশে কাঁথায় মুড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

এতে বড় ছেলে হৃদয় (৯) সঙ্গে সঙ্গে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় ছোট ছেলে শিহাবকে (৭) তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় সে বেঁচে যায়। জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলার উচিৎপুরা ইউনয়িনের বাড়ৈপাড়া গ্রামের বাহরাইন প্রবাসী আনোয়ারের স্ত্রী শেফালীর সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা মোমেনের প্রায় দুই বৎসর ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল।

এক বৎসর পূর্বে বিষয়টি তার পরিবারের লোকজন জানতে পেরে শেফালীকে এ কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য সতর্ক করা হয়। এতে কাজ না হওয়ায় তার বাবাকে ডেকে এনে বিষয়টি জানান এবং তার পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত সাত মাস পূর্বে তার প্রবাসী স্বামী আনোয়ার দেশে এসে সন্তানদের কথা চিন্তা করে বাড়িতে ঠাঁই দেয় শেফালীকে। ১৫ দিন দেশে থেকে স্বামী প্রবাসে চলে গেলে আবারও তার প্রেমিক মোমেনের সঙ্গে চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতো শেফালী।

৫ মাস পূর্বে মোমেনের স্ত্রী একটি মোবাইলে তাদের দুইজনের আপত্তিকর কিছু ছবি ও ভিডিও দেখে আনোয়ারের বাবাকে দেখালে স্থানীয় মাতাব্বরদের মাধ্যমে শেফালীর বিচার করা হয়। এ সময় আপত্তিকর ছবিগুলো প্রবাসে আনোয়ারের কাছে পাঠালে আনোয়ার তালাকের কাগজ পাঠিয়ে দিলেও তার স্বামী দেশে না আসা পর্যন্ত এই বাড়ি ছেড়ে যাবে না বলে জানায় শেফালী।

এনিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ওই সময় থেকেই নিজ সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে শেফালী ও তার প্রেমিক মোমেন। ঘটনার আগেরদিন দুজনের কুকর্ম শেফালী আক্তারের ছেলেরা দেখে ফেললে শেফালী আক্তার ও তার প্রেমিক রাশেদুল ইসলাম মোমেন শিশু হৃদয় ও জিহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

গত ১৩ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে পাষণ্ড মা শেফালী বেগম ও তার প্রেমিক মোমেন ঘুমন্ত অবস্থায় দুই সন্তান হৃদয় ও শিহাবকে কাঁথায় পেঁচিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে ঝলসে যায় নিষ্পাপ দুই সন্তানের দেহ।

আশপাশের লোকজন সন্তানদের চিৎকারে এগিয়ে আসে। কিন্তু এর মধ্যে অগ্নিদগ্ধ হৃদয় (৯) মধ্যে মারা যায়। প্রতিবেশীরা আরেক সন্তান শিহাবকে (৭) অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে তাকে শনিবার সকালে বাড়িতে আনা হয়।

নিহত হৃদয় বাড়ৈইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র। এ ব্যাপারে নিহত হৃদয়ের দাদা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় শেফালী ও মোমেনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।