ঢাকা ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোনালদোর পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ইতিহাস কঙ্গোর জি৭ সম্মেলনে লেবাননে যুদ্ধবিরতির আহ্বান নেতাদের শিল্পকলায় সার্কাস ও যাত্রাপালা কর্মশালার সমাপ্তি: সুস্থ সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় পশ্চিমবঙ্গে ভোটের পর ৩৬ পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর বাসায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী স্পিকারের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার : মীর হেলাল চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু অপহরণ, বিছানায় মিলল ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের চিঠি

মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে মা’ও নিখোঁজ, মরদেহ মিলল গৃহশিক্ষিকার বাসায়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

নিখোঁজের ২১ দিন পর ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী মুক্তিরবাগ ডায়াবেটিস বাজার এলাকা থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। বৃহস্পতিবার রাতে বাজারের শামীম আহমেদের পাঁচ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ পেশায় একজন মুহুরি। তিনি জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। থানায় অভিযোগ করার পরও স্ত্রী সন্তানকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ একটি অপহরণ মামলা করা হয়। ওই মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।

তিনি জানান, তার মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তারের বাসায় গিয়ে পড়ত। মিম আক্তার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় শামীম আহমেদের মালিকানাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। মিম আক্তারের বাসায় ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মিম আক্তার প্রাইভেট পড়তে যায়। পড়া শেষ করে বাসায় না ফিরলে তার মা রোকেয়া রহমান তাকে খুঁজতে বের হয়। একই সময় রোকেয়া রহমানও নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে মা-মেয়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন এলাকায় খোজাখুজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শাহীন আহমেদ জানান, সন্ধান না পেয়ে ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার রাতে গৃহশিক্ষিকা মিমের বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটটি তল্লাশি চালায়। এ সময় খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ এবং বাথরুমের ছাদ থেকে শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. রনি চৌধুরী বলেন, ‘লোকমুখে খবর পেয়ে গৃহশিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। ঘরে খাটের নিচ থেকে মা রোকেয়ার ও বাথরুমের ছাদ থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এর আগে, মা-মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় ২৫ ডিসেম্বর রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এ বিষয়ে ওসি এম সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে মা’ও নিখোঁজ, মরদেহ মিলল গৃহশিক্ষিকার বাসায়

আপডেট সময় ০১:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক :

নিখোঁজের ২১ দিন পর ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দী মুক্তিরবাগ ডায়াবেটিস বাজার এলাকা থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমান (৩২)। বৃহস্পতিবার রাতে বাজারের শামীম আহমেদের পাঁচ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ পেশায় একজন মুহুরি। তিনি জানান, তার স্ত্রী ও সন্তান ২৬ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। থানায় অভিযোগ করার পরও স্ত্রী সন্তানকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ একটি অপহরণ মামলা করা হয়। ওই মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি।

তিনি জানান, তার মেয়ে জোবাইদা রহমান ফাতেমা গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তারের বাসায় গিয়ে পড়ত। মিম আক্তার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তিরবাগ এলাকায় শামীম আহমেদের মালিকানাধীন বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন। মিম আক্তারের বাসায় ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মিম আক্তার প্রাইভেট পড়তে যায়। পড়া শেষ করে বাসায় না ফিরলে তার মা রোকেয়া রহমান তাকে খুঁজতে বের হয়। একই সময় রোকেয়া রহমানও নিজ বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে মা-মেয়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন এলাকায় খোজাখুজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শাহীন আহমেদ জানান, সন্ধান না পেয়ে ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার রাতে গৃহশিক্ষিকা মিমের বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটটি তল্লাশি চালায়। এ সময় খাটের নিচ থেকে রোকেয়া রহমানের অর্ধগলিত মরদেহ এবং বাথরুমের ছাদ থেকে শিশু ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. রনি চৌধুরী বলেন, ‘লোকমুখে খবর পেয়ে গৃহশিক্ষিকা মিমের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। ঘরে খাটের নিচ থেকে মা রোকেয়ার ও বাথরুমের ছাদ থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এর আগে, মা-মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় ২৫ ডিসেম্বর রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এ বিষয়ে ওসি এম সাইফুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।