আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :
দীপক চাহারের করা বল এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে আছড়ে ফেলেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বল সীমানা ছোঁয়ার আগেই আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিলেন তিনি, আর তখনই উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ দলের ডাগআউট। ২০২২ সালে মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ১ উইকেটের নাটকীয় জয়ের সেই মুহূর্তটাই যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
তবে ওই সিরিজে শুধু একটি ম্যাচেই নয়, দ্বিতীয় ম্যাচেও চাপের মুখে দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়েছিলেন মিরাজ। ব্যাটে-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে সিরিজ জেতানোর পাশাপাশি সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতে নেন এই অলরাউন্ডার।
সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া বিপিএল নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে সেই ভারত-বধের স্মৃতিই টেনে আনেন ২৮ বছর বয়সী মিরাজ। তিনি বলেন, ভারতের বিপক্ষে জয়ই তাদের কাছে সবচেয়ে আনন্দের, কারণ সেই জয় তারা নিজেরাই এনে দেন।
সম্প্রতি বিসিবিতে খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিল শেষে পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সেই প্রসঙ্গে গতকাল বনানীর এক হোটেলে মিরাজ বলেন, অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন ক্রিকেটাররা সরকার থেকে টাকা পান। বাস্তবে তারা মাঠে খেলে উপার্জন করেন এবং আয়ের বড় অংশ কর হিসেবে সরকারকে দেন। তার ভাষায়, ক্রিকেটাররাই দেশের সর্বোচ্চ হারে আয়কর প্রদান করেন।
বিপিএল নিয়ে আলোচনার পর রাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পরও একই বিষয়ে কথা বলেন মিরাজ। তিনি বলেন, দেশে অনেক ব্যবসায়ী থাকলেও সবাই নিয়মিত সর্বোচ্চ কর দেন না। অথচ ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে টাকা দেওয়ার আগেই কর কেটে নেওয়া হয়, ফলে তারা বাধ্যতামূলকভাবেই সঠিকভাবে কর পরিশোধ করেন, যা ইতিবাচক দিক।
মিরাজ জানান, ক্রিকেটাররা সাধারণত ২৫ শতাংশ হারে কর দেন, যা সর্বোচ্চ করহার। যদিও কে কত শতাংশ কর দেন তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়, তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে বহুবার দেখেছেন।
এদিকে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ক্রিকেটারদের কারণেই বিসিবি আইসিসি থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব পায়। তিনি মিরাজের নিবেদন ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, কেউ যদি মিরাজের চেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তা সম্পূর্ণ ভুল হবে। ক্রিকেটাররাই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর তাদের কারণেই টিভি স্বত্ব ও মাঠ থেকে রাজস্ব আসে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বিসিবির বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ শিরোপা জিতুক বা না জিতুক, অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল আইসিসি থেকে ন্যূনতম একটি ফি পেয়ে থাকে। এ বিষয়ে নাজমুল সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, বোর্ড চাইলে খেলতে না পারার অজুহাতে ক্রিকেটারদের পেছনে খরচ হওয়া অর্থ ফেরত চাইতে পারে—কিন্তু তা করা হচ্ছে না।
যে নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে একসময় মিঠুন ও মিরাজরা ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেই নাজমুলের বিরুদ্ধেই এবার ব্যবস্থা নিয়েছে বিসিবি। বোর্ড তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলেছে। পাশাপাশি অর্থ কমিটির প্রধানসহ সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি এখনো বিসিবির পরিচালক হিসেবে বহাল আছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























