ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

মাদক ও দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে নামি স্কুলের ছাত্রীরা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মাদকের পাশাপাশি দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন কলকাতার নামিদামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তাদের বিপথগামী করতে কাজ করছে বিভিন্ন চক্র।

একটি চক্রের মূল হোতাসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করার পর এমন তথ্য পেয়েছে ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো-এনসিবি। বেশ কয়েক বছর ধরেই কলকাতার অভিজাত পার্টিগুলোতে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

সেখানে এলএসডি, এমডিএমএর মতো মাদকের বহুল ব্যবহারের কথাও শোনা যায়। তবে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়া চক্রটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা মাদক সরবরাহের পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ‘এসকর্ট সার্ভিস’ব্যবসাও করতেন।

গোয়েন্দারা জানান, তাদের জালে ধরা পড়েছেন দিব্যেন্দু রায় নামে এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ও সঙ্গী প্রশান্ত বাসনেট। গোয়েন্দাদের দাবি, দিব্যেন্দুই ছিলেন এই চক্রের প্রধান। আটকদের মধ্যে দুই তরুণীও রয়েছেন। তারা কলকাতার একটি নামি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সাবেক ছাত্রী।

বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতা শহরে এলএসডি, এমডিএমএর মতো পার্টি ড্রাগ আমদানি করতেন দিব্যেন্দু। আটকদের কাছ থেকে ১৯টি এলএসডি ব্লট ও আড়াই কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মূলত ধনী পরিবারের ছাত্রছাত্রীরাই এই মাদকের মূল ক্রেতা। গ্রেফতারের পর ওই চারজনকে মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়।

কলকাতার অভিজাত পার্টিতে মাদক পাচারের দায়ে ধরা পড়া কণিকাকে (নাম পরিবর্তিত) জেরা করে হতভম্ব হয়ে গেছেন গোয়েন্দারা।

কণিকার বয়স মাত্র ১৯ বছর। কিন্তু মাসে রোজগার কমপক্ষে তিন লাখ টাকা। কণিকাকে জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, অভিজাত পার্টিতে মাদকের সঙ্গে যৌন সম্পর্কও করতেন তিনি।

শুধু কলকাতার অভিজাত পার্টি সার্কেল নয়, কণিকার পসরা পৌঁছত দিল্লি, রাঁচি ও খড়গপুরেও। আর তিনি এ কাজ নিয়মিত করতেন।

ব্যবসায়ী, শীর্ষ পুলিশকর্তা থেকে শুরু করে মাঝারি মাপের অভিনেতারাও রয়েছেন কণিকার মক্কেলের তালিকায়। গত কয়েক মাসে কলকাতায় পার্টি ড্রাগ সরবরাহকারী তিনটি আলাদা গ্রুপকে গ্রেফতার করেছে এনসিবি।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দীর্ঘ দিন ধরে গোয়েন্দারা সন্দেহ করছিলেন, শহরের মাদক চক্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে ‘এসকর্ট সার্ভিস’-এর।

কণিকা ও তার এক বান্ধবী নাতাশাকে (নাম পরিবর্তিত) গ্রেফতার করে মাদক-এসকর্ট যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ট্যাংরায় বিবাহবিচ্ছিন্ন মাকে নিয়ে থাকেন কণিকা। একসময় কলকাতারই একটি নামি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন তিনি। সেখানেই আলাপ হয় নাতাশার সঙ্গে।

কাশ্মীরে জন্ম নেয়া নাতাশা বড় হয়েছেন বেলগাছিয়াতে। ছোটবেলায় তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বন্ধুদের হাত ধরে ধীরে ধীরে মাদকে জড়িয়ে পড়েন নাতাশা। তার বাবা-মা দুজনেই বিউটি পার্লারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দুজনের কাছ থেকেই তিনি টাকা পান।

তাই নাতাশার পকেটমানির অভাব নেই। এলএসডি, এমডিএমের মতো পার্টি ড্রাগ নিতে নিতে ধীরে ধীরে তিনি জড়িয়ে যান মাদক ব্যবসায়।

চক্রের হদিস পেতে নাতাশাকেই টার্গেট করেছিলেন গোয়েন্দারা। তাকে ধরেই সন্ধান মেলে কণিকার।

জেরায় নাতাশা জানান, পাঁচতারা হোটেল, আলিপুরের পার্টিতে এসকর্ট হিসেবে যাতায়াত ছিল তার। পরিচিত এই পার্টি সার্কিটেই পৌঁছে দিতেন মাদক। কয়েকটি ডেটিং সাইটের মাধ্যমে নতুন মক্কেলদের কাছেও যেতেন তিনি।

তিনি আরও জানান, এসকর্টের ব্যবসার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করতেন কণিকা। মাদক বিক্রির লাভের পাশাপাশি এসকর্ট হিসেবে প্রতি রাতে নাতাশার উপার্জন ছিল ২০ হাজার রুপি।

কণিকা-নাতাশাকে জেরা করে আরও একটি বিষয়ে নিশ্চিত হন গোয়েন্দারা। কলকাতার বিভিন্ন নামি স্কুল-কলেজের বর্তমান ও সাবেক কিছু ছাত্রছাত্রী রয়েছে এই মাদক ক্রেতাদের মধ্যে প্রথম সারিতে।

এনসিবির জোনাল ডিরেক্টর দিলীপ শ্রীবাস্তব বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়েছি। সেখানে আমরা কাউন্সেলিং করব। গ্রেফতার দুই তরুণীর কাছ থেকেই সন্ধান মেলে চক্রের মূল পাণ্ডা লেকটাউনের বাসিন্দা দিব্যেন্দু রায়ের।

তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী দিব্যেন্দু বেঙ্গালুরু থেকে এই মাদক আনতেন। এর পর তার সঙ্গী প্রশান্ত বাসনেট এবং বাকিদের মাধ্যমে পৌঁছে দিতেন বিভিন্ন পার্টিতে। ২০১৫ সালে বেঙ্গালুরু থাকাকালীন মাদক পাচার করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন দিব্যেন্দু।

গ্রেফতাদের সবারই একটি বিষয়ে মিল আছে। প্রত্যেকেরই বাবা-মা বিবাহবিচ্ছিন্ন। পারিবারিক এই কারণ কি এই তরুণ-তরুণীদের মাদক ও যৌনতার অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে কিনা তা উড়িয়ে দেননি গোয়েন্দারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

মাদক ও দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে নামি স্কুলের ছাত্রীরা

আপডেট সময় ০৩:০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

মাদকের পাশাপাশি দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন কলকাতার নামিদামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা। তাদের বিপথগামী করতে কাজ করছে বিভিন্ন চক্র।

একটি চক্রের মূল হোতাসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করার পর এমন তথ্য পেয়েছে ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো-এনসিবি। বেশ কয়েক বছর ধরেই কলকাতার অভিজাত পার্টিগুলোতে মাদক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

সেখানে এলএসডি, এমডিএমএর মতো মাদকের বহুল ব্যবহারের কথাও শোনা যায়। তবে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়া চক্রটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা মাদক সরবরাহের পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় ‘এসকর্ট সার্ভিস’ব্যবসাও করতেন।

গোয়েন্দারা জানান, তাদের জালে ধরা পড়েছেন দিব্যেন্দু রায় নামে এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ও সঙ্গী প্রশান্ত বাসনেট। গোয়েন্দাদের দাবি, দিব্যেন্দুই ছিলেন এই চক্রের প্রধান। আটকদের মধ্যে দুই তরুণীও রয়েছেন। তারা কলকাতার একটি নামি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সাবেক ছাত্রী।

বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতা শহরে এলএসডি, এমডিএমএর মতো পার্টি ড্রাগ আমদানি করতেন দিব্যেন্দু। আটকদের কাছ থেকে ১৯টি এলএসডি ব্লট ও আড়াই কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মূলত ধনী পরিবারের ছাত্রছাত্রীরাই এই মাদকের মূল ক্রেতা। গ্রেফতারের পর ওই চারজনকে মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়।

কলকাতার অভিজাত পার্টিতে মাদক পাচারের দায়ে ধরা পড়া কণিকাকে (নাম পরিবর্তিত) জেরা করে হতভম্ব হয়ে গেছেন গোয়েন্দারা।

কণিকার বয়স মাত্র ১৯ বছর। কিন্তু মাসে রোজগার কমপক্ষে তিন লাখ টাকা। কণিকাকে জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, অভিজাত পার্টিতে মাদকের সঙ্গে যৌন সম্পর্কও করতেন তিনি।

শুধু কলকাতার অভিজাত পার্টি সার্কেল নয়, কণিকার পসরা পৌঁছত দিল্লি, রাঁচি ও খড়গপুরেও। আর তিনি এ কাজ নিয়মিত করতেন।

ব্যবসায়ী, শীর্ষ পুলিশকর্তা থেকে শুরু করে মাঝারি মাপের অভিনেতারাও রয়েছেন কণিকার মক্কেলের তালিকায়। গত কয়েক মাসে কলকাতায় পার্টি ড্রাগ সরবরাহকারী তিনটি আলাদা গ্রুপকে গ্রেফতার করেছে এনসিবি।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দীর্ঘ দিন ধরে গোয়েন্দারা সন্দেহ করছিলেন, শহরের মাদক চক্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে ‘এসকর্ট সার্ভিস’-এর।

কণিকা ও তার এক বান্ধবী নাতাশাকে (নাম পরিবর্তিত) গ্রেফতার করে মাদক-এসকর্ট যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ট্যাংরায় বিবাহবিচ্ছিন্ন মাকে নিয়ে থাকেন কণিকা। একসময় কলকাতারই একটি নামি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন তিনি। সেখানেই আলাপ হয় নাতাশার সঙ্গে।

কাশ্মীরে জন্ম নেয়া নাতাশা বড় হয়েছেন বেলগাছিয়াতে। ছোটবেলায় তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বন্ধুদের হাত ধরে ধীরে ধীরে মাদকে জড়িয়ে পড়েন নাতাশা। তার বাবা-মা দুজনেই বিউটি পার্লারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দুজনের কাছ থেকেই তিনি টাকা পান।

তাই নাতাশার পকেটমানির অভাব নেই। এলএসডি, এমডিএমের মতো পার্টি ড্রাগ নিতে নিতে ধীরে ধীরে তিনি জড়িয়ে যান মাদক ব্যবসায়।

চক্রের হদিস পেতে নাতাশাকেই টার্গেট করেছিলেন গোয়েন্দারা। তাকে ধরেই সন্ধান মেলে কণিকার।

জেরায় নাতাশা জানান, পাঁচতারা হোটেল, আলিপুরের পার্টিতে এসকর্ট হিসেবে যাতায়াত ছিল তার। পরিচিত এই পার্টি সার্কিটেই পৌঁছে দিতেন মাদক। কয়েকটি ডেটিং সাইটের মাধ্যমে নতুন মক্কেলদের কাছেও যেতেন তিনি।

তিনি আরও জানান, এসকর্টের ব্যবসার পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করতেন কণিকা। মাদক বিক্রির লাভের পাশাপাশি এসকর্ট হিসেবে প্রতি রাতে নাতাশার উপার্জন ছিল ২০ হাজার রুপি।

কণিকা-নাতাশাকে জেরা করে আরও একটি বিষয়ে নিশ্চিত হন গোয়েন্দারা। কলকাতার বিভিন্ন নামি স্কুল-কলেজের বর্তমান ও সাবেক কিছু ছাত্রছাত্রী রয়েছে এই মাদক ক্রেতাদের মধ্যে প্রথম সারিতে।

এনসিবির জোনাল ডিরেক্টর দিলীপ শ্রীবাস্তব বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়েছি। সেখানে আমরা কাউন্সেলিং করব। গ্রেফতার দুই তরুণীর কাছ থেকেই সন্ধান মেলে চক্রের মূল পাণ্ডা লেকটাউনের বাসিন্দা দিব্যেন্দু রায়ের।

তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী দিব্যেন্দু বেঙ্গালুরু থেকে এই মাদক আনতেন। এর পর তার সঙ্গী প্রশান্ত বাসনেট এবং বাকিদের মাধ্যমে পৌঁছে দিতেন বিভিন্ন পার্টিতে। ২০১৫ সালে বেঙ্গালুরু থাকাকালীন মাদক পাচার করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন দিব্যেন্দু।

গ্রেফতাদের সবারই একটি বিষয়ে মিল আছে। প্রত্যেকেরই বাবা-মা বিবাহবিচ্ছিন্ন। পারিবারিক এই কারণ কি এই তরুণ-তরুণীদের মাদক ও যৌনতার অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে কিনা তা উড়িয়ে দেননি গোয়েন্দারা।